৩ মাঘ  ১৪২৮  সোমবার ১৭ জানুয়ারি ২০২২ 

READ IN APP

Advertisement

দ্বিতীয় ফরাক্কা ব্রিজ গড়বে রাজ্য

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: May 1, 2017 5:55 am|    Updated: May 1, 2017 5:55 am

West Bengal Government to construct mega bridge over Ganges

কিংশুক প্রামাণিক: এবার ফরাক্কায় নতুন ব্রিজ৷ দেশের অন্যতম বড় সেতুর একটি হতে চলেছে বাংলায়৷ যদিও ব্যারেজ হিসাবে ফরাক্কা এখনও দেশের বৃহত্তম৷ বর্তমান ব্যারেজ থেকে আরও খানিকটা পূর্বে গঙ্গার উপর এই নতুন ছয় লেনের ব্রিজ তৈরি হবে৷ ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের এক্সপ্রেসওয়ে নতুন ব্রিজের মাধ্যমে সংযুক্ত করবে দুই বঙ্গকে৷ ফরাক্কা থাকবে ব্যারেজ হিসাবেই৷ ভারী যান চলাচল করতে আর দেওয়া হবে না৷ পরিকল্পনা চূড়ান্ত৷ নকশা তৈরি হচ্ছে৷ গ্লোবাল টেন্ডার ডেকে কাজটি হবে বলে রাজ্যের পূর্ত সচিব ইন্দিবর পাণ্ডে জানিয়েছেন৷ তিনি বলেন, “ফরাক্কা ব্যারেজ থেকে আরও খানিকটা নিচের দিকে গঙ্গার উপর এই সেতুটি গড়ার পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য সরকার৷ এই সেতু হলে যান চলাচলের সমস্যা মিটে যাবে৷ বর্তমান ব্রিজটি আরও বড় করা যাবে না৷ তাই নতুন ব্রিজ গড়ার প্রস্তাব নিয়েছি আমরা৷”

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের দায়িত্ব নিয়ে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ করিয়েছেন৷ এর মধ্যে রয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরের ভসরাঘাট সেতু৷ নির্মাণের কাজ চলছে উত্তরবঙ্গে তিস্তা নদীর উপর জয়ী সেতুর৷ এবার তাঁর ভাবনায় দ্বিতীয় ফরাক্কা ব্রিজ৷ ঘটনাচক্রে মমতা মঙ্গলবার মালদহে আসছেন৷ মালদহ ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার প্রশাসনিক বৈঠক ও উপভোক্তাদের পরিষেবা প্রদান কর্মসূচি এই পর্বে সারবেন তিনি৷ ঐতিহাসিক এবং অবশ্যই দেশভাগের পর ভৌগোলিক কারণে ফরাক্কা ব্যারেজ গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ভারত সরকার৷ এটি দেশের বৃহত্তম ব্যারেজ৷ কোথায় ব্যারেজটি করা হবে তা নিয়ে বারবার স্থান পরিবর্তিত হয়৷ কারণ রাজমহল পাহাড় সংলগ্ন এলাকা হওয়ায় পাথুরে মাটির জন্য কাজ করা সম্ভব হচ্ছিল না৷ তখন ফরাক্কা থেকে ওপারে যাওয়ার জন্য স্টিমারই ছিল ভরসা৷ শেষ পর্যন্ত ওই স্থানটি চূড়ান্ত হয়৷ ব্যারেজ ঘিরে গড়ে তোলা হয় উপনগরী৷ ফিডার ক্যানাল তৈরি করে আলাদা চ্যানেলের মাধ্যমে ৪৫ কিলোমিটার দূরে ভাগীরথীতে জল ফেলা হয়৷ যে ক্যানেল এখন আমাদের প্রধান ভরসা৷ গঙ্গা বেঁচে আছে এই ক্যানালের জন্য৷

[মুখ্যমন্ত্রীকে কুরুচিকর ভাষায় আক্রমণ বিজেপি নেতার, নিন্দার ঝড় সর্বত্র]

ফরাক্কা ব্যারেজটি দৈর্ঘ্যে প্রায় ২২৪০ মিটার অর্থাত্‍ ৭৩৫০ ফুট৷ অর্থাত্‍ সমুদ্রপিষ্ট থেকে দার্জিলিংয়ের যত উচ্চতা তার থেকেও বেশি দৈর্ঘ্যের ব্যারেজ৷ এর চেয়েও বড় হবে নতুন ব্রিজটি৷ মূলত ফরাক্কা ব্যারেজের উপর চাপ কমাতে ও যান চলাচল দ্রুত করতে এই নতুন ব্রিজ গড়ার সিদ্ধান্ত৷ তাছাড়া ব্যারেজের বয়স বাড়ছে৷ ভারী যান চলাচলের ভার নেওয়ার ক্ষমতা কমছে৷ প্রবল চাপের ফলে লক গেটও ভাঙছে বলে সমীক্ষা করে দেখা গিয়েছে৷ এই সব কারণে পুরনো ব্রিজটির এক্সটেনশনও সম্ভব নয়৷ তাই সব দিক বিবেচনা করেই ফরাক্কার উপর নতুন ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা৷ বর্তমানে ব্যারেজের এক পাশ দিয়ে রেললাইনও রয়েছে৷ নতুন ব্রিজে রেললাইনও থাকবে কি না, তা জানা যায়নি৷

১৯৬১ সালে এই প্রকল্পের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছিল৷ ১৯৭৫ সালে ফরাক্কা ব্যারেজ নির্মাণের কাজ শেষ হয়৷ সেই সময় প্রকল্পের খরচ হয়েছিল ১৫৬.৪৯ কোটি টাকা৷ ১০৯টি লক গেটের উপর ব্যারেজ ও ব্রিজটি নির্মিত হয়৷ সেই অর্থে এটি ছিল দেশের ইউনিক প্রজেক্ট৷ উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের সংযোগ ছাড়াও এই ব্যারেজ গড়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল দক্ষিণবঙ্গে গাঙ্গেয় অববাহিকাকে বাঁচানো৷ কারণ, এই অংশের কৃষি পুরোপুরি গঙ্গার উপর নির্ভরশীল৷ দেশভাগের পর ফরাক্কায় বাঁধ নির্মাণ জরুরি হয়ে ওঠে৷ তা না হলে কৃষিকে রক্ষা করা যেত না৷ পাশাপাশি বন্যা নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্য ছিল৷ ফরাক্কা ব্যারেজের অদূরে ধুলিয়ানের কাছে গঙ্গার মূল ধারা পদ্মা নাম নিয়ে বাংলাদেশে চলে গিয়েছে৷ অন্য অংশ তুলনায় অনেক ছোট ভাগীরথী নাম নিয়ে মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, বর্ধমান, হুগলি, হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুর হয়ে চলে গিয়েছে সাগরে৷ ব্যারেজ নির্মাণের পর ভাগীরথীর মূল ধারাটি সিল করে দেওয়া হয়৷ বদলে জল এনে ফেলা হয় ফিডার ক্যানালের মধ্য দিয়ে৷

নতুন এই প্রকল্পটি হলে এক্সপ্রেসওয়েতেও গতি আসবে৷ ব্যারেজের উপর ট্রাফিক জ্যাম লেগেই থাকে৷ ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় চলে যায়৷ ফরাক্কা থেকে মালদহ বাইপাস গড়ার কাজ চলছে৷ সেটি যুক্ত হবে নতুন ব্রিজের সঙ্গে৷ এখন মালদহ পেরনো দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে৷ প্রতিদিন যানজট৷ প্রকল্প শেষ হলে কলকাতা থেকে উত্তরবঙ্গ হাতের মুঠোয় চলে আসবে৷ নতুন প্রকল্পের ব্যয় কত? কেন্দ্র দায়ভার বহন করবে কি না, এই নিয়ে প্রশ্নে পূর্ত সচিব জানিয়েছেন, সময়ে সব হবে৷ রাজ্যের স্বার্থে এই প্রকল্প দরকার৷

[প্রতিবেশী দেশগুলিকে ‘সাউথ এশিয়া স্যাটেলাইট’ উপহার মোদির, নেবে না পাকিস্তান]

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে