Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৪ জুন ২০২৬
Murshidabad

ধন্যি মা! স্বামীকে ‘খুন’ করে মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলের উপর দায় চাপানোর চেষ্টা, মুর্শিদাবাদে চাঞ্চল্য

স্বামীকে খুন করার অভিযোগে গ্রেপ্তার স্ত্রী। খুনের পর ঘটনার দায় ওই মহিলা তাঁদের মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলের উপর চাপানোর চেষ্টা করেছিলেন! পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমে বুঝতে পারেন, ওই মহিলা মিথ্যা বলছেন। এরপরই গ্রেপ্তার করা হয় ওই অভিযুক্তকে।

Advertisement
স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ১২, ২০২৬, ১৮:৩৩

link
স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ১২, ২০২৬, ১৮:৩৩

options
link
ধন্যি মা! স্বামীকে ‘খুন’ করে মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলের উপর দায় চাপানোর চেষ্টা, মুর্শিদাবাদে চাঞ্চল্য zoom
প্রতীকী ছবি।

স্বামীকে খুন করার অভিযোগে গ্রেপ্তার স্ত্রী। খুনের পর ঘটনার দায় ওই মহিলা তাঁদের মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলের উপর চাপানোর চেষ্টা করেছিলেন! পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমে বুঝতে পারেন, ওই মহিলা মিথ্যা বলছেন। এরপরই গ্রেপ্তার করা হয় ওই অভিযুক্তকে। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদের লালবাগের রনসাগর এলাকায়। মৃতের নাম আশুতোষ মণ্ডল। ধৃত স্ত্রীর নাম কমলা মণ্ডল।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রনসাগর এলাকায় বাড়ি ওই দম্পতির। আশুতোষ মণ্ডল আগে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে ভিনরাজ্যে কাজ করতেন। দম্পতির দুই ছেলে। বড় ছেলে বিভাস মণ্ডল এখন ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কর্মরত। ছোট ছেলে প্রকাশ মানসিক ভারসাম্যহীন। তিনি বাড়িতেই থাকেন। জানা গিয়েছে, আশুতোষ তিন মাস আগে ভিনরাজ্য থেকে বাড়ি ফিরে এসেছিলেন। তারপর আর শ্রমিকের কাজ করতে বাইরে যাননি। সম্প্রতি বাড়িতেই একটি ছোট্ট মুদি দোকানের ব্যবসা শুরু করেছিলেন। স্ত্রী কমলা গৃহবধূ।

Advertisement

প্রতিবেশীদের তরফে জানানো হয়েছে, ওই পরিবারের আর্থিক সমস্যা ছিল। ছোট ছেলের চিকিৎসার জন্য অর্থেরও প্রয়োজন ছিল। মাঝেমধ্যেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া বিবাদ হত। শনিবার রাতেও ওই দম্পতির মধ্যে অশান্তি হয়েছিল বলে খবর। রাতেই স্বামীকে কোদালের আঘাত করে কমলা। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই ব্যক্তির। গভীর রাতে কমলা তাঁর বড় ছেলে বিভাসকে ফোন করেন। ছোট ছেলে প্রকাশ বাবাকে খুন করেছে বলে বিভাষের কাছে অভিযোগ করেন তিনি। বড় ছেলে সেই দুঃসংবাদ শুনে প্রতিবেশী এক যুবককে ওই ঘটনার কথা জানান।

বিভাসের ফোন পেয়ে ওই যুবক দ্রুত মণ্ডল পরিবারের বাড়িতে হাজির হন। অন্যান্য প্রতিবেশীরাও সেখানে যান। দেখা যায়, ঘরের মধ্যে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন ওই ব্যক্তি। পাশেই বসে রয়েছেন স্ত্রী কমলা! খবর দেওয়া হয় লালবাগ থানায়। মুর্শিদাবার থানার পুলিশ গিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। শুরু হয় জেরা। মানসিক ভারসাম্যহীন ছোট ছেলে বাবাকে খুন করেছে বলে প্রথম দিকে কমলা জানিয়েছিলেন। কিন্তু জেরায় তদন্তকারীরা বুঝতে পারেন, কমলার কথায় একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে। পরে স্বামীকে খুনের কথা স্বীকার করেন বলেও খবর। গ্রেপ্তার করা হয় স্ত্রীকে।

স্বামীকে খুনের পর মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলের উপর ঘটনার দায় চাপাতে চেষ্টা করেছিলেন স্ত্রী। আন্দাজ করেছিলেন, ছোট ছেলের কথায় অসঙ্গতি পেলে তাঁর উপর সন্দেহ গিয়ে পড়ত। শেষপর্যন্ত আর সত্য চাপা থাকেনি। ঘটনা জানাজানি হতে প্রতিবেশীদের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মুর্শিদাবাদ থানার আইসি রাজা সরকার জানিয়েছেন, ধৃতকে লালবাগ আদালতে তোলা হয়েছিল। বিচারক তাঁকে তিনদিনের পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। জেরায় খুনের কথা স্বীকার করেছেন কমলা। 

 

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.