নন্দন দত্ত, সিউড়ি: বুথে একের পর এক বোমা পড়ছে। আতঙ্কে ভোটের লাইন থেকে পালাচ্ছেন ভোটাররা। চারদিকে আতঙ্কিত মানুষের ছোটাছুটি শুরু হয়ে গিয়েছে। শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ কেন্দ্র মুহূর্তে রণক্ষেত্র। এদিকে বোমার শব্দ বুথের ২০০ মিটারের অদূরে গ্রামের মধ্যেও পৌঁছেছে। নাহ, চুপচাপ বসে থাকেনি প্রমীলা বাহিনী। অশান্তি রুখতে রীতিমতো ‘গুলাব গ্যাংয়ে’র ভূমিকা পালন করলেন গ্রামের মহিলারা। তবে তাতে ভোট লুট যেমন আটকানো যায়নি। তেমনই ভোটকর্মীদের আতঙ্কও দূর করতে পারেননি ‘গুলাব গ্যাংয়ে’র সদস্যরা। তবে সংশ্লিষ্ট বুথে পুনরায় নির্বাচনের দাবি তুলেছেন মহিলারা। ঘটনাস্থল বীরভূমের মহম্মদবাজারের কুলিয়া গ্রামের ১৮ নম্বর বুথ। এই বুথেই সোমবার ভোটগ্রহণ চলাকালীন ব্যালট বাক্স লুট করে নিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। তারপরেই গ্রামের মহিলারাই এগিয়ে আসেন।
[অন্ধকারেও বিরাম নেই, রাত পর্যন্ত ভোট চলল শিলিগুড়ির কয়েকটি বুথে]
পঞ্চায়েত নির্বাচনে একেবারে নতুন রকমের বিরোধিতার মুখে পড়ল দুষ্কৃতীরা। সোমবার গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হতে দেখে সরব হলেনে মহিলারাই। উল্লেখযোগ্য, মহম্মদবাজারের দুটি কেন্দ্র। কুলিয়া গ্রামে বেলা দশটা নাগাদ বিজেপি প্রার্থী ঝুমা বাগদির নেতৃত্বে জনা পনেরোর একটি মহিলা দল গিয়ে ব্যালট বাক্স ছিনতাই করে বাইরে ফেলে দেয় বলে অভিযোগ। তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতির বিজয়ী প্রার্থী শম্পা মাহারার অভিযোগ, তাঁর ব্লাউজ শাড়ি ছিঁড়েছে বিজেপির ওই হামলাকারী মহিলা দল। গ্রাম পঞ্চায়েত প্রার্থী টুম্পা বাগদির দাবি, তাঁদের হেনস্তা করা হয়েছে। ফের ভোট চাই।
কিন্তু ভুতুরা পঞ্চায়েতের জয়পুরের মহিলারা যা করলেন তা দেখে নির্বাক প্রশাসনের। বেলা ১২.৩০ নাগাদ জনা তিরিশের একটি দল কালো কাপড়ে মুখ বেঁধে বুথে ঢোকে। ময়ূরাক্ষীর বালি ঘাট থেকে দলটি বোমা মারতে মারতে আসছিল। ঘটনাস্থলে পৌঁছে সোজা ঢুকে যায় সিবি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। জয়পুরের উলতি বাগদির দাবি, তিনি তখন ভোট কেন্দ্রে ঢুকে ভোটের নাম খুঁজছিলেন। তখনই পচা তাকে টান মারে। বোমা মারতে মারতে স্কুলে ঢুকে পরে অরুণ মাহারা, অচিন্ত্য ঘোষ, সুধা ঘোষের দল। এদিকে বুথে বোমার আওয়াজ পৌঁছাতেই বুথ থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে জয়পুর গ্রামের কালীতলায় জড়ো হন মহিলারা। গ্রামের তুলসী, বাতাসি, ললিতা মাহারার মতো শ’ খানেক মহিলা যে অবস্থায় ছিলেন সেভাবেই বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসেন। হাতে লাঠি খালি পায়েই তাঁরা ছুটে যান বুথের দিকে। প্রমীলা বাহিনীর দাবি, গ্রামের মেয়েরা, স্বামীরা ছেলেরা ভোট দিতে গিয়েছে। তাদের লুট করে নেবে বালি ঘাটের মস্তানেরা। তা তাঁরা মেনে নেবেন না। তাই লাঠি হাতে তাঁদের রুখে দাঁড়াতে হবে। গুলাব গ্যাংয়ের অভিযোগ তৃণমূলের নেতারা পয়সা দিয়ে মস্তান বাহিনী লাগিয়ে এই লুট করিয়েছে। যদিও মহম্মদবাজারের তৃণমূলের কার্যকরী সভাপতি তাপস সিনহা বলেন, ‘আমাদের কেউ ভোট লুট করবে না। বিজেপির লোকেরাই লুট করেছে।’ কিন্তু কুলিয়ার ও ভুতুরা মৌলপুরের মহিলাদের দাবি, ‘আমরা নিজের হাতে নিজে ভোট দিতে চাই। দরকারে আমরাই পাহারা দেব নিজেদের ভোট কেন্দ্র।’
ছবি: বাসুদেব ঘোষ
[ভোটে রক্তাক্ত বনগাঁ, তৃণমূল প্রধানের মাথায় কোপ]
সর্বশেষ খবর
-
১০ দিন গা ঢাকা, খুন-ডাকাতি-তোলাবাজির অভিযোগে পুলিশের জালে রিষড়ার ‘ত্রাস’ কমল!
-
খাস কলকাতায় মামার যৌন লালসার শিকার শিশু! লেকটাউন থানায় দায়ের অভিযোগ
-
সুপ্রিম কোর্টে ‘নাটক’! প্রধান বিচারপতির নামে গালি, কাগজ ছুড়লেন মামলাকারী
-
প্রবল দুর্যোগ পাহাড়ে, প্রাণ বাঁচাতে লোকালয়ে হাতির দল, চিতাবাঘ-সহ বন্যপ্রাণ!
-
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পরিদর্শনের সময় বারাসত হাসপাতালের বারান্দায় বিড়াল, ১২ জনকে শোকজ