Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২১ আষাঢ় ১৪৩৩
  • মঙ্গলবার
  • ৭ জুলাই ২০২৬

ভুল স্যালাইনে পঙ্গু প্রৌঢ়া, ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা হাসপাতালের

গ্রুপ ডি স্টাফ মেডিক্যাল নোট দেয় কীভাবে, ক্ষুব্ধ স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক কমিশন।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১৮, ১২:৫১

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১৮, ১২:৫১

options
link
ভুল স্যালাইনে পঙ্গু প্রৌঢ়া, ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা হাসপাতালের zoom

স্টাফ রিপোর্টার: না জেনেই স্যালাইনে বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল সোডিয়াম ক্লোরাইড। যার জেরে আজ কার্যত পঙ্গু হুগলির কাবেরী সাহা (৫৩)। নষ্ট হয়ে গিয়েছে স্বাভাবিক অনুভূতি। ঠিকমতো কথা বলতে পারেন না। রাজ্য স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক কমিশনের চেয়ারম্যান অসীমকুমার রায় জানিয়েছেন, আমরা সমস্ত কাগজপত্র খতিয়ে দেখেছি। শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা ঠিক থাকলেও তাঁকে অতিরিক্ত সোডিয়াম ক্লোরাইড যুক্ত স্যালাইন দেওয়াতেই এই অবস্থা। স্নায়ুতন্ত্রকে অকেজো করে দিয়েছে ভুল স্যালাইন। আরামবাগের এমএ গনি হাসপাতালের এই গাফিলতির কারণে তাদের ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা করল রাজ্যের স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক কমিশন

[নীরব মোদি কাণ্ডের জের, আতঙ্কে টাকা তোলার ধুমে ফাঁপড়ে পিএনবি]

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

ঘটনার শুরু গতবছরে। ২৫ মার্চ বাড়িতেই অসুস্থ হয়ে পড়েন কাবেরী দেবী। তাঁর ছেলে সুদীপ্ত সাহা জানিয়েছেন, মা ঝিমিয়ে পড়ছিলেন। কোনও কাজে এনার্জি পেতেন না। স্থানীয় চিকিৎসক দিলীপ সরকারকে দেখানো হলে তিনি পরামর্শ দেন অবিলম্বে কাবেরী দেবীকে হাসপাতালে ভর্তি করতে। সেইমতো তাঁকে আরামবাগের এমএ গনি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চারদিন ভর্তি ছিলেন তিনি। সুদীপ্ত ভেবেছিলেন চারদিন পর সুস্থ মাকে বাড়িতে নিয়ে আসবেন। কিন্তু কোথায় কী? “মাকে আনতে গিয়ে দেখলাম শরীরের অবস্থা আগের চেয়ে আরও খারাপ। কথা বলতে পারছিলেন না।” চোখ মোছেন সুদীপ্ত। এরপরই মাকে যাদবপুরের এক বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান তিনি। সেখানে দীর্ঘ পরীক্ষার পর বলা হয়, ভুল স্যালাইনের জন্যই আজ এই অবস্থা কাবেরী দেবীর। ২৬ এপ্রিল স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক কমিশনে এমএ গনি হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন সুদীপ্ত। কমিশন হাসপাতালের চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্র চেয়ে পাঠায়। কাগজপত্র দেখেই চক্ষু চড়কগাছ কমিশনের কর্তাদের। দেখা যায় মেডিক্যাল নোটে যে স্যালাইনের কথা লেখা রয়েছে তা হাইপোটনিক স্যালাইন! শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা ১১০ থেকে ১১৫-এ নেমে গেলে তবে এই স্যালাইন দেওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সময় কাবেরী দেবীর শরীরে সোডিয়াম মাত্রা ছিল ১২৪।

[বিয়ের এক মাসের মধ্যেই দম্পতির রহস্যমৃত্যু, উঠছে খুনের অভিযোগ]

কমিশনের চেয়ারম্যান অসীমকুমার রায় জানিয়েছেন, ভুল স্যালাইন দিয়ে রোগীকে পঙ্গু করে দিয়েছে হাসপাতাল। ঘটনায় ডেকে পাঠানো হয়েছিল কর্তব্যরত চিকিৎসককে। তিনি দোষ চাপিয়েছেন এক গ্রুপ ডি স্টাফের ঘাড়ে। যা দেখে আরও ক্ষুব্ধ কমিশন। “গ্রুপ ডি স্টাফ মেডিক্যাল নোট দেয় কীভাবে। এটা তো চূড়ান্ত অপদার্থতার শামিল।” সব কাগজপত্র খতিয়ে দেখে জানিয়েছেন অসীমবাবু। সবদিক বিচার করে রোগীর পরিবারকে পাঁচ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। ১৫ দিনের মধ্যে হাসপাতালকে এই টাকা তুলে দিতে হবে কাবেরীদেবীর পরিবারের হাতে। খবর শুনে খুশি সুদীপ্ত। তিনি জানিয়েছেন, “এতদিনে বিচার পেলাম। এবার মায়ের চিকিৎসা করাতে পারব।” এদিকে এই ঘটনার পর হুগলির সমস্ত বেসরকারি হাসপাতালের রিপোর্ট তলব করেছে কমিশন। এদিন অসীমকুমার রায় জানিয়েছেন, হুগলি জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে বলা হয়েছে আগামী তিন মাসের মধ্যে সমস্ত বেসরকারি হাসপাতালের রিপোর্ট জমা দিতে। ক্লিনিক্যাল এস্টাব্লিশমেন্ট অ্যাক্ট মেনে সকলে কাজ করছে কি না তাও দেখতে বলা হয়েছে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.