চন্দ্রশেখর চট্টোপাধ্যায়, আসানসোল: হাত থেকে হাতি, জামা থেকে টুথব্রাশ। বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রে রয়েছে বহু অদ্ভুত নির্বাচনী প্রতীক। যার যৌক্তিকতা খুঁজতে যাওয়া বৃথা। তবে সব কিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছে ‘প্যান’। হ্যাঁ, বিশ্বাস হচ্ছে না! বেনজির ঘটনাটি পশ্চিমবঙ্গেরই। পঞ্চায়েত ভোটে নির্দল প্রার্থীর প্রতীক পায়খানা থুড়ি ‘পায়খানার প্যান’।
[মাত্র ১০ টাকায় বিকোচ্ছে মরা মুরগি, তদন্তে ফাঁস চাঞ্চল্যকর তথ্য]
পঞ্চায়েত ভোট বারাবনির নির্দল প্রার্থী বিপ্লব দাস। এলাকার উন্নয়নে একাই বাম, ডান, ঘাসফুলের সঙ্গে লড়াইয়ে নেমেছেন তিনি। ঘটা করে প্রচারে নামার পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে বাদ সেধেছে ‘প্যান’। নির্বাচন কমিশন থেকে প্রতীক হিসেবে তাঁকে দেওয়া হয়েছে এই চিহ্নটিই। আর তা নিয়েই বেজায় বিপাকে পড়েছেন বিপ্লব। সক্কাল সক্কাল লোকের সামনে পায়খানার ছবি তুলে ধরলে কী যে হবে তা নিয়ে ভাবনায় পড়েছেন তিনি। ‘শেষমেষ পায়খানা’- এমন কটাক্ষ উড়ে আসছে এদিক ওদিক থেকে। হাসির খোরাক হয়েও গিয়েছেন ইতিমধ্যে। তবে প্রার্থীর সমস্যা নিয়ে মোটেও মাথা ঘামাতে রাজি নয় কমিশন বা সংশ্লিষ্ট দপ্তর। বিডিও অফিসের পালটা যুক্তি, নির্দল প্রার্থীকে স্যানেটারি চিহ্ন দেওয়া হয়েছে। এতে সমস্যার কিছু নেই। বিপ্লববাবু জানান, গ্রাম পঞ্চায়েতের ভোট। তাই গাঁয়ের লোকদের টয়লেট চিহ্নে ভোট দিন বললে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। ইংরাজি শব্দ ব্যবহার করলে সবাই কমোডের ছবি ভাবছেন। আবার গ্রামীণ ভাষাতে বোঝাতে গেলে ‘পায়খানার প্যান’ শব্দটি ব্যবহার করতে হবে। প্রার্থীর মতে দেওয়ালে লিফলেটে ‘পায়খানার প্যান’ কথাটি লিখলে বড্ড বেমানান ও অসম্মানের মনে হচ্ছে। ওই শব্দটি উচ্চারণ করলেই হাসির খোরাক হচ্ছেন তিনি।
বিপ্লব দাস বলেন, “ছবি এঁকে দেওয়ালে শুধু লিখে দেব এই চিহ্নে ভোট দিন। কিন্তু পাড়ার মা মাসিমাদের কাছে কী বলব? রাস্তায় চায়ের দোকান থেকে সর্বত্র চর্চা আর বিনোদনের খোরাক হয়ে দাঁড়িয়েছে ওই প্রতীক চিহ্নটি।” তৃণমূল প্রার্থীর বিরুদ্ধে একমাত্র বিরোধী বিপ্লব দাস। ভোটের আবেদন করলেই নাকে মুখে রুমাল চাপা দিয়ে হেসে ফেলছেন শাসকদলের কর্মীরা। আচ্ছা বিড়ম্বনায় পড়েছেন তিনি। ভোট প্রচারে বেরিয়ে মাঝে মাঝে নিজেই হেসে লুটিয়ে পড়ছেন বিপ্লব।
