BREAKING NEWS

২ বৈশাখ  ১৪২৮  শুক্রবার ১৬ এপ্রিল ২০২১ 

READ IN APP

Advertisement

দ্বিতীয় দফার ৩০ আসনে কে এগিয়ে, কে পিছিয়ে? কী বলছে গ্রাউন্ড রিপোর্ট?

Published by: Paramita Paul |    Posted: March 30, 2021 4:50 pm|    Updated: March 31, 2021 12:23 pm

An Images

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ব্যুরো: হাতে আর মাত্র একদিন। বৃহস্পতিবার রাজ্যের দ্বিতীয় দফা ভোট। এই দফায় সকলের চোখ আটকে নন্দীগ্রামে। তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বনাম বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর লড়াই। ময়দানে রয়েছেন তরুণ তুর্কি মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ও। তবে নন্দীগ্রামের পাশাপাশি বৃহস্পতিবার ৩০টি আসনে হবে ভোটগ্রহণ (WB Assembly Poll 2021)। নির্বাচন হবে দুই মেদিনীপুর, বাঁকুড়া ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার কয়েকটি আসনে। প্রতিটি আসনেই এবার টক্কর সেয়ানে-সেয়ানে। এই নির্বাচনে জবাব মিলবে অনেক প্রশ্নের। দলবদলের পর মেদিনীপুরজুড়ে কি পদ্ম ফোটাতে পারবে অধিকারী পরিবার? নাকি উন্নয়নের উপর ভর করে নির্বাচনী বৈতরণী পার করবে তৃণমূল? লোকসভা নির্বাচনে গেরুয়া ঝড় বয়েছিল বাঁকুড়ায়। এবার পায়ের তলার মাটি অনেকটাই শক্ত করে ফেলেছে তৃণমূল। ফলে রাঙামাটির দেশের লড়াইটা এবার আর একপেশে নয়। এদিকে উনিশের প্রবল মোদি ঝড়ও দক্ষিণ ২৪ পরগণায় ঘাসফুলের গড়ে প্রভাব ফেলতে পারেনি। একুশে কী পরিস্থিতি বদলাবে? এই সব প্রশ্নের জবাব মিলবে ২ মে। তবে কেউই বিনা যুদ্ধে বিপক্ষকে এক টুকরোও জমি ছেড়ে দেবে না, এটা স্পষ্ট।

এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক কোন আসনে কী পরিস্থিতি? কী বলছে গ্রাউন্ড রিপোর্ট?

পূর্ব মেদিনীপুর

তমলুক: এই কেন্দ্রে তৃণমূলের সৌমেনকুমার মহাপাত্র, বিজেপির ড. হরেকৃষ্ণ বেরা এবং সিপিএমের গৌতম পণ্ডার মধ্যে লড়াই। এই কেন্দ্রে বিজেপি-তৃণমূলের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। রাজ্যের মন্ত্রীর সঙ্গে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির চিকিৎসকের যুদ্ধ।

পাঁশকুড়া পূর্ব: প্রচারে এগিয়ে সিপিএম প্রার্থী শেখ ইব্রাহিম আলি। পুরনো ভোটাররা ফিরছেন লাল শিবিরে। ফলে বিজেপির ভোট কাটবে সিপিএম। আর সেই অঙ্কে বাকি কিছুটা হলেও সুবিধা পাবেন তৃণমূল প্রার্থী বিপ্লব রায়চৌধুরী।

পাঁশকুড়া পশ্চিম: এই কেন্দ্রে ফ্যাক্টর হতে পারেন শুভেন্দু অধিকারী। উপরন্তু তৃণমূলের প্রার্থী আবার ‘বহিরাগত’। আর এই ক্ষোভকে কাজে লাগাতে পারে গেরুয়া শিবির। ফলে তৃণমূলের ফিরোজা বিবি ও বামেদের প্রার্থী চিত্তদাস ঠাকুরকে টেক্কা দিতে পারেন বিজেপির সিন্টু সেনাপতি।

ময়না: তৃণমূলের সংগ্রামকুমার দলুই, বিজেপির অশোক দিন্দা এবং কংগ্রেসের মানিক ভৌমিকের কঠিন লড়াই। রাজ্য সরকারের উন্নয়নের বনাম দলীয় সংগঠনের লড়াই। কঠিন টক্কর।

নন্দকুমার: তৃণমূলের অন্দরেই ক্ষোভ-বিক্ষোভ রয়েছে। সেই ক্ষোভকে কাজে লাগাতে মরিয়া গেরুয়া শিবির। সে ক্ষোভকে কাজে লাগাতে পারলে লড়াইয়ে তৃণমূলের সুকুমার দে ও সিপিএমের করুণাশঙ্কর ভৌমিকের চেয়ে এগিয়ে থাকবেন নীলাঞ্জন অধিকারী।

মহিষাদল: গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভাল ফল করেছিল বিজেপি। পাশাপাশি এই এলাকা হিন্দু বলয় হিসেবে পরিচিত। সেই নিরিখে তৃণমূলের তিলক চক্রবর্তী এবং আইএসএফের বিক্রম চট্টোপাধ্যায়ের লড়াই কঠিন। সামানে সমানে টক্কর হতে চলেছে এই কেন্দ্রে।

হলদিয়া: এই কেন্দ্রে তৃণমূলের স্বপন নস্কর, বিজেপির তাপসী মণ্ডল ও সিপিএম প্রার্থী মণিকা করের কঠিন লড়াই। কারণ গত বিধানসভায় সিপিএমের বিধায়ক এখন গেরুয়া শিবিরে। ফলে বাম-বিজেপির মধ্যে ভোট কাটাকাটির অঙ্ক স্পষ্ট। লড়াইয়ে রয়েছে তৃণমূলও।

নন্দীগ্রাম: একুশের নির্বাচনের ভরকেন্দ্র। এই কেন্দ্রে প্রচারে ফাঁকি রাখেনি কোনও পক্ষই। গ্রাউন্ড রিপোর্ট বলছে, লড়াইয়ে অনেক এগিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে একেবারে পিছিয়ে নেই শুভেন্দু অধিকারীও।

চণ্ডীপুর: তৃণমূলের তারকা প্রার্থী সোহম চক্রবর্তীর সঙ্গে বিজেপির পুলককান্তি গুঁড়িয়ার টক্কর। তবে নিজের হারানো গড় গোছাচ্ছে সিপিএম। ফলে পুরনো ভোটাররা বিজেপি ছেড়ে ভোট দেবে বাম প্রার্থী আশিস গুছাইতকে। সেই অঙ্কে কঠিন লড়াইয়ে সামান্য এগিয়ে ঘাসফুল শিবির।

[আরও পড়ুন : বিজেপি নেতা প্রলয় পালকে ফোন কেন? নন্দীগ্রামে প্রচারের শেষ লগ্নে খোলসা করলেন মমতা]

পশ্চিম মেদিনীপুর

নারায়ণগড়: হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। তৃণমূল প্রার্থী ব্যবহার নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে। এদিকে বিজেপির প্রার্থীও প্রাক্তন তৃণমূলী। ফলে স্থানীয় মানুষ কাকে ভোট দেবেন, তা নিয়ে দোলাচল রয়েছে।

সবং: ব্যক্তিগত ক্যারিশমায় এগিয়ে তৃণমূল প্রার্থী মানস ভুঁইয়া। গ্রাউন্ড রিপোর্ট বলছে, উন্নয়ন ও ব্যক্তিগত ভাবমূর্তিতেই জয় হাসিল করতে পারেন তৃণমূল প্রার্থী।

পিংলা: একপেশে লড়াইয়ে এগিয়ে বিজেপি। আমজনতার সঙ্গে তৃণমূল প্রার্থী ব্যবহার নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে। ফলে মাইলেজ পাচ্ছে গেরুয়া শিবির।

খড়গপুর: এই কেন্দ্রের পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে। ফলে এখানে কঠিন লড়াই। তারকা প্রার্থীর প্রচারের জেরে মাইলেজ পেয়েছে বিজেপি। তারপরেও সামান্য এগিয়ে তৃণমূল।

ডেবরা: লাগামছাড়া দুর্নীতির অভিযোগ ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব তৃণমূলের জয়ের পথে কাঁটা। ফলে লড়াইয়ে অনেকটাই এগিয়ে বিজেপি প্রার্থী ভারতী ঘোষ।

