শিশিরভেজা শিউলির ঘ্রাণ, ঢাকের বাদ্যি আর কাশফুলের দোলা জানান দেয়— মর্ত্যে দেবী পার্বতীর আগমন কেবলই সময়ের অপেক্ষা। শারদোৎসবের সূচনা ঘটে মূলত দুর্গা ষষ্ঠীর মাধ্যমে। কিন্তু এই ষষ্ঠী ব্রতের অন্তরালে লুকিয়ে আছে দেবাদিদেব মহাদেব, দেবী পার্বতী এবং দুই পুত্র কার্তিক ও গণেশকে কেন্দ্র করে এক অপূর্ব লোককথা। এমনকী ব্রত পালনেও রয়েছে বিধিনিষেধ। এই দিন ব্রতীরা অন্ন গ্রহণ করতে পারেন না। কী এমন কারণ? জেনে নিন।

আরও পড়ুন:
মা পার্বতী মন খারাপ করে বসে রয়েছেন। কারণ কী? মর্ত্যের অধিবাসীরা সানন্দে ষষ্ঠীব্রত পালন করলেও দেবী গৌরীর মনে মস্ত অভিমান। কারণ, তাঁর স্নেহের কোল তখনও শূন্য। মর্ত্যে তাকিয়ে সবটা বুঝে ফেলতে আর দেরি হল না শিবের। মায়ের ব্যাকুলতা দূর করতে স্বয়ং মহাদেব চন্দ্রলোক থেকে কার্তিককে ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে সঙ্গে সঙ্গে রওনা হলেন। পুত্র ফিরবে শুনে গৌরী দেবী আনন্দে আটখানা হয়ে উঠলেন। চটজলদি চলল স্নানের প্রস্তুতি। স্নানকালে তাঁর দুই সখী— জয়া ও বিজয়া, মায়ের অঙ্গের মার্জিত চন্দন, হলুদ ও ময় একত্র করে আপন খেয়ালে গড়ে তোলেন এক অনিন্দ্যসুন্দর পুতুল।
এদিকে সেই দিব্যকান্তি পুতুল দেখে শ্রীবিষ্ণু মুগ্ধ হন। নিজের দিব্যাংশ সেই মূর্তিতে সঞ্চার করতেই প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে শিশুপুত্র। পরম আনন্দে তাকে কোলে তুলে নেন দেবী। ঠিক তখনই চন্দ্রলোক থেকে কার্তিককে সঙ্গে নিয়ে কৈলাসে পদার্পণ করেন মহাদেব। দুই সন্তানকে একসঙ্গে পেয়ে কৈলাসে নেমে আসে উৎসবের আবহ। সমবেত হন দেবকুলের সকলেই।

তবে সেই আনন্দের মুহূর্তে বাদ সেধেছিল গ্রহরাজ শনির বক্রদৃষ্টি। বরের প্রভাবে তাঁর দৃষ্টিমাত্রেই ছাই হতে পারত যেকোনও শুভ শক্তি। শনিদেব তাই চোখ ঢেকে উপস্থিত হন। কিন্তু পার্বতীর নির্বন্ধাতিশয়ে বাধ্য হয়ে তিনি যখন শিশু গণেশের দিকে তাকান, মুহূর্তেই বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বালকের মস্তক। দেবী পার্বতীর শোক দেখে মহাদেব অনুচর নন্দীকে নির্দেশ দেন উত্তর শিরে নিদ্রিত কোনও প্রাণীর মস্তক কেটে আনতে। নন্দী খুঁজে পান এক স্বেচ্ছায় প্রাণ বিসর্জন দিতে উদ্যত হস্তীকে। সেই মস্তক বসিয়ে অবশেষে জীবন ফিরে পান গণেশ। পরবর্তীতে গণের অধিপতি বা গণপতি হিসেবে সমস্ত দেবপুজোর অগ্রভাগে তাঁর স্থান নির্ধারিত হয়।
পরবর্তীকালে আশ্বিন মাসে পুত্রদ্বয়কে সঙ্গে নিয়ে মা পার্বতী আসেন পিতা গিরিরাজের গৃহে। মাতা মেনকা আনন্দিত মনে বেলতলা থেকে নাতিদের বরণ করে গৃহে তোলেন। কন্যার মুখে সমস্ত কাহিনি শুনে মেনকা দেবী উপবাস থেকে ফুল, দূর্বা, আতপ চালের নৈবেদ্য ও ফলে সাজিয়ে নেন ষষ্ঠীর ব্রত। নাতিদের মঙ্গল কামনায় সূচিত এই প্রথাই যুগে যুগে দুর্গা ষষ্ঠীর দিন মর্ত্যধামে প্রচলিত। শাস্ত্রমতে, এই দিনে ব্রতীরা অন্ন গ্রহণ করেন না; পূজা শেষে প্রসাদ ও নৈবেদ্য গ্রহণ করেই ব্রত সমাপন হয়।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
৪৮ দিনের কারাবাসে ওজন কমেছে ২১ কেজি! নরবলিতে অভিযুক্তকে জামিন বম্বে হাই কোর্টের
-
পুরনির্বাচনের আগেই রাজ্য কমিটি ঘোষণা বিজেপির, গুরুদায়িত্বে শুভেন্দু, পদে শিশিরও
-
ইন্ডিয়া’য় যোগ নয়? নতুন জোট গঠন করলেন বিজয়, নামেও রয়েছে চমক
-
‘আইফেল টাওয়ার থেকে মহিলাদের সরাতে হবে’, শর্ত ঘিরে বিতর্ক, ক্ষমা চাইল হিন্দু সংস্থা
-
আইসিএনইউ ২০২৬: আন্তর্জাতিক পুষ্টি সম্মেলন, চিকিৎসায় পুষ্টির নতুন দিশা