৪ আশ্বিন  ১৪২৭  বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

জোটের ফানুস ফুটো, কংগ্রেসের ভোট এল না বামে

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: May 19, 2016 6:35 pm|    Updated: May 20, 2016 3:53 pm

An Images

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: নির্বাচনের কয়েক মাস আগে কংগ্রেস-সিপিএম হাতে হাত মিলিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে প্রভাব ফেলার পরিকল্পনা ছকলেও বৃহস্পতিবার বেলা গড়াতেই স্পষ্ট হয়ে গেল জোটের পথে হেঁটে কার্যত ‘হারাকিরি’ করেছে বামেরা৷ এদিন বিপর্যয়ের খবর আসতে বেলা সাড়ে দশটা নাগাদ আলিমুদ্দিন থেকে বেরিয়ে যান বামফ্রণ্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু৷ সাংবাদিকদের কাছে বিস্ফোরক মন্তব্য করে বলেন, “জোট নয়, জট হয়েছিল৷ জোট যদি হত, তা হলে একজন আহ্বায়ক থাকতেন৷ একটা কমিটি হত৷ সেসব কিছুই হয়নি৷ তাই এটা জোট নয়, জট৷” প্রাথমিক ফল বিশ্লেষণের পর যে পরিসংখ্যান মিলছে তাতে এই জোটে লাভবান হয়েছে এরাজ্যে কার্যত সাইনবোর্ড হয়ে যাওয়া কংগ্রেস৷ তারা পেয়েছে ৪৪টি আসন৷ বামেরা সবমিলিয়ে ‘মাত্র’ ৩২৷ ধোপে টিকল না দুর্নীতির অভিযোগ, কাজে এল না সারদা-নারদা যোগ বা জোট! ২৯৪ এর মধ্যে ২১১টি আসন জিতে আগামী ২৭ মে রেড রোডে শপথ নেবেন মমতা ও তাঁর মন্ত্রীরা৷

বেলা যত গড়িয়েছে ততই স্পষ্ট হয়েছে, নিজেদের ভোটব্যাঙ্ক বামেরা ধরে রাখতে তো পারেইনি, উল্টে বামেদের ঘাড়ে চেপে কংগ্রেস রাজ্যে নিজেদের গড় অক্ষত রাখতে পেরেছে৷ বাড়িয়েছে নিজেদের ভোট শতাংশের হিসাবও৷ এখানেই স্পষ্ট, বামেদের ভোট কংগ্রেসের ঝুলিতে গিয়েছে৷ সে কথা বাম কর্মী-সমর্থকদের একাংশ ঠারেঠোরে স্বীকারও করে নিয়েছেন৷ ফলাফলের ট্রেন্ডে স্পষ্ট, মালদহ, মুর্শিদাবাদ-সহ দক্ষিণবঙ্গের কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটিতে তাদের দাপট বজায় রয়েছে৷ কিন্তু রাজ্যের অন্যান্য জেলায় কংগ্রেসের ভোট যে বামেদের পক্ষে যায়নি, সেটাও প্রাথমিক বিশ্লেষণে স্পষ্ট৷ নীতিগত আদর্শ ছেড়ে জোট গড়ার ফল পেল বামেরা৷ অবস্থা এতটাই করুণ, যে সিপিএম এবার প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদাটুকুও পেল না৷ বিমান-সূর্যরা যতই অশোক ভট্টাচার্যকে যতই হ্যাটা করুন না কেন, সেই প্রত্যাবর্তনের কান্ডারীই জয়যাত্রা অব্যাহত রাখলেন৷ শিলিগুড়িতে বাইচুং ভুটিয়াকে ১৭,০৭২ ভোটে হারিয়ে লাল আবির মেখে এলাকায় ঘুরলেন অশোক ভট্টাচার্য৷ যদিও একাধিকবার উত্তরবঙ্গ সফর ও একগুচ্ছ সরকারি প্রকল্পের সুবিধা দেওয়ার সুফল পেলেন মমতাও৷ ২০১১ সালে উত্তরবঙ্গের ৫৪ আসনের মধ্যে তৃণমূল-কংগ্রেস জোটের দখলে ছিল ১৬টি আসন৷ এবার সেখান থেকে একক ভাবে তৃণমূলের দখলে ২২টি আসন। সূত্রের খবর, ৫৪টি আসনের মধ্যে পাহাড়ের তিনটি আসন ধরে রেখেছে মোর্চা। দুটি পেয়েছে বিজেপি। বাকি ৫১ আসনের মধ্যে তৃণমূল পেয়েছে ২৩টি আসন ও বাম কংগ্রেস জোটের দখলে গিয়েছে ২৬টি আসন। জলপাইগুড়ির চা বলয়ে জোট প্রায় মুছে গিয়েছে। জলপাইগুড়িতে সাতটি আসনের মধ্যে তৃণমূল পেয়েছে ছয়টি, একটি জোট। আলিপুরদুয়ারে পাঁচটি আসনের মধ্যে জোট একটিও আসন পায়নি। তৃণমূল চারটি ও বিজেপি একটি পেয়েছে।

