BREAKING NEWS

৯ আশ্বিন  ১৪২৭  রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার নয়: শিক্ষক-গবেষকও হতে চায় উচ্চমাধ্যমিকের কৃতীরা

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: May 16, 2016 5:37 pm|    Updated: May 16, 2016 5:37 pm

An Images

সংবাদ প্রতিদিন ব্যুরো:  হয় ইঞ্জিনিয়ার নয়তো ডাক্তার- এই ট্র্যাডিশন ভেঙে এবার উচ্চমাধমিকের সেরা হওয়া অনেকেই শিক্ষক বা গবেষক হতে চায়৷ কারণ, শিক্ষক হলে সমাজ গড়ার কারিগর হওয়ার পাশাপাশি মিলবে সুরক্ষিত ভবিষ্যতের হাতছানি৷ আর গবেষক হলে পাওয়া যাবে অজানা নতুনত্বের স্বাদ৷ এর ছোঁয়া পেতেই এই ঝোঁক বলে মনে করছেন সবাই৷ যেমন প্রথম হওয়া কলকাতায় পঞ্চসায়র শিক্ষা নিকেতনের স্বাগতম হালদার এমনটাই মনে করে৷ স্বাগতম ২০১৪ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষায় রাজ্যে নবম হয়েছিল৷ সোমবার ফল প্রকাশের পরই সে জানাল ভবিষ্যতে ইঞ্জিনিয়ারিং-এর উপর গবেষণা করতে৷ একই ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন দ্বিতীয় হওয়া কোচবিহারের জেনকিন্স হাইস্কুলের নভোনীল দেব কিংবা দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট হাইস্কুলের স্বর্ণাভ নন্দী, বাঁকুড়া জেলা স্কুলের দেবজ্যোতি চট্টোপাধ্যায়রা৷ এঁদের পথেই হেঁটেছেন কলকাতার সেন্ট লরেন্স হাইস্কুলের সৌম্যদীপ দাস ও অমর্ত্য চৌধুরি৷ আর শিক্ষকতাকে পেশা হিসাবে নেওয়ার কথা জানিয়েছে নবম হওয়া উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া হাইস্কুলের রূপায়ণ সাহা৷ ২০১৪-র মাধ্যমিকেও সে নবম হয়েছিল৷

স্বাগতম জানিয়েছে, মা পদার্থবিদ্যার শিক্ষিকা হওয়ার সুবাদে পদার্থ বিদ্যা ও ফিজিক্যাল ওয়ার্ল্ডের প্রতি ছোটবেলা থেকেই তাঁর একটা প্রচণ্ড ঝোঁক রয়ে গিয়েছে৷ তবে ভবিষ্যতে চায় আইআইটি পাস করে ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে গবেষণা করে জীবনে সাফল্য পেতে৷ কারণ হিসাবে তাঁর ব্যাখ্যা, ফিজিক্স বা ফিজিক্যাল ওয়াল্ড নিয়ে গবেষণা করা বা প্রচুর পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে৷ কিন্তু অর্থ আয়ের দিক থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং অনেক বেশি সুরক্ষিত পেশা বলে দাবি স্বাগতমের৷ আর তাই ইঞ্জিনিয়ারিং-এর দিকে ঝোঁক বলে দাবি তাঁর৷ স্বাগতমের সঙ্গে সহমত কোচবিহার জেনকিন্স হাইস্কুলের নভনীল দেব৷ বাবা বিএসএনএল কর্তা তপনকুমার দেব আর মা তৃণা দেব৷ বিরাট কোহলি এবং অরিজিত্‍ সিং-এর অন্ধ ভক্ত নভোনীল এক সময় রাজ্যে বৃত্তি পরীক্ষায় ত্রয়োদশ স্থান দখল করেছিল৷ বিটলস প্রিয় নভোনীলের চাপমুক্ত হওয়ার অন্যতম সেরা উপায় গিটার বাজানো৷ আইআইটিতে ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে ভবিষ্যতে গবেষণার পথে হাঁটতে চায় নভোনীল৷ এদিন উত্তরবঙ্গের উচচমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের মধ্যে সেরা হওয়ার সুবাদে তাঁর বাড়িতে দেখা করতে আসেন কোচবিহারের বিদায়ী বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ ঘোষ৷ তাঁর মাধ্যমেই ফোনে নভনীলকে শুভেচ্ছা জানান শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়৷ সেরাদের প্রায় সবাই আগামী ২৪ মে-র জয়েন্ট পরীক্ষায় বসতে চলেছে৷ তাই তাঁরা কেউই ভাল ফল করেও এখনই আনন্দের বন্যায় ভেসে যেতে নারাজ৷ সবাই জয়েন্টে ভাল করার জন্য দিনরাত এক করে পড়াশোনা করে চলেছে৷

বীরভূম জেলা স্কুলের সুহৃদ কর সিউড়ির রবীন্দ্রপল্লির বাসিন্দা৷ বাবা রবীন্দ্র কর সমবায় ব্যাঙ্কের ও মা রাজ্য স্বাস্হ্য দফতরের কর্মী৷ সুহৃদ অবশ্য এই ঝোঁক থেকে নিজেকে আলাদা করে নিয়েছে৷ সে ট্রাডিশনাল পথে হেঁটেই চায় ভবিষ্যতে ডাক্তার হতে৷ সুহৃদের পথেরই পথিক হতে চায় বালুরঘাট উচচ বিদ্যালয় থেকে রাজ্যে দ্বিতীয় হওয়া স্বর্ণাভ নন্দী৷ সেও চায় ডাক্তার হতে৷ স্বাগতমের মতো ২০১৪-র মাধ্যমিকে দশম হওয়া বর্ধমানের ভাতার মাধব পাবলিক হাইস্কুলের ঋত্বিক পাল এবার উচ্চমাধ্যমিকে পঞ্চম স্থান দখল করেছে৷ সেও চায় স্বর্ণাভ, সুহৃদদের মতো ডাক্তার হতে৷ তবে বালুরঘাট উচচ বালিকা বিদ্যালয় থেকে নবম ও দশম হওয়া অর্ঘমা সরকার ও সংযুক্তা ঘোষরা চায় পড়াশোনার পাশাপাশি প্রশাসনিক বা শিক্ষকতাতে ভবিষ্যতের পেশা হিসাবে গ্রহণ করতে৷ কারণ, ওঁরা জানায়, নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসার সুবাদে তাঁদের আর্থিক ক্ষমতা সীমিত৷ তাই আইআইটি বা চিকিৎসা নিয়ে তাঁদের পক্ষে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়৷ সেজন্যই তাঁরা কেউ চায় ডব্লুবিসিএস, আইএএস ইত্যাদি নিয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি সমাজকে প্রতিদান হিসাবে কিছু ফিরিয়ে দিতে৷ সেজন্য প্রয়োজনে শিক্ষকতাকে পেশা হিসাবে গ্রহণ করতে পিছপা নয় এঁদের অনেকেই৷ উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া হাইস্কুলের নবম হওয়া রূপায়ণ অঙ্ক ও পদার্থবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা করে শিক্ষকতাকে পেশা হিসাবে নিতে চায়৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement