শুভদীপ রায়নন্দী, শিলিগুড়ি: করোনা (Corona Virus) আবহের তোয়াক্কা না করে ট্রেনে করে ফের সোনা পাচারের চেষ্টা। যদিও নজরদারি বাড়ানোয় পাচারকারীদের দ্বিতীয়বারের পরিকল্পনাও ব্যর্থ করতে সক্ষম হল কেন্দ্রীয় রাজস্ব গোয়েন্দা সংস্থা। শনিবার মাঝরাতে এনজেপি স্টেশনে অভিযান চালিয়ে কোটি টাকার সোনা-সহ দুজনকে গ্রেপ্তার করে ডিআরআই।
আগের মতোই দিল্লিতে সোনা পাচারের পরিকল্পনা ছিল পাচারকারীদের। কিন্তু এবার কোমরের বেল্টের পরিবর্তে ‘নি ক্যাপের’ বা দুর্ঘটনার হাত থেকে হাঁটুর বাঁচানোর বিশেষ টুপিতে করে ওই সোনা পাচারের চেষ্টা করে তারা। পাচারের বিষয়টি গোপন সূত্রে জানতে পারে তদন্তকারী সংস্থা। এরপরই আলিপুরদুয়ার জংশন স্টেশন থেকে তদন্তকারী সংস্থার কয়েকজন গোয়েন্দা অভিযুক্তদের পিছু করতে থাকে। যুবকরা পিছু নেওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে অন্যকোনও স্টেশনে যাতে নেমে না পরে তার জন্য কামরার দুপাশ থেকেই তাদের উপর নজর রাখছিল গোয়েন্দারা। অন্যদিকে, এনজেপি স্টেশনে অপেক্ষা করছিল ছিল সংস্থার আধিকারিকদের আরেকটি দিল। এনজেপি স্টেশনে ট্রেন প্রবেশ করতেই পাকড়াও করা হয় যুবকদের। তাদের তল্লাশি করা হলে, বিশেষভাবে তৈরি ‘নি ক্যাপে’র বেল্ট থেকে ওই সোনার বিস্কুটগুলি উদ্ধার হয়। এক একটি ‘নি ক্যাপে’ তিনটি করে সোনার বিস্কুট লুকোনো ছিল। এরপরই তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানা গিয়েছে। অভিযুক্তদের রবিবার সকালে শিলিগুড়ি আদালতে তোলা হলে বিচারক জামিনের আবেদন খারিজ করে চার দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। এবিষয়ে আইনজীবী ত্রিদীপ সাহা বলেন, “বিচারক জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে ডিআরআই।”
[আরও পড়ুন: করোনা কালেও থেমে নেই জেলার রিভিউ মিটিং, সোমবার থেকে ভারচুয়াল বৈঠক মুখ্যমন্ত্রীর]
জানা গিয়েছে, এদিন উদ্ধার হয়েছে ১২ টি সোনার বিস্কুট। প্রতিটির ওজন ১৬৬ গ্রাম করে। মোট এক কেজি ৯৯২ গ্রাম সোনা উদ্ধার হয়েছে। যার বর্তমান বাজার মূল্য, এক কোটি ৯ লক্ষ ৯২ হাজার টাকা। ডিআরআই সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতরা হল মাঙ্গি লাল এবং যোগেশ সোনি। তারা দু’জনেই রাজস্থানের বিকানীড়ের বাসিন্দা। ডিআরআই সূত্রে জানা গিয়েছে, মায়ানমারের ইন্দো-মায়ানমারের ‘মোরেহ’ সীমান্ত পার করে এদেশে ঢুকেছিল ওই বিপুল পরিমান সোনা। সেখান থেকে অসমের গুয়াহাটি হয়ে ট্রেনে দিল্লি নিয়ে যাওয়া হত। সেখান থেকে সোনা পাচার করা হত মহারাষ্ট্রে।
প্রসঙ্গত, স্বাধীনতা দিবসের দিন ১৫ কোটি টাকার সোনা পাচার করতে গিয়ে ডিআরআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার হয় মহারাষ্ট্রের তিন যুবক। তারপরই ট্রেনে নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় ডিআরআই। সেই বার ব্যার্থ হলেও ফের পাচারের চেষ্টা করে পাচারকারীরা। কিন্তু এবারও পাচারের আগেই অভিযান চালিয়ে ওই দুজন পাচারকারীকে নিউ জলপাইগুড়ি রেল স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করে কেন্দ্রীয় রাজস্ব গোয়েন্দা দপ্তরের (ডিআরআই) আধিকারিক ও কর্মীরা।
[আরও পড়ুন: ভিনরাজ্যের মহিলাকে আটকে রেখে ৫ মাস ধরে ‘গণধর্ষণ’, নারকীয় ঘটনার সাক্ষী মালদহ]
সর্বশেষ খবর
-
সাইয়ের ২০০ কোটির প্রকল্প আটকে দিয়েছিল তৃণমূল! মমতা-অরূপকে কাঠগড়ায় তুলে বিস্ফোরক দিন্দা
-
খালি পায়ে সাড়ে তিন হাজার সিঁড়ি বেয়ে তিরুপতিতে জাহ্নবী, কেন এই কঠিন ব্রত?
-
সই-কাণ্ডে ফিরহাদের বাড়িতে সিআইডি, মিটিংয়ে কী ঘটেছিল? জিজ্ঞাসাবাদ মেয়রকে
-
ভুল নিয়মে পরলেই ঘোর অমঙ্গল, শুক্রের কৃপা পেতে কীভাবে হিরে ধারণ করবেন?
-
হামের মারণ হানা বাংলাদেশে, গত চব্বিশ ঘণ্টায় আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, মোট মৃত ৬০৫