৯ আশ্বিন  ১৪২৭  রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

সর্পদংশনে ভুল চিকিৎসা, বাঁচাল ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: August 29, 2016 1:59 pm|    Updated: August 29, 2016 1:59 pm

An Images

গৌতম ব্রহ্ম: রোগ ধরতেই পারলেন না চিকিৎসক৷ উল্টে সময় নষ্ট করে রোগীকে প্রায় মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিলেন৷ চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে বারুইপুর হাসপাতালে৷ কয়েক ঘন্টা ভেন্টিলেশনে থাকার পর রোগী বিপন্মুক্ত হলেও সরকারি চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে ফের উঠল প্রশ্ন৷

২৩ আগস্ট কালাচ দংশন করেছিল ৪০ বছরের ইউসুফ সর্দারকে৷ কিন্তু তিনি বুঝতে পারেননি৷ পরে অসুস্থ বোধ করায় বারুইপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে৷ উপসর্গ দেখে ইউসুফের ‘গুলান বেরি সিনড্রোম’ নামে মস্তিষ্কের রোগ হয়েছে বলে নিদান দেন চিকিৎসক৷ মস্তিষ্কের ‘সিটি স্ক্যান’-ও করান৷ অবশেষে প্রচুর সময় নষ্টের পর রোগীকে কলকাতায় ‘রেফার’ করেন৷

ইউসুফকে নিয়ে আসা হয় কলকাতার পার্ক সার্কাসের ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে৷ সেখানে ডিউটিতে ছিলেন বিখ্যাত সর্পচিকিৎসক ডা. দয়ালবন্ধু মজুমদার৷ তিনি রোগীর লক্ষণ দেখে বুঝতে পারেন, কালাচ দংশন করেছে৷ চিকিৎসক এম কে রায়ের অধীনে ভর্তি করা হয় রোগীকে৷ শুরু হয় সাপে-কাটার চিকিৎসা৷ পরে অবশ্য রোগী স্বীকার করেন, ২৩ আগস্ট সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ বাগানের মধ্যে একটি সাপের গায়ে পা দিয়ে ফেলেছিলেন তিনি৷ তবে কামড় দিয়েছে কি না বুঝতে পারেননি৷ চিকিৎসকরা এভিএস চালু করলেও দ্রুত ইউসুফের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে৷ একটা সময় প্রবল শ্বাসকষ্ট শুরু হয়৷ বাধ্য হয়েই ভেন্টিলেশনে দিতে হয় তাঁকে৷ এদিন দুপুরে ভেন্টিলেশনের বাইরে বের করা হয় ইউসুফকে৷ ইউসুফের বাড়ির লোকতো বলেই ফেললেন, “বারুইপুর হাসপাতালের পাপের ‘প্রায়শ্চিত্ত’ করল ন্যাশনাল৷” সত্যিই, ন্যাশনালের ডাক্তাররা সর্পদংশনের বিষয়টি ধরতে না পারলে ইউসুফকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফেরানো যেত না৷

এমনটাই হচ্ছে৷ এখনও বাংলার অনেক চিকিৎসক উপসর্গ দেখে সর্পদংশন বুঝতে পারছেন না৷ কেউটে, চন্দ্রবোরার ক্ষেত্রে যেহেতু বিষের জ্বালায় রোগী ছটফট করেন, দংশন স্থল থেকে রক্তক্ষরণ হয়, তাই অসুবিধা হয় না৷ সমস্যা হয় কালাচে৷ কালাচ কামড়ালে যন্ত্রণা হয় না৷ বিষের ক্রিয়া শুরু হয় বেশ কয়েকঘন্টা পর৷ বুঝতে পারলে ভাল, না পারলে নিশ্চিত মৃত্যু৷ কালাচে-কাটা বহু রোগীর এভাবেই মৃত্যু হয়েছে৷ ইউসুফের ক্ষেত্রে যেমন মস্তিষ্কের রোগ মনে করে চিকিৎসা শুরু করেছিলেন বারুইপুর হাসপাতালের চিকিৎসক৷ কারও ক্ষেত্রে আবার পেটের রোগ ভেবে চিকিৎসা হয়৷

অথচ, এমনটা হওয়ার কথা নয়৷ অন্য রাজ্যের তুলনায় সাপে-কাটা রোগীর চিকিৎসায় অনেক এগিয়ে বাংলা৷ সেই ২০১২ সালে সাপে-কাটা রোগীর চিকিৎসায় গাইডলাইন প্রকাশ করে হাসপাতালে হাসপাতালে টাঙিয়ে দিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর৷ কিন্তু তা-ও ভুল হচ্ছে৷ বিপন্ন হচ্ছে সাপে-কাটা রোগীর প্রাণ৷ সময়মতো হাসপাতালে এসেও তাই শেষরক্ষা হচ্ছে না৷ এভিএস মজুত থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসা পাচ্ছেন না৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement