BREAKING NEWS

৭ কার্তিক  ১৪২৮  সোমবার ২৫ অক্টোবর ২০২১ 

READ IN APP

Advertisement

লক্ষ্মীপুজোয় হাতে গড়া নাড়ু-সন্দেশ অতীত, ভরসা মিষ্টির দোকান

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: October 15, 2016 10:07 am|    Updated: October 15, 2016 10:07 am

To get traditional sweets, people now must have to go to Sweet Shops

অভিরূপ দাস: চার কাপ দুধ৷ দু’ চামচ চিনি, আর খেজুর গুড়৷ ঘরোয়া কায়দায় সামান্য এই উপকরণ দিয়েই তৈরি হত লক্ষ্মীপুজোর সন্দেশ৷ কিংবা ময়দা, জোয়ান গুড়ো আর ছাঁকা তেলে ভাজা নিমকি৷

অভিজ্ঞ হাতে রান্নাঘরের দেরাজ থেকে সন্দেশের ছাঁচ বের করে আওয়াজ আসত, “বউমা আঁচ একটু কমিয়ে দিও৷” তারই ফাঁকে নারকেল কুড়িয়ে নামিয়ে রাখা হত রেকাবিতে৷ সন্ধেবেলায় কোজাগরীর থালায় থরে থরে সাজানো সন্দেশ, নাড়ুতে মালুম পড়ত ঠাম্মার ম্যাজিক৷

শনের নুড়ির মতো চুল৷ কপালে বলিরেখা৷ হাতের ভাঁজ পড়া চামড়ায় হেঁশেলের অ-আ-ক-খ৷ কোথায় হারিয়ে গিয়েছে সেই দিদা, ঠাকুরমারা৷ পরিবার ছোট হতে হতে তিনজনে ঠেকেছে৷ মালপোয়া, নারকেল নাড়ু, তিলের নাড়ুর রেসিপিও হারিয়ে গিয়েছে৷ “শুনছ লক্ষ্মীপুজোর দিন মিষ্টি হবে তো?” কর্তার কথা শুনে নতুন বউয়ের চোখ কপালে৷ “নারকেল নাড়ু বাড়িতে বানাব?”

রান্নাঘর থেকে কবেই উধাও নারকেল কুড়ুনি৷ বদলে তার জায়গায় মিক্সার৷ ময়দাকে নিপুঁণ তিনকোনা করে কাটতে হাত কাঁপে গৃহিনীর৷ লক্ষ্মীপুজোর আগের দিন হেঁশেলে ঢুকে নতুন বউ কিংকর্তব্যবিমূঢ়৷ “অসম্ভব”৷ এদিকে যতই পুজোয় চর্ব্যচোষ্য হোক লক্ষ্মীপুজোর দিন নাড়ু, সন্দেশ না হলে যে বাঙালির পুজো অসম্পূর্ণ৷

ভীম নাগ, সেন মহাশয়রা আপাতত ঠাকুরমা, দিদার ভূমিকায়৷ তিল তিল করে তাঁরাই তৈরি করেছেন তিলের নাড়ু, চন্দ্রপুলি৷ গিরিশচন্দ্র দে, নকুড়চন্দ্র নন্দীর কর্ণধার প্রতীপ নন্দী জানিয়েছেন, “সবাই এখন কাজে ব্যস্ত৷ বাড়িতে বসে নাড়ু, সন্দেশ বানানোর সময় কোথায়?” বাড়িতে তৈরি সেই পুরনো ছানার সন্দেশ মিলছে নকুড়ের দোকানে৷ সেই স্বাদ, সেই গন্ধ৷ লক্ষ্মীপুজোর আগের দিন ক্রেতা এক পিস মুখে ফেলে বলেন, “এ জিনিস খেয়েছিলাম আমার দিদার হাতে৷ বাড়ির দুধে লেবু মিশিয়ে ছানা বানাতেন৷ সেই ছানা বেটে তৈরি হত সন্দেশ৷” আপাতত বাজারে মোটে পনেরো টাকা খরচ করলেই মিলছে দিদার হাতের সেই বাটা সন্দেশ৷

পনেরো টাকায় মিলছে নারকোলের চন্দ্রপুলিও৷ ভিমনাগে যেমন মিলছে নারকোলের নাড়ু৷ কলকাতার উত্তর থেকে দক্ষিণ, নামজাদা সমস্ত মিষ্টির বিপণিতে থরে থরে সাজানো পুরনো দিনের মন কেমন করা মিষ্টি৷ কে সি দাশ, ভীম নাগ, নকুড়ের বাইরে লম্বা লাইন৷ শৌখিন মিষ্টি নয়, পুজোর এই সময়টায় সন্দেশ, নারকেল নাড়ু, মালপোয়া, চন্দ্রপুলিরই কদর বেশি৷ “সে কারণেই স্পেশাল কারিগর আনিয়ে এইসমস্ত মিষ্টি বানিয়ে রেখেছি৷” যুদ্ধজয়ের হাসি প্রতীপবাবুর মুখে৷

 নারকোলের মিষ্টি থেকে মালপোয়া৷ চাহিদা অনুযায়ী ব্যাগে ভরে দেন দোকান মালিক৷ ঘরের লক্ষ্মী আরাধনায় আপাতত ভরসা মিষ্টির দোকানগুলোই৷ ব্যাগে সেই মিষ্টি ভরে হাঁটা লাগান কর্তা৷ দক্ষিণ শহরতলীর ছোট্ট ফ্ল্যাটে তিনজন মোটে৷ পা চালিয়ে কর্তা হাসেন, “গিন্নিকে তাক লাগিয়ে দেব৷”

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে

Advertisement

Advertisement