টিটুন মল্লিক ও দয়াময় বন্দ্যোপাধ্যায়: দলীয় প্রার্থীদের নিয়ে মনোনয়ন জমা দিতে এসে তুমুল বিক্ষোভের মুখে পড়লেন বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী-সহ অন্যান্য বাম নেতারা। বাঁকুড়ার জেলাশাসকের দপ্তরে মিছিল করে আসছিলেন বাম প্রার্থীরা। নেতৃত্বে ছিলেন সুজন চক্রবর্তী, অমিয় পাত্র, রাজ্য কমিটির সদস্য সুজয় চক্রবর্তীর মতো নেতারা। অভিযোগ, সেই মিছিল বাঁকুড়া শহরের এসবিআই মোড়ের কাছে আসতেই তাতে হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। অভিযোগ, তির-ধনুক-লাঠি নিয়ে জয় শ্রীরাম ধ্বনি তুলে দুষ্কৃতীরা হামলা চালায়। সিপিএম কর্মী-সমর্থকদের বেধড়র মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। আহত হন সাত বামকর্মী-সহ সুজয় চক্রবর্তীও। সুজনবাবুর অভিযোগ, তৃণমূল ও বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই এই হামলা চালিয়েছে। পুলিশ নাকি নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। এদিন গন্ডগোলের জেরে বাম প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দিতে না পেরে পার্টি অফিসে ফিরে যান বলে জানা গিয়েছে।
[বাঁকুড়ায় সিসিটিভি ক্যামেরার মুড়ে দেওয়া হল ডিএম ও এসডিওর দপ্তর লাগোয়া এলাকা]

প্রসঙ্গত, পঞ্চায়েক ভোটে মনোনয়ন জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে জেলা জেলায় সংঘর্ষ, গন্ডগোলের অভিযোগ উঠছে। সর্বত্রই বিরোধীরা শাসকদলের কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলছেন। তবে বাদ যাচ্ছেন না বিরোধীরাও। বিজেপি-সহ বাম, কংগ্রেসের বিরুদ্ধেও গন্ডগোলের অভিযোগ উঠেছে জেলায় জেলায়। শুক্রবারই বাঁকুড়ায় দুষ্কৃতীদের হাতে আক্রান্ত হন বিজেপির রাজ্য সম্পাদক রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ জেলা স্তরের কয়েকজন নেতা। শনিবার সুজন চক্রবর্তীদের মিছিলেও হামলা চালানোর অভিযোগে সরগরম বাঁকুড়া। সিপিএমের অভিযোগ, শাসকদল ও বিজেপি দুষ্কৃতীদের টাকা দিয়ে, মুড়ি-আলুর দম খাইয়ে বিভিন্ন জায়গায় হামলা চালাতে বলছে। তবে এদিন বামেদের মিছিলে হামলা চালানোর সময় দুষ্কৃতীরা জয় শ্রীরাম ধ্বনি দিচ্ছিল। তাতে অনেকে বিজেপির ষড়যন্ত্র দেখছে। অভিযোগ, গোটা ঘটনায় পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকায় ছিল।
[অশান্ত মালবাজারে বন্ধ দোকানপাট, ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত]

এদিকে, বাঁকুড়ার ইন্দপুরে অস্ত্র নিয়ে মনোনয়ন জমা দিতে আসার অভিযোগে বিজেপির জেলা সম্পাদক লক্ষ্মণ মণ্ডলের ছেলে রাহুল মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, লক্ষ্মণ মণ্ডলের স্ত্রী শীলা মণ্ডল ইন্দপুর ৯ নম্বর সংসদের বিজেপি প্রার্থী হয়েছেন। শুক্রবার মায়ের সঙ্গে মনোনয়ন জমা দিতে আসার সময় অস্ত্র নিয়ে মিছিল করার অভিযোগে ওঠে রাহুলের বিরুদ্ধে। তৃণমূলের জেলা সহ-সভাপতি ও ইন্দপুর-ছাতনায় দলের পর্যবেক্ষক শুভাশিস বটব্যালের অভিযোগ, বিজেপি কর্মীরা অস্ত্র নিয়ে এলাকায় সন্ত্রাস করছে। মনোনয়ন জমা দিতে আসছে অস্ত্র নিয়ে। যদিও রাহুলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাবা লক্ষ্মণ মণ্ডল। বলেছেন, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই এলাকায় সন্ত্রাস ছড়াচ্ছে। বিজেপি প্রার্থী যাতে মনোনয়ন জমা দিতে না পারে পরিকল্পিতভাবে তৃণমূল পুলিশকে দিয়ে কর্মীদের গ্রেপ্তার করাচ্ছে।
[দুষ্কৃতীদের মারে আহত সিপিএম কর্মীর অবস্থা আরও সংকটজনক]
সর্বশেষ খবর
-
আলিয়ার মতো ফিট থাকতে চান? ‘আলফা’ লুকের এই ৭ ব্যায়াম আপনিও করতে পারেন
-
ইটিএফ না মিউচুয়াল ফান্ড, বিনিয়োগের জন্য কোনটি বাছবেন? জেনে নিন বিস্তারিত
-
পরকীয়ার জের? ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তোলার পর নিখোঁজ, পরে ক্লাবে মিলল বধূর দেহ!
-
ইজরায়েলের হানায় প্যালেস্টাইনের গোলরক্ষকের মৃত্যু! এখনও নীরব কেন ফিফা? চরমে বিতর্ক
-
আর্থিক অনটন? সংসারে ফিরবে মা লক্ষ্মীর কৃপা, ঘরে রাখুন মাটির তৈরি এই জিনিসগুলি