সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, দুর্গাপুর: রাম ভরসায় বামেরা নাকি বাম ভরসায় রামেরা? ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত নির্বাচনে শাসকদলের সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে বিজেপি ও বাম দলের মধ্যে ‘রাজনৈতিক সমঝোতা’ নিয়ে প্রবল মতানৈক্য৷ তৃণমূলের সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে রক্তক্ষরণ সামাল দিতে নিচুতলায় যেমন সিপিএম বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়েছে তেমনই তুলনায় জনসমর্থন বেশি থাকলেও সাংগঠনিক দুর্বলতার কারনে তুলনামূলক মনোনয়ন দাখিলে ব্যর্থ বিজেপি ‘জোট’ বেঁধেছে বামেদের সঙ্গেও৷ পশ্চিম বর্ধমান জেলায় ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত নির্বাচনে যেসব আসনে বিজেপি মনোনয়ন দাখিল করতে পারেনি সেই সব আসনে কর্মী, সমর্থকদের নিজেদের বিচারে ‘বিবেক’ ভোট দেওয়ার আবেদন করছে বিজেপি নেতৃত্ব৷ মুখে বামেদের প্রবল সমালোচনা করলেও গোপনে যে ‘সমঝোতা’ হয়েছে তা স্বীকার করে নিয়েছে বিজেপির নিচুতলার কর্মী সমর্থকরাও৷ মূল প্রতিপক্ষ তৃণমূল কংগ্রেসকে ঠেকাতে শেষপর্যন্ত প্রধান রাজনৈতিক শত্রূ সিপিএমের হাত ধরতেও আপত্তি নেই বিজেপির বলে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস৷
[রাজ্যে পঞ্চায়েত হিংসার বলি আরও ১, মালদহে খুন তৃণমূলকর্মী]
পশ্চিম বর্ধমান জেলায় ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত নির্বাচনে গ্রাম পঞ্চায়েতে মোট ৩০১টি আসনে এবার ভোট হচ্ছে৷ সিপিএম লড়ছে ২০৬টি আসনে এবং বিজেপি ১৮৫টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে৷ একইভাবে পঞ্চায়েত সমিতিতে ৬৬টি আসনে ভোট হচ্ছে৷ সিপিএম ৪৪টি ও বিজেপি ৩৭টি আসনে লড়ছে৷ জেলা পরিষদের নির্বাচন হতে যাওয়া ১৬টি আসনের মধ্যে সিপিএম ১৪টি ও বিজেপি ১২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে৷ যেসব আসনে তৃণমূলের সঙ্গে সরাসরি লড়াই হচ্ছে সিপিএমের সেই সব আসনে বিজেপির ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে৷ সিপিএম যেমন সরকারিভাবে তারা যে সব আসনে অনুপস্থিত সেইসব আসনে তাদের কর্মী, সমর্থকদের ভোটদানে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে৷ পাশাপাশি সাংবিধানের মৌলিক অধিকারের দোহাই দিয়ে জোর করে ভোটদানে বিরত করা যাবে না বলেও আগ বাড়িয়ে বিজেপির পক্ষে বাহানা তৈরি করেই রেখেছে৷ একইভাবে বিজেপিও তাদের ঘুঁটি সাজিয়েছে৷ একই কৌশল৷ বিজেপিও এক্ষেত্রে তার কর্মী বা সমর্থকদের বিবেক ভোট দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে৷ তৃণমূলের দাবি, আসলে ‘বিবেক’ ভোটের আড়ালে সিপিএমকেই সমর্থনের কথা বলছে তারা৷ এইভাবেই নিজেদের সাংগঠনিক দুর্বলতা ঢাকতে সিপিএমের সুবিধা করে দিতে চাইছে তারা৷
[নির্বাচনী প্রচারে এসে বিক্ষোভের মুখে পড়ে মেজাজ হারালেন দিলীপ ঘোষ]
বিজেপির পশ্চিম বর্ধমান জেলার সভাপতি লক্ষ্মণ ঘোড়ুই জানান, “তৃণমূল মূল শত্রু৷ কিন্তু সিপিএম তৃণমূলের থেকেও বেশি ক্ষতিকারক৷ সিপিএম বাংলার ভবিষ্যত নষ্ট করেছে৷ দেশদ্রোহি তারা৷ যে সব আসনে আমরা নেই সেখানে নির্দল প্রার্থী থাকলে আমরা তাঁদের ভোট দেব৷ না হলে ভোটদানে বিরত থাকবে বিজেপির কর্মী সমর্থকরা৷ প্রয়োজনে এলাকাভিত্তিক বিচার করে ভোট দেওয়া হবে৷’ সিপিএম ও বিজেপির এই ‘বিবেক’ ভোটকে কেন্দ্র করেই বিতর্ক তুঙ্গে৷ এই রাজ্যে বিজেপির রাজনৈতিক শত্রু তৃণমূল ও সিপিএম৷ আবার সিপিএমের মূল প্রতিপক্ষ বিজেপিই৷ কিন্তু ভোটের রাজনীতিতে দুই দলই প্রকাশ্যে না হলেও তৃণমূলকে ঠেকাতে এক জায়গায় হাতও মিলিয়েছে৷ এই দ্বিচারিতাই হয়তো আগামিদিনে ভিন্ন রাজনৈতিক জোটের জন্ম দেবে বলে ওয়াকিবহাল মহলের মত৷
সর্বশেষ খবর
-
ট্রাম্পের চাপে লাল কার্ড বাতিল, কিন্তু হ্যারি কেনদের আবেদন খারিজ ফিফার! বিশ্বকাপে ফের বিতর্ক
-
বদলার ম্যাচে নিষ্ফলা মরক্কো, এমবাপে-দেম্বেলে জোড়া ফলায় সেমিফাইনালে ফ্রান্স
-
বিশ্বজয়ের পাঁচ মাসেই পথ হারাল টিম ইন্ডিয়া! আয়ারল্যান্ডের পর ইংল্যান্ডের কাছেও সিরিজ হার শ্রেয়সদের
-
মহারাষ্ট্রে ফের বিরোধী শিবিরে ভাঙন! পওয়ারের ‘অস্থিরচিত্ত’ বিধায়কদের ‘সন্দেহ’ কংগ্রেসের
-
১৬ বছর পর কলকাতা পেল মহিলা ওসি, একসঙ্গে রদবদল ৩৩ ইন্সপেক্টরের