২ অগ্রহায়ণ  ১৪২৬  মঙ্গলবার ১৯ নভেম্বর ২০১৯ 

Menu Logo মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

ধীমান রায়, কাটোয়া: কথায় বলে সন্তান খারাপ হলেও, বাবা-মা নাকি সবসময় তাদের ভাল চান। প্রাণ থাকতে সন্তানদের কোনও ক্ষতি হতে দেন না তাঁরা। কিন্তু সেই ধারণাকে বদলে দিলেন এক দম্পতি। অভাবের তাড়নায় দশ হাজার টাকার বিনিময়ে নিজের চোদ্দ দিনের সন্তানকে আত্মীয়ের কাছে বিক্রি করার অভিযোগ উঠল বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে। কাটোয়ার মঙ্গলকোটের নারায়ণপুর গ্রামের ঘটনার কথা শুনে অবাক হচ্ছেন প্রায় সকলেই।

গত ২৩ অক্টোবর মঙ্গলকোট ব্লক হাসপাতালে ভরতি হয়েছিল সোম মুর্মুর স্ত্রী মেনকা। একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেয় ওই মহিলা। দু’দিন পর হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়ার কথা ছিল তাকে। এদিকে, সেই সময়ের মাঝে সন্তানকে বিক্রির রফা করে ফেলে আদিবাসী দম্পতি। তারপর সেখান থেকেই কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে পালিয়ে যায় দু’জনে। মঙ্গলকোটের বিডিও মুস্তাক আহম্মেদ বলেন, “হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অগোচরেই লুকিয়ে হাসপাতাল থেকে সন্তাকে নিয়ে পালিয়ে যায় ওই আদিবাসী বধূ। একথা ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকের কাছে শুনেছি।”

আদিবাসী দম্পতির সন্তানকে বিক্রি করে দেওয়ার ঘটনা জানাজানি হয়ে যায় খুব সহজেই। ওই সদ্যোজাতকে উদ্ধারের উদ্যোগ নেয় প্রশাসন। কাটোয়ার মহকুমাশাসক সৌমেন পাল শুক্রবার দুপুরে মঙ্গলকোট থানার ওসিকে অবিলম্বে সদ্যোজাতকে উদ্ধারের নির্দেশ দেন। আউশগ্রামের সরগ্রামে হানা দেন মহকুমাশাসক।  সদ্যোজাতর খোঁজে তল্লাশি চলছে। যদিও ওই সদ্যোজাতর বাবা সোম মুর্মু বলে, “বিক্রি করা হয়নি সদ্যোজাতকে। সন্তানকে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে এক আত্মীয়ের হাতে তুলে দিয়েছিলাম। অভাবের তাড়নায় টাকা নিয়েছি ঠিকই। তবে তাকে বিক্রি করিনি।”

[আরও পড়ুন: মঞ্চে উঠতে দেরি, বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চূড়ান্ত হেনস্তার শিকার কার্তিক দাস বাউল]

এই ঘটনায় ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠছে। অনেকেই বলছেন, ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে মা এবং সদ্যোজাত নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার পরেও কেন পুলিশকে জানানো হল না? প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিরা আরও তৎপর হলে এমন কাণ্ড ঘটত না বলেই দাবি তাঁদের।

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং