নন্দন দত্ত, সিউড়ি: চতুর্থদিনের মনোনয়ন পর্বেও বীরভূমে অশান্তি অব্যাহত রইল। বৃহস্পতিবার সকালে মনোনয়ন শুরু হতে না হতেই ধুন্ধুমার নলহাটির এক ও দুই নম্বর ব্লক। এক নম্বর ব্লকে বিডিও অফিস খুলতেই পাঁচ পাঁচটি বোমা পড়ে। বহিরাগত দুষ্কৃতীরাই এই কাজ করেছে বলে অভিযোগ। একই সঙ্গে নলহাটি দুই নম্বর ব্লকের বিডিও অফিস ঘিরে রেখেছে দুষ্কৃতীরা। এমনই অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। লাঠি হাতে রীতিমতো পাহারা চলছে। এদিন নলহাটিতে কংগ্রেস ও সিপিএমের যোথভাবে মনোনয়ন জমা দেওয়ার কথা ছিল। তার আগেই বিডিও অফিসের সামনে বোমাবাজি শুরু হয়ে যায়। বোমাবাজি দেখে বিরোধীদের কেউ বিডিও অফিসে ঢোকার সাহস দেখায়নি। বিরোধীদের অভিযোগ, তাঁদের মনোনয়ন তুলতে না দেওয়ার জন্য শাসকদল গ্রামে গ্রামে বহিরাগত দুষ্কৃতীদের জড়ো করেছে। যদিও বিরোধীদের এহেন অভিযোগ অস্বীকার করেছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব।
[বিজেপির বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে তৃণমূল, পার্থদের তলব রাজ্যপালের]
অন্যদিকে এদিন মুরারই এক নম্বর ব্লকে সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রামচন্দ্র ডোমের নেতৃত্বে মনোনয়ন জমা দেওয়ার কথা ছিল বিরোধীদের। হাজার খানেক কর্মী সমর্থক নিয়ে সিপিএম ও অন্য বিরোধীরা বিডিও অফিসে যাওয়ার চেষ্টা করে। অভিযোগ, ব্লক অফিসে যাওয়ার পথেই তাদের উপরেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। বহিরাগত দুষ্কৃতীদের হামলার জেরে আহত হয়েছেন রামচন্দ্র ডোম সহ-অনেকেই। আহতের তালিকায় রয়েছেন আঘাত লাগে সিপিএমের সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য দুকড়ি রাজবংশী। মাথায় চোট পেয়েছেন রামচন্দ্র ডোম। দুকড়ি রাজবংশীর হাতে আঘাত লেগেছে। সবমিলিয়ে সিপিএমের ১৫ জন কর্মী সমর্থক আহত হয়েছেন। এদিন নলহাটি এক নম্বর ব্লকের বিডিও অফিসে যাওয়ার সময় সিপিএমের মিছিলকে তির ধনুক হাতে নেতৃত্ব দিল সাঁওতালরা।
একইভাবে বৃহস্পতিবার ময়ূরেশ্বর দুই নম্বর ব্লকে কোটাসুর বিডিও অফিসের সামনে লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে পড়ে দুষ্কৃতীরা। ফলে গত তিনদিন যেখানে নিশ্চিন্তে মনোনয়ন হয়েছে, সেই ময়ুরেশ্বর দুই নম্বর ব্লকেই এদিন অশান্তির মেঘ দেখা যায়। এক কথায় মনোনয়নকে কেন্দ্র করে গত চারদিনেই উত্তপ্ত বীরভূম। বিরোধীদের তরফে অভিযোগ, মূলত রামপুরহাট মহকুমার প্রায় সব ব্লকই এখন তৃণমূলের দকে। তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা বিডিও অফিসগুলি দখল করে রেখেছে। সকাল থেকেই বোমার আওয়াজে কান পাতা যাচ্ছে না, নলহাটি এক নম্বর ব্লক লাগোয়া এলাকায়। যদিও সিপিএমের রামচন্দ্র ডোম, জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক শুভাশিস চৌধুরি, কংগ্রেসের বিধায়ক মিলটন রশিদ শান্তিপূর্ণ মনোনয়নের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও তাঁরা ক্ষুব্ধ। তাঁরা জানিয়েছেন, পুলিশ প্রশাসনকে আরও সক্রিয় ও নিরপেক্ষ ভূমিকা নিতে হবে।
[পঞ্চায়েত ভোটের প্রথম বলি বাঁকুড়ায়, দুষ্কৃতী হামলায় মৃত বিজেপি নেতা]
যদিও মনোনয়ন নিয়ে গন্ডগোল ও বাধা দেওয়ার অভিযোগ মানতে চাননি রামপুরহাটের তৃণমূলের পর্যবেক্ষক ত্রিদিব ভট্টাচার্য। তিনি জানান, কোথাও তৃণমূলের পক্ষ থেকে কাউকে বাধা দেওয়া হয়নি। মনোনয়ন পর্বকে বানচাল করতে বরং বিরোধীরা একজোট বেধেছে।
সর্বশেষ খবর
-
ইটিএফ না মিউচুয়াল ফান্ড, বিনিয়োগের জন্য কোনটি বাছবেন? জেনে নিন বিস্তারিত
-
পরকীয়ার জের? ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তোলার পর নিখোঁজ, পরে ক্লাবে মিলল বধূর দেহ!
-
ইজরায়েলের হানায় প্যালেস্টাইনের গোলরক্ষকের মৃত্যু! এখনও নীরব কেন ফিফা? চরমে বিতর্ক
-
আর্থিক অনটন? সংসারে ফিরবে মা লক্ষ্মীর কৃপা, ঘরে রাখুন মাটির তৈরি এই জিনিসগুলি
-
আসানসোল পুরবোর্ড ভেঙে দিল রাজ্য, প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বে প্রাক্তন পুর কমিশনার অদিতি চৌধুরী