সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: রায়দিঘি কেন্দ্রের তারকা বিধায়ক ছিলেন দেবশ্রী রায় (Debasree Roy)। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বেশ পছন্দের হওয়া সত্ত্বেও একুশের নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকে টিকিট পাননি তিনি। তারপর মাতলা, বিদ্যাধরী দিয়ে বয়ে গিয়েছে অনেক জল। দেবশ্রী রায় তৃণমূল ছেড়েছেন। কিন্তু নেত্রীর এত পছন্দের হয়েও কেন এবার প্রার্থীপদ হাতছাড়া হল দেবশ্রীর? দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ভোটের আগে রায়দিঘিতে প্রচারে দিয়ে সেই কারণই জানিয়ে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সাফ জানিয়ে দিলেন, ”দেবশ্রীর বিরুদ্ধে এখানকার মানুষের ক্ষোভ ছিল। আমার কানে এসেছিল সব। তাই ও বিধায়ক থাকলেও এবার টিকিট দিইনি।” এও জানান, রায়দিঘির বিজেপি প্রার্থী শান্তনু বাপুলি তৃণমূলের টিকিট চেয়েছিলেন। কিন্তু তৃণমূল তাঁকেও প্রার্থী করেনি। তাই বিজেপি যোগ দিয়ে তিনি প্রার্থীপদ আদায় করেছেন।
২০১১ এবং ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রায়দিঘি (Raidighi) কেন্দ্র থেকে অভিজ্ঞ বিধায়ক, সিপিএমের কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়কে হারিয়ে বিধায়ক হন তারকা প্রার্থী দেবশ্রী রায়। ‘জনদরদী’ ইমেজ থাকা সত্ত্বেও পরপর দু’বার কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়ের হার হয়েছিল অভিনেত্রীর জনপ্রিয়তার কাছে। কিন্তু জনপ্রতিনিধি হয়েও মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করেননি, এই অভিযোগ শোনা গিয়েছে রায়দিঘির অন্দরে কান পাতলেই। এরপর একাধিক দুর্নীতির সঙ্গেও জড়িয়ে পড়েছে তারকা বিধায়কের নাম। ফলে ক্ষোভ ছিলই। অনেক সময়ে দেখা দিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকে দেবশ্রী উপস্থিত থাকলেও বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে তেমন রিপোর্ট দিতে পারেননি। তাঁর পারফরম্যান্সে জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের মধ্যেই অসন্তোষ দানা বাধছিল। একুশের ভোটের আগে তা প্রকাশ্যে চলে আসে। যদিও তাঁকে পছন্দ করেন বলে একাধিকবার সাবধান করেছিলেন মমতা নিজেও।
[আরও পড়ুন: ভোট পরবর্তী হিংসায় উত্তপ্ত বাঁকুড়া, রাতভর চলল তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষ]
প্রথমে দেবশ্রী নিজে রায়দিঘি থেকে লড়তে চাননি। এরপর তাঁকেও দল অন্য কোনও কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করেনি। ফলে সমীকরণ খানিকটা আঁচ পাওয়া যাচ্ছিল। প্রত্যাশামতোই দেবশ্রী রায় তৃণমূল ছেড়ে,দলের সঙ্গে যাবতীয় সম্পর্ক ছিন্ন করে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। রায়দিঘি থেকে রাজ্য়ের শাসকদল অলোক জলদাতাকে প্রার্থী করেছে। শনিবার তাঁরই সমর্থনে জনসভা করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। আর সেখানেই তিনি দেবশ্রীকে প্রার্থী না করার কারণ প্রকাশ্যে আনলেন। বুঝিয়ে দিলেন, দলের কোনও সদস্য তাঁর ব্যক্তিগতভাবে পছন্দের হলেও, জনতার ক্ষোভ থাকলে তাঁকে আর কোনও সুযোগ দিতে তিনি নারাজ। একইসঙ্গে বার্তা দিলেন অন্যান্যদেরও। বোঝালেন, কাজই সব তাঁর কাছে, ব্যক্তিগত ক্যারিশ্মা নয়।
[আরও পড়ুন: ভোটের আগে কৃষ্ণনগরে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, কৌশানির অভিযোগে ধৃত অভিযুক্ত]
যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বক্তব্য শুনে পরে পালটা প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন দেবশ্রী রায়ও। তিনি প্রার্থী হতেই চাননি, তাই কাউকে বলেনওনি। বিতর্ক এড়াতে এমন সাফাই দিলেন।
সর্বশেষ খবর
-
একশোর বদলে পাঁচশোর নোটের টোপ! কমিশনের লোভে ব্যবসায়ী পেলেন সাদা কাগজের টুকরো
-
তৃণমূল জমানায় অবহেলা! দুর্যোগ-বিধ্বস্ত উত্তরবঙ্গকে স্বমহিমায় ফেরাতে আড়াইশো কোটি বরাদ্দ শুভেন্দুর
-
নিজের গড় রেজিনগরেই হারের ভয়! উপনির্বাচনে বাম-কংগ্রেস-তৃণমূল মহাজোট চাইছেন হুমায়ুন
-
আপত্তি শুধু ‘সেক্যুলার’ কংগ্রেসের! নিয়ম মেনে বন্দে মাতরম পুরোটা দাঁড়িয়ে সম্মান আবদুল্লাদের
-
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে প্রার্থীই দিতে পারবে না তৃণমূল? সর্বদলীয় বৈঠকে গড়হাজিরায় উঠছে প্রশ্ন