BREAKING NEWS

৯ আশ্বিন  ১৪২৭  সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

বিধায়কের গাড়িতে লেখা ‘গভ. অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল’, তরজায় শাসক-বিরোধী দল

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: January 11, 2018 4:48 am|    Updated: January 11, 2018 4:48 am

An Images

রাহুল চক্রবর্তী: সামনে লেখা এমএলএ। পিছনে লেখা গভ. অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিধায়ক! রাজ্যের বিধায়কদের গাড়িতে এমন লেখাটা সম্পূর্ণ হাস্যকর, বলছেন বিধানসভার আধিকারিকরা। এমনকী, শাসক ও বিরোধী দলের সদস্যরাও একবাক্যে জানিয়েছেন, ওই ধরনের লেখাটা সম্পূর্ণ ভুল।

রাজ্যে ২৯৪টি বিধানসভা আসন রয়েছে। পাঁচ বছর অন্তর বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিটি কেন্দ্র থেকে জনগণের ভোটে একজন করে বিধায়ক নির্বাচিত হন। রাজ্যের প্রায় সমস্ত বিধায়কের নিজস্ব গাড়ি আছে। অনেকের আবার গাড়ির সংখ্যা একাধিক। বিধানসভার অধিবেশন চললে বিধায়কদের গাড়ির বহর টের পাওয়া যায় খুব ভালভাবে। যেন এমনটা, এ বলে আমায় দেখ। ও বলে আমায় দেখ। হাল ফ্যাশনের স্করপিও বিধানসভার চৌহদ্দিজুড়ে দাঁড়িয়ে থাকে সারি বেঁধে। আর নিত্যনতুন মডেলের চারচাকা নিয়ে বিধানসভায় অহরহ হাজির হতে দেখা যায় বিধায়কদের। এ পর্যন্ত ঠিকই ছিল। কিন্তু আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে উঠল বিধায়কদের গাড়িতে লেখা বিষয়বস্তু নিয়ে। যেখানে ডান-বাম, শাসক-বিরোধী দলের একাধিক বিধায়কের অবস্থা একই। গাড়ির সামনে লেখা এমএলএ আর পিছনে গভ. অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল বা পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মোদ্দা বিষয় হল, রাজ্য সরকারের কোনও বিধায়ক হতে পারে না। মন্ত্রীরা রাজ্য সরকারের সঙ্গে যুক্ত। তাঁরা গাড়িতে গভ. ওফ ওয়েস্ট বেঙ্গল লিখলে মানানসই–বলছেন বিধানসভার আধিকারিকরা।

[১৮৬টি শিখ বিরোধী দাঙ্গায় ফের তদন্তের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের]

কংগ্রেস বিধায়ক মনোজ চক্রবর্তী বলেন, “এমএলএ গভ. অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল কখনওই লেখা যায় না। সরকারের কোনও এমএলএ হয় না। বিধায়করা রাজ্য বিধানসভার সদস্য। না জেনেবুঝেই হয়তো কোনও কোনও এমএলএ গভ. অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল লিখছেন।” প্রায় এক মত তৃণমূল বিধায়ক প্রদ্যোত ঘোষেরও। তিনি বলেন, “বিধানসভার সদস্য হলেন বিধায়করা। আর মন্ত্রিসভায় রয়েছেন বিভিন্ন দপ্তরের মন্ত্রীরা। এমএলএ ওয়েস্ট বেঙ্গল লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলি বা রাজ্য বিধানসভার সদস্য গাড়িতে লিখতে পারেন বিধায়করা। কিন্তু এমএলএ গভ. অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল কথাটা ঠিক না বিধায়কদের ক্ষেত্রে। মন্ত্রীদের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য।” সিপিএম বিধায়ক তন্ময় ভট্টাচার্যর বক্তব্য, “মুশকিল হচ্ছে বিধায়ক ও সরকারের পার্থক্যটা তৃণমূলের বেশকিছু এমএলএ বোঝেন না। ওঁরা ভাবেন, ওঁদের দল যেহেতু সরকার চালায় সেহেতু ওঁরা সকলেই বোধহয় সরকারের অংশ। সরকার একটা প্রতিষ্ঠান আর বিধায়ক একজন জনপ্রতিনিধি, বিধায়ক মানে যে সরকার নয় তা অনেকেই হয়তো বোঝেন না। বিধায়কের কাজ সরকারের ভাল কাজের প্রশংসা আর খারাপ কাজের সমালোচনা করা।” ভাষাবিদ পবিত্র সরকার মনে করেন, “মন্ত্রীরা বাদে গভ. অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল কোনও এমএলএ লিখতে পারেন না। গণতন্ত্রের জায়গাটা বিস্তারিত হওয়ার ফলে যথেষ্ট পরিমাণে প্রশিক্ষণ দরকার বিধায়কদের। সরকারের সঙ্গে বিধানসভার সম্পর্ক, বিধায়কদের কাজকর্ম, এক্তিয়ার, ভাষা ব্যবহার-সহ একাধিক বিষয়ে প্রশিক্ষণ দরকার রয়েছে।” সরকার পক্ষের মুখ্য সচেতক নির্মল ঘোষ জানিয়েছেন, “আমার নজরে এখনও বিষয়টি আসেনি। নজরে এলে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট বিধায়ককে বলব।”

[প্রণব মুখোপাধ্যায়কে সাম্মানিক ডিলিট দেবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়]

তবে ভাষাগত এই সামান্য পার্থক্যকে ‘ভুল’ বলতে নারাজ অনেক বিধায়কই। তাঁরা বলছেন, পশ্চিমবঙ্গে থাকি। জনপ্রতিনিধি হিসাবে এটা লিখতেই পারি। বিধানসভার সচিবালয়ের এক আধিকারিকের কথায়, “গাড়িতে এমএলএ লিখলে স্টেট অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল লেখা উচিত। কখনওই গভ. অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল নয়।”

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement