চন্দ্রশেখর চট্টোপাধ্যায়, আসানসোল: আসানসোলের উপদ্রুত এলাকায় এসে মানুষকে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার অনুরোধ জানালেন রাজ্যপাল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকাবাসীকে সহয়োগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে বললেন কেশরীনাথ ত্রিপাঠী। নিজে এলাকা ঘুরে দেখলেও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন তিনি। তাই অস্থির আসানসোলকে সুস্থির করতে পুলিশি ভূমিকায় তিনি সন্তুষ্ট কি সন্তুষ্ট না, তাও অস্পষ্ট রইল। যদিও গোটা সফরকালেই পুলিশ প্রশাসনের আধিকারিকরা ঘিরেই রইলেন রাজ্যপালকে। এই ঝটিকা সফরের রিপোর্ট কেন্দ্রের কাছে পৌঁছবে কিনা, তা নিয়েও মুখ খোলেননি রাজ্যপাল।
[রাজ্যে তিন দফায় পঞ্চায়েত নির্বাচন, ভোট শুরু ১ মে]
উল্লেখ্য, সকালেই আসানসোলে পৌঁছন রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী। এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থার পর্যালোচনা করতে আসানসোল সার্কিট হাউসে প্রশাসনিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। রাজ্যপাল সকাল ১১টা নাগাদ আসানসোল পৌঁছে সোজা চলে যান সার্কিট হাউসে। পুলিশ কমিশনার লক্ষীনারায়ণ মিনা। জেলাশাসক শশাঙ্ক শেঠি, মহকুমা শাসক প্রলয় রায় চৌধুরি। অতিরিক্ত জেলাশাসক ও অন্যান্য পুলিশ আধিকারিকদের নিয়ে সেখানেই বৈঠকে বসেন রাজ্যপাল। পুলিশ প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ে আলাপ আলোচনা করেন। একঘণ্টার বৈঠক শেষে রাজ্যপাল সার্কিট হাউস থেকে বেরিয়ে চলে যান রেলপাড় এলাকায়। গত সোমবার আসানসোলের এই রেলপাড় এলাকাই প্রথম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। রাজ্যপালের সঙ্গে ছিলেন জেলার পুলিশ প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা। রেলপাড় এলাকা ঘুরে দেখার পর রাজ্যপাল চলে যান কল্যাণপুরে। কল্যাণপুর হাউজিংয়েই খোলা হয়েছে শরণার্থী শিবির। উপদ্রুত এলাকার ৩৫০ জন বাসিন্দা এখন সেখানেই রয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন রাজ্যপাল। শিবিরে থাকা শরণার্থীদের কোনওরকম অসুবিধা হচ্ছে কিনা তার খোঁজখবরও করেন।

এরমধ্যে আসানসোলের স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বরা দেখা করে যান রাজ্যপালের সঙ্গে। জেলা নেতৃত্বদের সঙ্গে কথা বলার পর ফের উপদ্রুত এলাকায় যান রাজ্যপাল। গত কয়েকদিন ধরে সংঘর্ষে উত্তাল থাকা চাঁদমারি এলাকা ঘুরে দেখেন কেশরীনাথ ত্রিপাঠী। পুড়ে যাওয়া দোকানে ঢুকে পড়েন। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। অনেকেই নিজেদের অসুবিধার কথা রাজ্যপালকে শোনানোর জন্য উন্মুখ ছিলেন। তবে বিরাট কনভয় ও পুলিশি ঘেরাটোপ পেরিয়ে রাজ্যপালের কাছে পৌঁছতে পারেননি। এরপর মূল উপদ্রুত এলাকা ওকে রোড জংশনে যান রাজ্যপাল। সংশ্লিষ্ট এলাকায় এখনও অস্থিরতা থাকায় গাড়ি থেকে নামেননি রাজ্যপাল। গাড়িতে বসেই পুলিশ প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর ফের সার্কিট হাউসে ফির আসেন তিনি। পরে কলকাতার উদ্দেশে রওনা হয়ে যান। এদিকে রাজ্যপালের সামনেই বিক্ষোভ দেখানার চেষ্টা করলেন উপদ্রুত এলাকার মানুষ। যদিও বিক্ষোভের আঁচ পুলিশের নিয়ন্ত্রণ পেরিয়ে তা রাজ্যপাল পর্যন্ত পৌঁছয়নি।
[সরকারি বাসে উঠে ভাড়া আদায়, সিউড়িতে হাতেনাতে ধৃত নকল কন্ডাক্টর]
দেখুন ভিডিও:
ছবি : মৈনাক মুখোপাধ্যায়
সর্বশেষ খবর
-
বুনো হাতি পিষেছিল দম্পতিকে, ১৪ বছর পরে সেই ‘যমদূত’ই মারল পরিবারের অন্য দু’জনকে
-
‘ও বরাবরই নোংরা, দোষ করেছে তাই গুলি খেয়েছে’, বারুইপুরে এনকাউন্টারে নিহত স্বামীর প্রতি একরাশ ক্ষোভ স্ত্রীর!
-
ছত্তিশগড়ে পিগ আয়রন কারখানায় ভয়ংকর বিস্ফোরণ, মৃত্যু ৩ শ্রমিকের
-
‘দোষীদের এভাবেই এনকাউন্টার করা হোক’, বারুইপুর কাণ্ডে অভিযুক্তের মৃত্যুতে বলছেন কামদুনির দুই প্রতিবাদী
-
ম্যাচ জিতিয়েও বাঁধ মানছে না কান্না! বিজয়াশ্রু নয়, মেসির চোখের জলের নেপথ্যে অন্য কাহিনি