Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৪ জুন ২০২৬

সবুজ বিপ্লবে কেন ধাক্কা নদিয়ায়, জল্পনা তৃণমূলে

মমতা ঝড়ে গোটা রাজ্যে যখন জোট ভূমিশয্যায়, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম পছন্দের জেলা নদিয়ায় চার-চারটি আসনে দলের ভরাডুবির কারণ নিয়ে গণনা শেষের পর থেকেই জোর জল্পনা শুরু হয়ে গেল তৃণমূলের অন্দরমহলে৷

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ২১, ২০১৬, ১৩:০৪

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ২১, ২০১৬, ১৩:০৪

options
link
সবুজ বিপ্লবে কেন ধাক্কা নদিয়ায়, জল্পনা তৃণমূলে zoom

বিপ্লব দত্ত:  মমতা ঝড়ে গোটা রাজ্যে যখন জোট ভূমিশয্যায়, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম পছন্দের জেলা নদিয়ায় চার-চারটি আসনে দলের ভরাডুবির কারণ নিয়ে গণনা শেষের পর থেকেই জোর জল্পনা শুরু হয়ে গেল তৃণমূলের অন্দরমহলে৷ বিশেষ করে, যে জেলাতে সিপিএমের গতবারের জেতা তিনটি আসনে এল তৃণমূলের বিপুল জয়৷ সেই জেলাতে কেন তৃণমূলের চারটি আসন হাতছাড়া হল, প্রশ্ন তা নিয়েই৷ এর মধ্যে দু’টি আসন শুধু হাতছাড়াই নয়, অন্য একটি আসনে জয়ের মার্জিন নেমে এল অর্ধেকে৷ রানাঘাটের হারা দু’টি ও অর্ধেক মার্জিনে জেতা আসনটিতে দলের মধ্যে প্রবল অন্তর্ঘাতই এই হারের অন্যতম কারণ মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা৷ তাঁদের মতে, অন্য দু’টি আসনে প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়াকে কাজে লাগিয়েই জিতেছে কংগ্রেস৷ যদিও এমন ফলের পুঙ্খানুপুঙ্খ কারণ নিয়ে এখনই তেমন কিছু বলতে রাজি হননি জেলার ১৭টি আসনের নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান বাণী কুমার রায়৷ তিনি জানান, “চারটি আসনে হারের কারণ নিয়ে দলে আলোচনা হবে৷ আমাকে যাঁরা দোষারোপ করছেন, তাঁদের সঙ্গে কথা না বলে আমি কোনও মন্তব্য করব না৷ না জেনে, না বুঝে কোনও কথা বলব না৷’’

হাতছাড়া হওয়া তৃণমূলের চারটি আসন হল, শান্তিপুর, কালীগঞ্জ, রানাঘাট উঃপঃ, রানাঘাট দক্ষিণ৷ জয়ের মার্জিন অর্ধেক হওয়া আসনটি হল রানাঘাট উত্তর-পুর্ব৷ আর বামদুর্গ গুঁড়িয়ে দিয়ে সিপিএমের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া আসন তিনটি, করিমপুর, তেহট্ট, পলাশিপাড়া৷ বিগত বিধানসভা ভোটের পর ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটেও এবারের হারানো চারটি আসনে তৃণমূলের ভোট আরও বেড়েছিল৷ ভাল ফল হয়েছিল তেহট্ট, পলাশিপাড়া, করিমপুরেও৷ সেক্ষেত্রে তেহট্ট মহকুমার তিনটি আসনে ফল মিললেও প্রত্যাশিত রানাঘাট মহকুমার তিনটি আসন ও কালীগঞ্জে তা উল্টে গেল৷ শুধু তাই নয়, একসময়ের জেলা কংগ্রেসের অন্যতম দল নেতা এবং পাঁচ বারের বিধায়ক অজয় দে যেমন হেরে গেলেন, তেমনই দীর্ঘদিন জেলা রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখার পর স্বমহিমায় ফিরে এলেন কংগ্রেসের শঙ্কর সিংহ৷ তিনি আবার হারিয়ে দিলেন তাঁরই একসময়ের ‘শিষ্য’ বাবু অর্থাত্‍ পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়কে৷ না, দুই-পাঁচশ ভোটে নয়, একেবারে ২৩ হাজার ৪২০ ভোটে৷ লোকসভা ভোটের জয়ের মার্জিন ২৯ হাজার ১২ ভোটকে টপকে শঙ্কর সিংহের এবারের বিপুল মার্জিনে জয়ে চিন্তার ভাঁজ তৃণমূল নেতাদের কপালে৷ পাশাপাশি, কংগ্রেসের এক সময়ের ‘গড়’ কুর্পাস-সহ রানাঘাট দক্ষিণে ২০১৪ সালের ১৯ হাজার ১১ ভোটকে টপকে সিপিএমের জয় হল ১৭ হাজার ২৫৩ ভোটে৷