দাসপুর: এই কেন্দ্রে তৃণমূলের মমতা ভুঁইয়া, বিজেপির প্রশান্ত বেরা এবং সিপিএমের ধ্রুবশেখর মণ্ডলের কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা। তাঁদের মধ্যে অবশ্য সামান্য এগিয়ে তৃণমূল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়ন যজ্ঞে ভর করেই নির্বাচনী বৈতরণী পার করতে পারে তৃণমূল। এই এলাকার শিক্ষিত সম্প্রদায় গেরুয়া শিবিরকে পছন্দ করে না বলে দাবি করছে গ্রাউন্ড রিপোর্ট। তবে তৃণমূলের জয়ের পথে কাঁটা হতে পারে আমফান দুর্নীতি।

ঘাটাল: তৃণমূলের শংকর দোলুই, বিজেপির শীতল কাপাট ও বামেদের কমল দোলুইয়ের কড়া টক্কর। তবে নির্বাচনী অঙ্কের নিরিখে খানিকটা এগিয়ে বিজেপি। ঘাসফুল শিবিরের জয়ের পথে কাঁটা দুর্নীতি ও স্বজনপোষণ।

চন্দ্রকোণা: তৃণমূলের অরূপ ধাড়া, বিজেপির শিবরাম দাস ও আইএসএফের গৌরাঙ্গ দাসের লড়াই। তবে তৃণমূলের দুর্নীতি কাঁটা বিজেপিকে সুবিধা করে দিয়েছে এই কেন্দ্রে।

কেশপুর: তৃণমূলের গড়। প্রার্থী তৃণমূলের শিউলি সাহা, বিজেপির প্রীতিশরঞ্জন কুঁয়াড় এবং সিপিএমের রামেশ্বর দলুই। রিপোর্ট বলছে, একপেশে লড়াইয়ে বাজিমাত করবে ঘাসফুল শিবির। তবে বিজেপির চোরা হাওয়া রয়েছে। ফলে তৃণমূল প্রার্থীর জয়ের মার্জিন কমতে পারে।

বাঁকুড়া

তালডাংরা: ঘাস ও পদ্মের লড়াইয়ে বাজিমাত করতে পারেন সিপিএম প্রার্থী মনোরঞ্জন পাত্র। গত কয়েকবার এলাকার বাইরের প্রার্থীদের জয়ী করে বেকায়দায় পড়েছিল এলাকার মানুষ। এবার বিজেপি ও তৃণমূলের দুই প্রার্থী অরূপ চক্রবর্তী ও শ্যামলকুমার সরকার এই কেন্দ্রের স্থায়ী বাসিন্দা নন। অন্যদিকে মনোরঞ্জন পাত্র ‘ভূমিপুত্র’। এলাকার প্রতিটি বাসিন্দার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তাঁর। তাই এই কেন্দ্রে বামেদের কিস্তিমাতের সম্ভাবনা প্রবল।

বাঁকুড়া: এই কেন্দ্রে উগ্র হিন্দুত্বের একটা হাওয়া রয়েছে। পাশপাশি বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সংগঠনও মজবুত। ফলে এই দুই বিষয়ের বিশেষ সুবিধা পেতে পারে বিজেপি। গ্রাউন্ড রিপোর্ট বলছে, এই কেন্দ্রে ঘাসফুলের সঙ্গে কড়া টক্কর দেবে গেরুয়া শিবির।

বড়জোড়া: গেরুয়া শিবিরের নিজস্ব ভোট রয়েছে। তবে বামেদের সংগঠন মজবুত হয়েছে। ফলে ভোট কাটাকাটি হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। আর তাই দুই বিরোধীকে টেক্কা দিয়ে এগিয়ে যেতে পারেন তৃণমূল প্রার্থী।

ওন্দা: এই কেন্দ্রে ফরওয়ার্ড ব্লকের পাশাপাশি প্রার্থী দিয়েছে আইএসএফও। ফলে সংখ্যালঘুদের ভোট যেতে পারে আইএসএফের ঝুলিতে। এদিকে হিন্দুভোট সংঘবদ্ধ হলে বাজিমাত করতে পারেন বিজেপি প্রার্থী অমর শাখা। তিনি এই এলাকার ভূমিপুত্র। অন্যদিকে তৃণমূলের প্রার্থী অরূপকুমার খাঁ বাঁকুড়ার বাসিন্দা। ফলে এই ইস্যুতে মাইলেজ পেতে পারে গেরুয়া শিবির।

বিষ্ণুপুর: বিজেপি প্রার্থী তন্ময় ঘোষ তৃণমূলের প্রাক্তন নেতা। তাঁর বিরুদ্ধে গোঁজ প্রার্থী দিয়েছে আদি বিজেপি। ফলে কঠিন লড়াইয়েও ভোট কাটাকাটির সুবিধা পেতে পারেন তৃণমূল প্রার্থী অর্চিতা বিড।

