সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: হাই কোর্টের রায়ে নতুন মনোনয়ন গ্রহণের দিন ঘোষণা হয়েছে। বাড়তি দিনেও বিক্ষিপ্ত হিংসার ঘটনা ঘটেছে। সিউড়িতে মৃত্যু হয়েছে একজনের। আহত হয়েছেন অনেকে। এর মধ্যেও নতুন কিছু মনোনয়ন জমা পড়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় কমিশনের হিসেব হাজারেরও বেশি নতুন মনোনয়ন জমা পড়েছে। তাহলে এবার কি পঞ্চায়েত ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হবে? এটাই এখন কোটি টাকার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কাছে কিন্তু প্রশ্নের এখনও কোনও জবাব নেই। সোমবার রাত পর্যন্ত তারা জানিয়ে উঠতে পারেনি, পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েত নির্বাচনের জন্য ভোট নেওয়া হবে কোন দিনে। তবে সূত্রের ইঙ্গিত, মঙ্গলবার কমিশন ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করলেও করতে পারে। কিন্তু তা না হওয়া পর্যন্ত পঞ্চায়েত ভোট ঘিরে সংশয়ের বাতাবরণই বহাল। বস্তুত রমজান শুরু হওয়ার আগে আদৌ ভোট করা যাবে কি না তা নিয়েও রয়েছে সংশয়। এদিন মনোনয়ন ঘিরে হিংসা ও অশান্তির প্রতিবাদে বিরোধীরা ফের আদালতে তোড়জোড় শুরু করায় অনিশ্চয়তার পারদ আরও চড়েছে। মঙ্গলবার বিরোধীদের মামলা হাই কোর্টে উঠতে পারে।
[দেওয়াল লিখনে নয়া চমক, ভোট পেতে ‘জয় শ্রীরাম’ই হাতিয়ার গেরুয়া শিবিরের]
এমতাবস্থায় সংকটের নিরসন একমাত্র করতে পারে রাজ্য নির্বাচন কমিশনই। তারা কী করছে? শনিবার কমিশনের দপ্তরে সর্বদল বৈঠকে শাসক-বিরোধী সবপক্ষই রমজানের আগে ভোটপর্ব চুকিয়ে ফেলার পক্ষে মত দিয়েছিল। কিন্তু সূত্রের খবর, ভোটের দিনক্ষণ নিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছনো দূরের কথা, উলটে এনিয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে রীতিমতো সংঘাতের পরিবেশ তৈরি করে ফেলেছে তারা। পরিস্থিতি যা তাতে রাজ্যের সঙ্গে কমিশনের মতানৈক্য ক্রমশ বাড়ছে বলেই জানা যাচ্ছে। কিন্তু রাজ্য সরকারের সঙ্গে কমিশনের মতানৈক্য কী নিয়ে? সূত্রের খবর, শুক্রবার হাই কোর্টের নির্দেশের পরই রাজ্য সরকার ভোটের নতুন তারিখ স্থির করে কমিশনের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছিল। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও নবান্নে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট করে দেন, তাঁর সরকারও চায় যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পঞ্চায়েত ভোটপর্ব চুকিয়ে ফেলতে।
[মনোনয়নে সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলে ফের আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছে বামফ্রন্ট]
এরপর শনিবার ভোটের নতুন দিনক্ষণ চূড়ান্ত করতে পঞ্চায়েত দপ্তরের ওএসডি সৌরভ দাসের সঙ্গে একপ্রস্থ বৈঠকও করেন কমিশনের কর্তারা। বৈঠকে মনোনয়নের সময় নিয়ে দু’পক্ষ সহমতে এলেও ভোটের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা নিয়ে দু’পক্ষের মতপার্থক্য দেখা দেয়। এছাড়াও বৈঠক শেষে সৌরভ দাস সরাসরি মনোনয়ন সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তির জারির কথা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়ে দেন। মনোনয়নের দিনও তিনি কার্যত বলে দেন। তখনও কিন্তু এ সংক্রান্ত কোনও বিজ্ঞপ্তি জারি হয়নি। সূত্রের খবর, এতেই আঁতে ঘা লাগে কমিশনারের। শনিবারের পর রবিবার জেলাশাসক ও রাজ্য পুলিশের ডিজিকে চিঠি লিখে মনোনয়নে সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বলেন কমিশনার। কিন্তু সোমবার বেলা গড়াতেই মনোনয়ন নিয়ে অশান্তির খবর ছড়িয়ে পড়তে থাকে। তারপর থেকেই মুখে কুলুপ এঁটেছে কমিশন। এদিকে কমিশনের শনিবারের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী এদিনই মনোনয়ন শেষ হয়েছে। আর মনোনয়ন শেষ হওয়ার পরও ভোটের দিন ঘোষণা না হওয়ায় চরম বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে সবমহলে।
[ছিল বিজেপি হয়ে গেল তৃণমূল, দেওয়াল লিখনকে ঘিরে অশান্তি দক্ষিণ দিনাজপুরে]
সর্বশেষ খবর
-
নিউটাউনে আদানির হাসপাতালে গরিবদের জন্য বিশেষ পরিষেবা! ভূমিপুজো কবে? জানালেন মুখ্যমন্ত্রী
-
খুনে অভিযুক্ত প্রাক্তন বিডিও প্রশান্ত বর্মন, ফাইল খুলতেই একযোগে তল্লাশি সিট-এসটিএফ-ফরেন্সিকের
-
বারুইপুর এনকাউন্টারের তদন্তে এবার সিআইডি, কী হয়েছিল রাতে? খতিয়ে দেখবেন গোয়েন্দারা
-
দুর্নীতিতে ঝুঁকে গিয়েছে ফিফা, এবার ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তদন্ত দাবি ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যদের
-
ম্যাচে পাঁচ আর্জেন্টিনা রেফারি, গুরুত্বই দিচ্ছেন না এমবাপে