তবে পরস্থিতির মোকাবিলায় তৈরি তিনি। ‘স্বচ্ছ ভারত অভিযান‘কেই হাতিয়ার করে নিয়েছেন তিনি। ভোটারদের বোঝাচ্ছেন দেশজুড়ে শৌচালয় নিয়ে বিপ্লব শুরু হয়েছে। সেখানে তাঁর প্রতীক উন্নয়নের, সমাজসচেতনতার। বারাবনি তিন নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে শাসক দলের প্রার্থীকে যোগ্য মনে করেন না বিপ্লব।তাই প্রতিবাদী অরাজনৈতিক যুবক নিজেই লড়াইয়ে নেমেছেন। জীবনে প্রথম ভোটে দাঁড়িয়েছেন তিনি। বহু কাঠখড় পুড়িয়ে, লুকিয়ে-চুরিয়ে শাসকের চোখরাঙানি উপেক্ষা করে মনোনয়ন জমা করেছেন। ওই আসনে কোনও বিরোধী দল মনোনয়ন জমা করতে পারেনি সেখানে বিপ্লব একাই রুখে দাঁড়িয়েছেন। আনকোরা হয়েও প্রথম ধাপে তিনি টেক্কা দিয়ে দিয়েছেন রাজনৈতিক দলগুলিকে। তবে সামান্য একটি ভুলের জন্য তাঁর কপালে জোটে পায়খানার প্রতীক। আবেদন পত্রে পছন্দের প্রতীক চিহ্ন লিখতে ভুলে গিয়েছিলেন তিনি। অভিযোগ, মনোনয়ন জমা দিতে পারলেও শাসকদলের কর্মীদের বাধায় প্রতীক চিহ্নের কাগজ তিনি নির্দিষ্ট দিনে জমা দিতে পারেননি।
এই ঘটনায় বারাবনির বিডিও অনিমেষকান্তি মান্না বলেন, “তাঁকে যে চিহ্ন দেওয়া হয়েছে তা লজ্জার নয় গর্বের। সারা দেশ জুড়ে, রাজ্য জুড়ে শৌচালয় নিয়ে সচেতনতার আন্দোলন শুরু হয়েছে। সেই প্রতীক তিনি পেয়েছেন যা দেশের সচেতনতার এখন অন্যতম বার্তাবাহক। ওই প্রার্থীর খুশী হওয়া উচিত।” এদিকে বিপ্লব জানান, এবার প্রচারে নামার পালা। এখনও দেওয়াল লিখন শুরু হয়নি। পোস্টার ব্যানারও তৈরি করেননি। এখন তাঁর চিন্তা প্রতীক চিহ্ন এঁকে ঠিক কী ভাষাতে ভোট আবেদন করবেন। কিন্তু মাঠে নামার আগেই যেভাবে প্রতীকটি নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে তাতে তিনি চিন্তিত।
[দল জিতলে তিনিই প্রধানমন্ত্রী, জানিয়ে দিলেন রাহুল গান্ধী]
সর্বশেষ খবর
-
ট্রাম্পের চাপে লাল কার্ড বাতিল, কিন্তু হ্যারি কেনদের আবেদন খারিজ ফিফার! বিশ্বকাপে ফের বিতর্ক
-
বদলার ম্যাচে নিষ্ফলা মরক্কো, এমবাপে-দেম্বেলে জোড়া ফলায় সেমিফাইনালে ফ্রান্স
-
বিশ্বজয়ের পাঁচ মাসেই পথ হারাল টিম ইন্ডিয়া! আয়ারল্যান্ডের পর ইংল্যান্ডের কাছেও সিরিজ হার শ্রেয়সদের
-
মহারাষ্ট্রে ফের বিরোধী শিবিরে ভাঙন! পওয়ারের ‘অস্থিরচিত্ত’ বিধায়কদের ‘সন্দেহ’ কংগ্রেসের
-
১৬ বছর পর কলকাতা পেল মহিলা ওসি, একসঙ্গে রদবদল ৩৩ ইন্সপেক্টরের