Advertisement

আবার উত্তর-পূর্বে তৃণমূল এবার ২০১৪ লোকসভার প্রাপ্ত ভোটের মার্জিনের তুলনায় তৃণমূলের এবারের জয়ের মার্জিন ৩৮ হাজার ২২০ থেকে নেমে এল ১৪ হাজার ৯৭২ ভোটে৷ কারণ বিশ্লেষণে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মত, রানাঘাটের তিনটি আসনে এই ফল হয়েছে তৃণমূলের দলের মধ্যে প্রবল অন্তর্ঘাতের কারণে৷ এমনটা হতে পারে, যার আগাম আঁচ সম্ভবত আগেই পেয়েছিলেন স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই৷ পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে রানাঘাট-১ নং পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তাপস ঘোষের মধ্যে প্রবল মতানৈক্য চলে এসেছিল প্রকাশ্যে৷ একে অপরের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতে দ্বিধা ছিল দু’জনের৷ দলনেত্রী ভোট প্রচারে হবিবপুরে এসে মতানৈক্য ঘুচিয়ে একসঙ্গে চলে দলকে জেতানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং তা দেখার দায়িত্ব দিয়েছিলেন স্বয়ং বাণী রায়কে৷ অথচ তা বাস্তবে কাজে এল না৷ ভরাডুবি হল দলের৷ অর্ধেক মার্জিনে জিতে তাই বাণী রায়কে প্রকাশ্যে কাঠগড়ায় তুলেছেন রানাঘাট উত্তর-পূর্বের জয়ী প্রার্থী সমীর পোদ্দার৷ তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, “বাণী রায়ই তাঁর লোকজনকে দিয়ে দুই প্রার্থীকে হারিয়েছেন৷ আমাকেও হারাতে চেয়েছিলেন, পারেননি৷ তবে ভোটের ফলে তার প্রভাব পড়ল৷ আমি চাই, দল তদন্ত করে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক৷” ‘গদ্দারি’ হয়েছে বলে মত প্রকাশ করেছেন পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়৷ যদি রানাঘাট উত্তর-পশ্চিম কেন্দ্রে টাকার খেলাও চলেছে বলে ঘনিষ্ঠ মহলে তার মত৷ যদিও অন্যদিকে, গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের বিন্দুমাত্র প্রভাব শান্তিপুরে কাজ না করা সত্ত্বেও অজয় দে-র মতো জাহাজের ডুবে যাওয়ার পিছনে প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়াই কারণ বলে ভাবছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা৷ তাঁদের মতে, কর্মীদের মনোভাব না বোঝা, অত্যধিক আত্মবিশ্বাস, আত্মম্ভরিতা, উন্নয়নকে গ্রামকেন্দ্রিক সেইভাবে না ছড়িয়ে দেওয়াও অন্যতম কারণ৷ তাছাড়া, একই মুখের বদলও চাইছিলেন মানুষ৷ যা কাজে লাগিয়েছে জোট৷ পুরনো কংগ্রেস কর্মীদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়াটাও এখানে কংগ্রেসের প্রত্যাবর্তনের অন্যতম কারণ৷ অজয় দে-র দলবদলটাও মেনে নেননি কংগ্রেসিদের অনেকেই৷ দলের কর্মীদের মনকে গুরুত্ব না দেওয়ার ফলে ভুগতে হল কালীগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী নাসিরুদ্দিন আহমেদকেও৷ একদিকে যেমন জোট-কর্মীরা কাজ করেছেন পরিবর্তনের জন্য, তেমন প্রত্যাবর্তনের চেষ্টার জোর ছিল খুবই কম৷

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.