উল্টে নিজেদের অনেকটাই এগিয়ে নিয়ে ষোড়শতম বিধানসভায় বিরোধী দলের মর্যাদা পাওয়ার দাবিদার হয়ে উঠল কংগ্রেস৷ আদর্শচ্যুতির এমনই রেশ যে জোটের প্রধান কারিগর সূর্যকান্ত মিশ্র তাঁর নিজের জেতা আসনে কার্যত গো-হারা হারলেন৷ পরিসংখ্যান বলছে, জয়ী প্রার্থী তৃণমূলের প্রদ্যুৎ কুমার ঘোষের কাছে ১২,৮৭৫ ভোটে হারলেন বাম-কং জোটের মুখমন্ত্রী পদপ্রার্থী সুর্যকান্ত মিশ্র৷ কিন্তু রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের বক্তব্য, জোট ‘সেনাপতি’ই যদি এত ভোটে হারেন তাহলে ‘সেনা’র কী হাল হবে সেটা সহজেই অনুমেয়৷ রাজনৈতিক মহলের ধারণা, দীর্ঘ ৩৪ বছর ক্ষমতায় থেকে যে সিপিএম অপশাসনের নজির গড়েছে রাজ্যে তা বাংলার মানুষ এখনও ভুলতে পারেনি৷ সন্ত্রাসের প্রশ্নে বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে যে রক্ত ঝড়েছে সেই ক্ষত এখনও ভরাট হয়নি৷ তাছাড়া, জনবিচ্ছিন্ন সিপিএমের সাংগঠনিক ভিত এখনও মজবুত হয়নি৷ সেকারণেই মাথা তুলতে পারেনি সিপিএম৷ এমনকী দলেরই অনেক নেতা ভোটে ভাল ফলের আশাটুকু করেননি৷ তাঁরা বলেছিলেন, মাত্র চার মাস আগেও সংগঠন বলে কিছু ছিল না৷ ভোট ঘোষণার মুহূর্তে জোট হচ্ছে বলেই জয় আসবে এমনটা নয়৷ তাঁদের সেই আশঙ্কাই সত্যি হল৷ সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি তো বলেই দিলেন, ভবিষ্যতে কংগ্রেসের সঙ্গে বামেদের জোট থাকবে কি না, তারই ঠিক নেই৷ বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্র সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি বলেন, “১০ থেকে ১২টি আসনে তৃণমূল-বিজেপি আঁতাত হয়েছে। খড়গপুরেও বোঝাপড়া হয়েছে।” তবে লোকসভা ভোটের তুলনায় তাদের শক্তি কমেনি বলে দাবি করেছেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। যদিও গণতন্ত্র, ধর্ম নিরপেক্ষতার পক্ষে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই জারি থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, আদর্শগতভাবে সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুর কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করেই শেষ রক্ষা করতে পারল না ‘কমরেড’রা৷ বরং লাভ হয়েছে কংগ্রেসের৷ গত বিধানসভার প্রাপ্ত আসনকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে কংগ্রেস৷ রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মত, এই জোট কংগ্রেসের নিচুতলার কর্মী-সমর্থকরা মেনে নেয়নি৷ সিপিএমের ভোট কংগ্রেসের ঘরে পড়লেও, কংগ্রেসের ভোট বামেদের ঘরে আসেনি৷ আসলে ৩৪ বছরে সিপিএমের সন্ত্রাসের সবচেয়ে বড় বলি হয়েছে কংগ্রেস৷ তাই কংগ্রেসিরা ক্ষত ভুলে সিপিএমকে ভোট দেয়নি৷ সেই ভোটটি নিশ্চিতভাবে তৃণমূলের ভান্ডারে গিয়েছে৷ এর নিট ফল, পরিবর্তনের ভোটে সিপিএম ডুবে গিয়েছিল, এবার তলিয়ে গেল অতল গভীরে৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement