বিপ্লব দত্ত, নদিয়া: নির্দল বড় গেরো! তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর দাপটে নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল হরিণঘাটা বিধানসভার চাকদহ ব্লকের হিংনাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দারা। কোথাও জলে ফেলে দেওয়া হল ব্যালট বাক্স। কোথাও হল অগ্নি-সংযোগ। ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর দাবি, তিনি চাকদহ ব্লকের তৃণমূলের কার্যকরী সভাপতি। যদিও সে পরিচয় অস্বীকার করেছে দল।
[ ভোট শেষ, এখনও ‘গুলাব গ্যাং’ নিয়ে জোর আলোচনা মহম্মদবাজারে ]
ভোট নিয়ে গতকাল অশান্তি শুরু হয় হিংনাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বুথে। অভিযোগ, বাইক বাহিনী এসে দখল করে বুথ। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা ধরে ভোটারদের বুথে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। চলে অবাধে ছাপ্পা। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ আছে বাসিন্দাদের মধ্যে। এরপর স্থানীয় ভোটাররা বুথে ঢুকে ব্যালট বাক্স তুলে এনে জলে ফেলে দেন। তাঁদের দাবি, তাঁদের ভোট বৃথা গিয়েছে। চোখের সামনে যখন ছাপ্পা ভোট দিতেই দেখা গিয়েছে, তখন আর এই ভোটের মূল্য কী! একই ছবি পুরুলিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়েও। একই কায়দায় বুথ জ্যাম করে ছাপ্পা ভোট দেওয়া বলে অভিযোগ। উত্তেজিত জনতা বেশ কয়েকটি ব্যালট বাক্সে আগুন লাগিয়ে দেয়। ছবিটি বদলায়নি মহেশচন্দ্রপুর বটতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বুথেও। সেখানে বাইক বাহিনীর দাপটে ভোটগ্রহণ থমকে যায়। একটা সময় উত্তেজিত হয়ে সাধারণ মানুষ মাঠের মধ্যে ব্যালট বাক্স ছুড়ে ফেলে দেন। পরে প্রশাসনের তরফে সেগুলি উদ্ধার করা হয়। এই অঞ্চলে পুনর্নির্বাচনের সম্ভাবনা আছে।
[ থানার কোয়ার্টারে সাব-ইনস্পেক্টরের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা ]
কিন্তু কারা এই গণ্ডগোল বাধাল? ঘটনায় অভিযোগের তির নির্দল প্রার্থী অনুপ সরকারের বিরুদ্ধে। ব্যালট ছিনতাই-সহ অন্যান্য বেআইনি কাজের জন্য তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আগে কংগ্রেস কর্মী ছিলেন অনুপ। মাস কয়েক আগে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন। দলের টিকিট না পেয়ে বিক্ষুব্ধ হয়ে নির্দল প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এমনকী নিজেকে চাকদহ ব্লকের তৃণমূলের কার্যকরী সভাপতি হিসেবেও দাবি করতেন তিনি। যদিও দলের দাবি, তিনি ওই পদে নেই। হরিণঘাটার বিধায়ক নীলিমা নাগ মল্লিক জানাচ্ছেন, “দল যাকে টিকিট দিয়েছে তাকেই সমর্থন করতে হবে। এর অন্যথা হতে পারে না। অনুপবাবু যা দাবি করেছেন তা ঠিক নয়। তিনি যা কাজ করেছেন তার জন্য পুলিশ যা পদক্ষেপ নেওয়ার নেবে।”
[ নির্দল কাঁটায় বিদ্ধ তৃণমূল, বিরোধিতা করে জিতলেও দলে না ফেরানোর সিদ্ধান্ত মমতার ]
তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় সাফ জানিয়েছেন, দলের সিদ্ধান্ত না মেনে যারা নির্দল হয়ে দাঁড়িয়েছে, তারা জিতলেও আর দলে ফেরানো হবে না। এবং তাতে বোর্ড গঠনে সংকটে পড়লেও নির্দলদের কোনওভাবে দলে নেওয়া হবে না। অনুপের দাবি, তাঁরাই আদি তৃণমূল। দল জায়গা দেয়নি, তাই নির্দল হিসেবে দাঁড়িয়েছে। মানুষ চাইলে তাঁরাই জিতে ফিরবেন। যদিও দল যে এদের দাবি-দাওয়ার সামনে নতিস্বীকার করবে না তা স্পষ্ট। হরিণঘাটার বাসিন্দারা বলছেন, ভোট ঠিকঠাক না হলে পুনরায় নির্বাচন হত। কিন্তু এদিন যে দৃষ্টান্ত তৈরি হল, তা গোটা জেলার জন্যই খারাপ বিজ্ঞাপন হয়ে থাকল।
সর্বশেষ খবর
-
চন্দ্রিমার ইস্তফায় কালীঘাট শিবিরের রাজ্য সভাপতি হন মমতা নিজেই, পালটা নাম ঘোষণা ঋতপন্থী তৃণমূলের
-
গোপনে কোহলির উপর নজরদারি! বিলেতে কারা অনুসরণ করছেন ‘কিং’কে? দুশ্চিন্তায় আরসিবি সতীর্থও
-
‘ডিমথেরাপির’ ভয়ে বাড়িতেই? তৃণমূল বিধায়কের নামে ‘নিখোঁজ’ পোস্টার! চাঞ্চল্য দক্ষিণ হাওড়ায়
-
মেসিদের ম্যাচে রোনাল্ডোর দেশের রেফারি, কার্ড দেখাতে পছন্দ করেন পিনেইরো
-
ফের বৈঠক চাইছে ইরান! যুদ্ধবিরতিকে পাশ কাটিয়ে ট্রাম্প বললেন, ‘আলোচনায় প্রস্তুত আমেরিকা’