অনেকে ইতিমধ্যে বলতে শুরু করে দিয়েছেন, আমেরিকা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালটা কি কাতার বিশ্বকাপের অ্যাকশন রিপ্লে? মানে, ফাইনালে কি তাহলে ফের আর্জেন্টিনা-ফ্রান্স মুখোমুখি? তার আগে বস্টনে কাতার বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের অ্যাকশন রিপ্লে হতে চলেছে। মানে কোয়ার্টার ফাইনালেই মুখোমুখি ফ্রান্স-মরক্কো।
আফ্রিকার দল হিসাবে গত বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে পৌঁছে বিশ্বফুটবলে আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল মরক্কো। এবার সেই মরক্কোর সঙ্গেই দেখা হয়ে যাচ্ছে কোয়ার্টার ফাইনালে। কিন্তু তার আগে প্রতিপক্ষ মরক্কো নয়। ফরাসি শিবিরে মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে আর্জেন্টিনা।
আরও পড়ুন:
এই পর্যন্ত পড়ে স্বাভাবিক ভাবেই আপনার মনে হতে পারে, এসব কী বলা হচ্ছে? ফাইনালের আগে তো দু’দেশের দেখা-সাক্ষাৎ হওয়ার কোনও সম্ভাবনাই নেই। তাহলে? আসলে প্রতিপক্ষ হিসাবে আর্জেন্টিনা দেশ হিসেবে না খেললেও, ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচটা পরিচালনার ভার পুরোটাই তুলে দেওয়া হয়েছে আর্জেন্টিনার রেফারিদের হাতে। আর যা নিয়ে ম্যাচের আগেই তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে ফরাসি শিবির থেকে।

আগামিকাল বস্টনে ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচে রেফারিদের তালিকাটা একবার দেখে নিই। প্রধান রেফারি-আর্জেন্টিনার ফাকুন্দো তেলো। যাঁকে নিয়েই ফরাসি শিবিরের মূল ক্ষোভ। তবে ফাকুন্দোকে পেয়ে আবার বেজায় খুশি মরক্কো শিবির। গত কাতার বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কো যখন পর্তুগালকে হারিয়ে দিয়েছিল, তখন রেফারি ছিলেন এই আর্জন্টাই ফাকুন্দো। ম্যাচ হেরে পর্তুগিজ ডিফেন্ডার পেপে প্রশ্ন তুলেছিলেন, ‘‘আর্জেন্টিনা যেহেতু বিশ্বকাপে তখনও টিকে রয়েছে, তাহলে কেন আর্জেন্টাইন রেফারি তাদের ম্যাচে দেওয়া হচ্ছে?’’
এবারেও ম্যাচের আগে একই প্রশ্ন তুলে দিয়েছে ফ্রান্স। বিশেষ করে মিশর ম্যাচের পর যেভাবে চারিদিকে প্রচার চলছে, ফিফা সবরকমভাবে ফের মেসিকে বিশ্বকাপ ফাইনালে তুলতে চাইছে। তারপর ফরাসি শিবির ফাকুন্দোর ব্যাপারে রীতিমতো আতঙ্কিত। কারণ, রেফারির ম্যাচ পরিচালনায় কোনওভাবে যদি মরক্কো সুবিধা পেয়ে যায়? তাহলে ভবিষ্যতে সেটা আর্জেন্টিনা দলেরই লাভ।
শুধুই কি প্রধান রেফারি ফাকুন্দোই আর্জেন্টিনার? পুরো রেফারি প্যানেলটাই বাছা হয়েছে আর্জেন্টিনার রেফারিদের নিয়ে। সহকারী রেফারিস গ্যাব্রিয়েল চাদে আর্জেন্টিনার। আরেকজন সহকারী রেফারি, এজেকুয়েল ব্রাইলোভস্কি। তিনিও আর্জেন্টিনার। চতুর্থ রেফারি, ইযাফেল ফ্যালকন পেরেজ। তিনিও আর্জেন্টিনার। ফরাসি কোচ দেশঁ, আপাতত তাঁদের ম্যাচের রেফারি প্যানেল নিয়ে আগ্রহ না দেখালেও, আমেরিকা বিশ্বকাপের মঞ্চে বিষয়টি বড় করে চর্চায় এসেছে আমেরিকা-মরক্কো ম্যাচের প্রেক্ষিতে।
তবে দেশঁ নিজের মতো করে মরক্কো ম্যাচের আগে দলকে তৈরি করছেন। যেরকম ঠিক করেছেন, মরক্কোর বিরুদ্ধেও খেলাবেন ৪-২-৩-১ সিস্টেমে। আর তাতে ড্রেসিংরুমে কিছুদিন ধরে যে বিতর্কিত ইস্যু বয়ে চলেছে, সেটাও চিরতরে বন্ধ করতে চাইছন ফরাসি কোচ। নতুন ফর্মেশনে কোচ ঠিক করেছেন, দলের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে ফ্রি ফুটবলার হিসেবে খেলতে পারবেন। এতদিন উইং থেকে খেলতে পারছিলেন না বলে সাময়িক ক্ষোভ জন্মেছিল এমবারে মনে। দেশঁ মনে করছেন, নতুন সিস্টেমে এমবাপের আর অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।

তবে এই ম্যাচটাকে আরও একটি দিক থেকেও দেখা হচ্ছে। মাঠের ভিতর এমবাপে-হাকিমির লড়াই। এমবাপের গতির অ্যান্টিডোট হচ্ছেন হাকিমি। একটা সময় পিএসজিতে একসঙ্গে খেলার সময় প্রবল বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে দু’জনের মধ্যে। সেই বন্ধুত্বের কথা মনে করিয়ে দিয়ে ম্যাচের আগে এমবাপে বলছেন, হাকিমি আমরা ভাইয়ের মতো। ‘‘বিশ্বের অন্যতম সেরা রাইট ব্যাক বলা যেতে পারে।’’ তারপরেই হেসে ফেলে বলেন, ‘‘জানি, মাঠের ভিতর ও আমাকে এক ইঞ্চিও জায়গা দেবে না। গতবার ওদের হারিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু এবার পরিস্থিতি অনেকটাই আলাদা। মরক্কো এবার ভালোভাবেই তৈরি হয়ে এসেছে। কিন্তু আমরা সেমিফাইনালে যাওয়ার জন্য যা যা করার করব।’’
এ তো গেল মাঠের ভিতরের পরিস্থিতি। কিন্তু মাঠের বাইরের? যেখানে ম্যাচে পুরো রেফারি প্যানেলটাই আর্জেন্টিনার? এমবারের মাছি তাড়ানোর মতো করে বলেছেন, ‘‘কে, কোন দেশের রেফারি, তা নিয়ে আমার বিন্দুমাত্র মাথা ব্যথা নেই। আমার কাজ, মাঠে গোল করে দেশকে জেতানো। রেফারি যে দেশেরই হোক, আমার চিন্তা নেই।’’
কবে আর কে, এমবাপেকে মাঠের ভিতর চিন্তায় ফেলতে পেরেছেন? সেক্ষেত্রে ফরাসি তারকার নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী নিজেই। মরক্কো ম্যাচের আগে শুধু মুডটা ঠিক থাকলেই হল।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘ব্রেন ড্রেন নয়, লক্ষ্য ব্রেন গেইন’, রাজ্যে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তিতে রেকর্ড আবেদনে গর্বিত মুখ্যমন্ত্রী
-
ফ্রিজ হওয়া অ্যাকাউন্ট থেকে বিশেষ শর্তে টাকা তুলতে পারবে কালীঘাট তৃণমূল, নির্দেশ হাই কোর্টের
-
রোগীকে মেয়াদ উত্তীর্ণ স্যালাইন, বছর ঘুরলেও ‘স্বভাব’ বদলাল না, ফের বিতর্কে মেদিনীপুর মেডিক্যাল
-
৫ মাস পরও তাজা বারুদের গন্ধ! খামেনেইয়ের বাড়ির ধ্বংসস্তূপের ভিডিও প্রথমবার প্রকাশ ইরানের
-
সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ভাঙার পরই মেসিকে ফোন ক্লোজের, কী কথা হল দুই কিংবদন্তির?
