Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৪ ভাদ্র ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ২২ আগস্ট ২০২৬

ডাইনি অপবাদে ঘাটালে গণপিটুনিতে খুন মহিলা, অভিযোগে গ্রেপ্তার ৬

কুসংস্কার কাটাতে গ্রামে সচেতনতা শিবির করতে চান স্থানীয় বিধায়ক।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ১৮, ২০১৯, ১৪:২৪

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ১৮, ২০১৯, ১৪:২৪

options
link
ডাইনি অপবাদে ঘাটালে গণপিটুনিতে খুন মহিলা, অভিযোগে গ্রেপ্তার ৬ zoom
প্রতীকী ছবি।
Advertisement

শ্রীকান্ত পাত্র, ঘাটাল : ডাইনি অপবাদে মহিলাকে পিটিয়ে খুনের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ।  রবিবার রাতে গণপ্রহারের ঘটনাটি ঘটে পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল থানার ঈশ্বরপুর গ্রামে। অভিযোগ, ওই মহিলাকে খুনের পাশাপাশি, আরও পাঁচ মহিলাকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। পুলিশ  না পৌঁছলে প্রাণে বাঁচতেন না ওই পাঁচজনও৷ ঘাটালের এসডিপিও কল্যাণ সরকার বলেন, “ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।দোষীদের যথোপযুক্ত সাজা দেওয়া হবে৷ “

[পুরুলিয়ায় মোদির ফোনে আপ্লুত বিজেপির বুথ কর্মীরা]

পুলিশ সুত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকদিন ধরেই ঘাটালের ঈশ্বরপুর গ্রামে জনা কয়েক যুবক,যুবতী জ্বরে ভুগছেন। এমনকী কারও ঘরের হাঁস,মুরগি বা গরুরও মৃত্যু হয়েছে কয়েক দিন আগে। কিন্তু মৃত্যু বা অসুস্থতার কারণ কী ? আদিবাসীদের ধর্মীয় গুরু শ্যামলী মাণ্ডির নিদান, নিশ্চয়ই কোনও ডাইনির কোপে পড়েছে ওঁরা। কিন্তু ডাইনি কারা?  সেক্ষেত্রে শ্যামলী মাণ্ডির নির্দেশ, পুজো করলেই মিলবে ‘ডাইনি’দের হদিশ। জানা গিয়েছে, শ্যামলী মাণ্ডি ঘাটাল শহরের বসন্তকুমারী উচ্চ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মী। তাঁরই নির্দেশ শুরু হয় আদিবাসী দেবতা বনদেবীর পুজো। রবিবার চলে পূজা। আর ধর্মীয় গুরুর উপর ভর করে বনদেবী। এরপর একের পর এক নাম বলতে থাকেন তিনি। প্রথমেই নাম বলেন এলাকার এক মহিলার। পূজাস্থলেই আদিবাসী সমাজের মোড়লদের ফতোয়ায় শুরু হয় তাঁকে মারধর। সকলের সামনে নৃশংসভাবে ওই মহিলাকে কিল, চড়, ঘুষি মারা হয়। পরে গাছের ডাল দিয়ে শুরু হয় মারধর। তাঁর আর্ত চিৎকারের সঙ্গে বাজানো হয় ধামসা মাদল আর বাঁশি। আর চলে মোড়লদের উল্লাস। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই মহিলার। একে একে এলাকার আর পাঁচ মহিলার ডাক পড়ে। তাদের উপরও শুরু হয় চরম অত্যাচার। আহত অবস্থায় তাদের স্থানীয় হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে। তবে বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে অবশ্য তার আগেই পৌঁছে যান ওসি দেবাংশু ভৌমিক। রক্ষা পান একজন। এরপর গ্রামে যান এসডিপিও কল্যাণ সরকার, ঘাটালের এসডিও অসীম পাল, বিডিও অরিন্দম দাশগুপ্ত,  বিধায়ক শংকর দোলুই প্রমুখ। ইতিমধ্যেই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ তাদের আদালতে তোলা হবে। 

Advertisement

[লোকসভা ভোটে রাজ্য বিজেপির থিম সং গাইলেন বাবুল সুপ্রিয়]

ঘটনা প্রসঙ্গে বিধায়ক শঙ্কর দলুই বলেন, “কুসংস্কারের বশবর্তী হয়ে ওঁরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। ডাইনি সন্দেহ কাউকে পিটিয়ে খুন করার মতো জঘন্য ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। ওই গ্রামে প্রশাসনের সহযোগিতায় একটি সচেতনতা শিবির করব।”

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.