কোতুলপুর: এই কেন্দ্রে আইএসএফের প্রভাব রয়েছে। তৃণমূলের বিক্ষুব্ধরা আইএসএফকে সমর্থন করছে। ফলে সেই অংশের ভোট যেতে পারে জোটসঙ্গী কংগ্রেসের ঝুলিতে। উপরন্তু এলাকার প্রবীণরা কংগ্রেসকেই ভোট দেন। অন্যদিকে এই কেন্দ্রে প্রভাব রয়েছে আরএসএসের। ফলে বিজেপি প্রার্থী কিছুটা হলেও সুবিধা পেতে পারেন। গ্রাউন্ড রিপোর্ট বলছে, এই কেন্দ্রে বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি কংগ্রেসের লড়াই।

ইন্দাস: প্রাক্তন বিধায়ক গুরুপদ মেটে এলাকাবাসীর কাছের মানুষ। তাঁদের আপদে-বিপদে পাশে দাঁড়াতেন। প্রয়াত বিধায়কের সেই ভাবমূর্তিকে হাতিয়ার করে ভোটে লড়ছেন তাঁর স্ত্রী রুনু মেটে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বিজেপির প্রার্থী নির্মল ধাড়া এবং সিপিএম প্রার্থী নয়ন শীলের খানিকটা এগিয়ে তিনি। তবে এই কেন্দ্রে গেরুয়া শিবিরের মজবুত সংগঠন।

সোনামুখী: লোকসভায় এই কেন্দ্রে প্রবল গেরুয়া হাওয়া ছিল। উপরন্তু তৃণমূলের বহু নেতা-কর্মী বিজেপিতে যোগ দিয়েছে। অনেকে তৃণমূল কর্মী নিষ্ক্রিয় হয়ে গিয়েছেন। ফলে সুবিধা পাওয়ার কথা বিজেপির। কিন্তু রাজ্য সরকারের একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উপর ভিত্তি করে কড়া টক্কর দিতে তৈরি প্রাক্তন বিধায়ক তথা তৃণমূল প্রার্থী শ্যামলকুমার সাঁতরাও। ফলে এই কেন্দ্রে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে দাবি ওয়াকিবহাল মহলের। তবে এই কেন্দ্রে বড় ফ্যাক্টর হতে পারে বামেদের ভোটব্যাংক।

[আরও পড়ুন : ‘আর কোনও বহিরাগতকে ঢুকতে দেবেন না’, নন্দীগ্রামে স্থানীয়দের সতর্ক করলেন মমতা]

দক্ষিণ ২৪ পরগনা

গোসাবা: তৃণমূলের শক্তঘাঁটি গোসাবা। উন্নয়ন, সংগঠনের উপর ভরসা করে সহজেই জয়ের বৈতরণী পার করতে পারে ঘাসফুল শিবির। উল্লেখ্য, বিজেপি প্রার্থী আবার প্রাক্তন তৃণমূলী।

পাথরপ্রতিমা: তুলনামূলকভাবে এই কেন্দ্রে সংগঠন মজবুত হয়েছে বিজেপির। প্রচারে ঝড় তুলেছে গেরুয়া শিবির। তবে বাকি দুই প্রার্থীদের তুলনায় অনেকটা এগিয়ে তৃণমূলের প্রার্থী সমীরকুমার জানা। তবে ঘাসফুল শিবিরে মাথাব্যথা আমফান দুর্নীতি।

কাকদ্বীপ: এই কেন্দ্রের মানুষ পরিবর্তন চাইছে না বলেই দাবি। লড়াইয়ে বেশ খানিকটা এগিয়ে রাজ্যের মন্ত্রী মন্টুরাম পাখিরা। তাঁর জনপ্রিয়তার তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছেন বিজেপি প্রার্থী। পাশাপাশি এই কেন্দ্রে উন্নয়ন করেছে তৃণমূল। ফলে লড়াইটা কার্যত একপেশে।

সাগর: তৃণমূল প্রার্থী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরার বিরুদ্ধে দলের অন্দরেই ক্ষোভ রয়েছে। আর সেই ক্ষোভটাকে কাজে লাগাতে চাইছে বিজেপি। আমফানের দুর্নীতি কাটা ভাবাচ্ছে ঘাসফুল শিবিরকে। ফলে এই কেন্দ্রে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement