১ আশ্বিন  ১৪২৬  বৃহস্পতিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 

Menu Logo পুজো ২০১৯ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

রাহুল চক্রবর্তী, দুর্গাপুর: মিশন বাংলা, টার্গেট ২০০৷ একুশের বিধানসভা ভোটে কমপক্ষে ২০০টি আসন পাচ্ছে বিজেপি৷ দুর্গাপুরে ২ দিনের চিন্তন শিবির শেষে এই লক্ষ্যমাত্রার কথাই জানালেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ দিলীপ ঘোষ৷ ঠিক হয়েছে, তিনিই এবার থেকে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলবেন৷ তাছাড়া আর কেউ আলাদা করে নিজেদের মতামত দেবেন না৷

[আরও পড়ুন: অশান্তির জেরে গৃহবধূকে পুড়িয়ে খুনের অভিযোগ, গ্রেপ্তার শাশুড়ি-দেওর]

লোকসভা ভোটে এরাজ্যে বিজেপির ভাল ফলাফলের পর থেকে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মূল ফোকাসে এই বাংলা৷ ২ থেকে ১৮ জন সাংসদ পাওয়ার পর একুশে বাংলা দখলের জন্য একেবারে ঝাঁপিয়ে পড়তে চাইছে বিজেপি৷ তার রূপরেখা ঠিক করতেই দুর্গাপুরে ২ দিনের চিন্তন শিবির বসেছে৷ রয়েছেন দলের শীর্ষ কেন্দ্রীয় নেতা অরবিন্দ মেনন, কৈলাস বিজয়বর্গীয়, শিবপ্রকাশ-সহ রাজ্য নেতৃত্বের অনেকেই৷ আলোচনার মূল বিষয় এখানে মূলত দুটি৷ সাংসদ সংখ্যা ২ থেকে ১৮-এ উঠে যাওয়ার মতো উন্নতির গ্রাফ বজায় রাখা৷ সেইসঙ্গে ২০২১-এ তৃণমূল সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে বাংলা দখল করা৷ প্রতিটি বিধানসভা আসন ধরে ধরে দুদিনের বৈঠকে আলোচনা হয়৷ কোথায় সংগঠন কেমন, রাজ্য নেতাদের কাছ থেকে তার বিস্তারিত খোঁজখবর নেন শীর্ষ নেতারা৷ শনিবার রত দশটা পর্যন্ত বৈঠকের পর ফের রবিবার সকাল ১০টা থেকে বৈঠক শুরু হয়৷ সেখানে স্ট্র্যাটেজি ঠিক হয়৷

বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক থেকে একুশের লড়াইয়ের রূপরেখা ঠিক করেছে বিজেপি৷ প্রথমত, কাটমানি ইস্যু৷ এই বিষয়টি নিয়ে এইমুহূর্তে শাসকদলের নেতারা যেভাবে কোণঠাসা হয়ে রয়েছেন, তাকে হাতিয়ার করেই এগোতে চায় রাজ্য বিজেপি৷ রাজ্যস্তরে কাটমানি বিরোধিতায় আন্দোলন আরও বেশি করে ছড়িয়ে দেওয়া তাঁদের লক্ষ্য৷ দ্বিতীয়ত, ৩৭০ ধারা বিলোপের প্রতিবাদে তৃণমূল যেভাবে সরব হয়েছে, তার পালটা হিসেবে রাজ্যবাসীকে এই ধারা বিলোপের গুরুত্ব বোঝাতে কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে দলের তরফে৷বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে সদস্য সংগ্রহ অভিযানে৷ ২০ আগস্ট পর্যন্ত এই অভিযান চলবে, যাতে ১ কোটি সদস্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে৷ যা এ মাসের ৪ তারিখ পর্যন্ত ছিল ৫২ লক্ষ৷

এছাড়া তৃণমূলের নির্বাচনী স্ট্র্যাটেজিস্ট প্রশান্ত কিশোরকে আলাদাভাবে কোনও গুরুত্ব দিতে রাজি নন বিজেপি শীর্ষ নেতারা৷ দিলীপ ঘোষের কথায়, ‘প্রশান্ত কিশোরকে দেখে মানুষ তৃণমূলকে ভোট দেবে, এমনটা ভাবার কারণ নেই৷’ এভাবেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বেঁধে দেওয়া ফর্মুলা মেনে তৃণমূল বিরোধী সুর চড়াবে রাজ্য বিজেপি৷ এদিন বিকেলে দুর্গাপুরের গান্ধী মোড়ে বিজেপির একটি জনসভা থেকেই তার সূচনা হয়ে যাবে৷

চিন্তন শিবিরে আলোচনা হয় গোর্খাল্যান্ড নিয়েও৷ শনিবারই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি লিখে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে গোর্খাল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু সিং বিস্ত৷ এই বৈঠকে তিনি হাজির থাকায় এ প্রসঙ্গে আলোচনা হয়েছে৷ রাজু সিং বিস্ত প্রশ্ন তোলেন, যে জিটিএ অর্থাৎ গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন তৈরি করে দিয়েছেন স্বয়ং, তার মধ্যেই তো ‘গোর্খাল্যান্ড’ কথাটি রয়েছে৷ তাহলে পৃথক গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনে আপত্তি কেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের?

[আরও পড়ুন: মন মজেছে ময়ূরে, কালনার শিল্পীদের তৈরি বিশেষ রাখি পাড়ি দিল গুজরাটে]

 

dgp-bjp

এদিকে, একুশে বাংলা দখলের লক্ষ্য নিয়ে দু’দিনের চিন্তন শিবিরের মাঝেই প্রকাশ্যে এল বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব৷ দুর্গাপুরের যে হোটেলে চিন্তন শিবিরের বৈঠক চলছে, রবিবার সকাল সকাল তার বাইরেই সংঘর্ষে জড়াল দুই গোষ্ঠী৷ আসানসোল-দুর্গাপুরে বিজেপি জেলা সভাপতি লক্ষ্মণ ঘড়ুইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি তৃণমূল ঘনিষ্ঠ এবং নতুন সদস্যদের বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন৷ পুরনোদের কোনও সম্মান নেই৷ এই অভিযোগে সরব বিজেপির একদল কর্মী, সমর্থক হোটেলের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন৷ এর পালটায় লক্ষণ ঘড়ুইয়ের অনুগামীরাও চড়াও হন তাঁদের উপর৷ দু’পক্ষের মধ্যে বচসা, সংঘর্ষ হয়৷ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব সামলে কীভাবে একুশে বাংলা দখল করবে বিজেপি, সেই প্রশ্নও তুলছেন অনেকে৷ এনিয়ে দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, এসব বরদাস্ত হবে না৷ দলের মধ্যে থাকতে হলে দলীয় শৃঙ্খলা মেনেই থাকতে হবে৷

দেখুন ভিডিও:

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং