Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ৫ জুন ২০২৬
Guskara

ভাঁড়ে মা ভবানী! তাই অফিস ভাড়া দিয়েছিল সিপিএম, এবার ভাড়াটে বলছে, ‘উঠব না’

রাজ্যে পালাবদলের পরে সংগঠনের আর্থিক সংকট মেটাতে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা এখন কার্যত বুমেরাং হয়ে ফিরছে। গুসকরা শহরে সিপিএমের লোকাল কমিটির তিনতলা কার্যালয় ‘রবীন সেন ভবন’ নিয়ে অস্বস্তিতে পড়েছে দল।

Advertisement
স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ১২, ২০২৬, ১৮:০৬

link
স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ১২, ২০২৬, ১৮:০৬

options
link
ভাঁড়ে মা ভবানী! তাই অফিস ভাড়া দিয়েছিল সিপিএম, এবার ভাড়াটে বলছে, ‘উঠব না’ zoom

রাজ্যে পালাবদলের পরে সংগঠনের আর্থিক সংকট মেটাতে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা এখন কার্যত বুমেরাং হয়ে ফিরছে। গুসকরা (Guskara) শহরে সিপিএমের লোকাল কমিটির তিনতলা কার্যালয় ‘রবীন সেন ভবন’ নিয়ে অস্বস্তিতে পড়েছে দল।

‘দুঃসময়’-এ সংগঠন চালানোর খরচ তুলতে লিজ দিয়ে দেওয়া হয়েছিল গুসকরা শহরের লজপাড়ার তিনতলা কার্যালয়টি। আর তাতেই কাল হয়েছে। লিজের মেয়াদ চার বছর আগেই শেষ হয়ে গেলেও দখল ছাড়তে চাইছেন না স্থানীয় এক ব্যবসায়ী তথা প্রাক্তন ‘কমরেড’। ইতিমধ্যে দল থেকে একাধিকবার ওই লিজগ্রহীতা ব্যবসায়ী স্বপন পালকে বলা হয়েছে বকেয়া মিটিয়ে দিয়ে দলীয় কার্যালয় ছেড়ে দিতে। কিন্তু এখনও অনড় স্বপন। তাঁর দাবি, ‘‘আমি দলের লোকজনদের কাছে একাধিকবার জানিয়েছি, আমার লিজের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য। কিন্তু বিষয়টি এখনও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। লিজের মেয়াদ বাড়িয়ে দিলেই বকেয়া টাকা মিটিয়ে দেব এবং চুক্তি অনুযায়ী ভাড়াও মিটিয়ে যেতে রাজি আছি।’’

Advertisement

যদিও সিপিএমের গুসকরা (Guskara) এরিয়া কমিটির সম্পাদক ইরফান শেখ বলেন, ‘‘লিজের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরেই ওঁকে কার্যালয়ের ভবন ছেড়ে দেওয়ার জন্য বলা হয়েছিল। দলে আলোচনার পর আমরা আর লিজের মেয়াদ বাড়াতে চাইছি না। তাই কার্যালয়টি ছেড়ে দিয়ে বকেয়া ভাড়া মিটিয়ে দিতে বলা হয়েছে।’’ একদা লালদুর্গ বলে পরিচিত ছিল আউশগ্রাম। কংগ্রেস জমানাতেও আউশগ্রাম বিধানসভার দখল ছিল সিপিএমের হাতে। ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পরে সেই লালদুর্গেও ফাটল ধরে। পরিবর্তনের পর থেকে সিপিএমের কার্যালয়গুলিতে একপ্রকার মাছি তাড়ানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। গুসকরা শহরে বিদ্যাসাগর হলের উল্টোদিকে একটি পাড়ার মধ্যে রয়েছে সিপিএমের এই কার্যালয়টি। জানা গিয়েছে, সেখান থেকে কিছুটা দূরে ৭ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় তৈরি হয়েছিল তিনতলা ভবনের সিপিএমের লোকাল কমিটির কার্যালয়টি। এই কার্যালয় থেকেই সিপিএমের লোকাল কমিটির পাশাপাশি শাখা সংগঠনগুলির সাংগঠনিক কাজকর্ম চলত।

CPM office in Guskara forcibly occupied even after contract expires
এই বাড়ি নিয়েই চলছে টানাপোড়েন। নিজস্ব চিত্র

গুসকরা শহরের বাসিন্দা স্বপন পালকে এই কার্যালয় ভাড়া দিয়ে দেওয়া হয় ২০১৮ সাল নাগাদ। সেসময় দলের পক্ষ থেকে ৭ জন ওই চুক্তিপত্রে সই করেছিলেন। যদিও সাতজনের মধ্যে তিনজন ইতিমধ্যে মারা গিয়েছেন। লিজ গ্রহীতা ব্যবসায়ী স্বপন পাল প্রোমোটিং ব্যবসা করেন। তিনি সিপিএমের কার্যালয় ভাড়া নেওয়ার পর অনুষ্ঠানবাড়ি হিসাবে ভাড়া খাটান। এই ভবনেই তাঁর নিজস্ব অফিসও। উল্লেখ্য লিজের চুক্তি সম্পাদনের সময় তিনি সিপিএমের লোকাল কমিটির সদস্য ছিলেন। যদিও পরবর্তী সময়ে স্বপন আর দলের সদস্যপদ পুনর্নবিকরণ করেননি। এককালের দলের সক্রিয় কর্মীই এখন কার্যত গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে সিপিএমের। দলের একাংশের সন্দেহ, এই কার্যালয়টি স্বপন পাল এখন বেদখল করে নিতে চাইছেন।

যদিও স্বপনের কথায়, ‘‘এই ভবনের জায়গা দলের নামে রেকর্ড নেই। সাতজন ব্যক্তির নামে দলিল রয়েছে। যে চালকল মালিকের কাছ থেকে জমি কেনা হয়েছিল সেই দলিলে পার্টি অফিস বলে কোনও উল্লেখই নেই। এখনও ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের রেকর্ডে চালকলের নামেই রেকর্ড রয়েছে।’’ স্বপন আরও বলেন, ‘‘২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে আমার সঙ্গে তিনবছরের লিজের বিনিময়ে চুক্তি সম্পাদন হয়েছিল। ২০২২ সালের জানুয়ারি মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। বছরে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা হিসাবে তিনবছরের টাকা মিটিয়ে দিয়েছি। তারপর থেকে এযাবৎ টাকা দিইনি। আমি লিজ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছি। লিজের মেয়াদ বাড়ালেই বকেয়া সহ টাকা মিটিয়ে দেব।’’ যদিও সিপিএমের স্থানীয় নেতৃত্ব এখন চাইছেন ওই কার্যালয়টি মুক্ত করতে। ইরফান শেখ বলেন, ‘‘আপাতত বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। আমরা দলীয় কার্যালয় ফিরে পেতে চাই।’’

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.