Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ৩ অক্টোবর ২০২৬
World's first Durga puja

গড় জঙ্গলের এই বেদিতেই বিশ্বের প্রথম দুর্গাপুজো! রাজা সুরথের পৌরাণিক গাথা আজও ছুঁয়ে আছে দুর্গাপুরের গ্রাম

এই আশ্রমে যজ্ঞের আগুন বহু যুগ ধরে জ্বলে আসছে। গুহার ভিতরে অধিষ্ঠাত্রী দেবী চণ্ডী।

সনাতন গড়াই
সনাতন গড়াই

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬, ১৫:০২

link
সনাতন গড়াই
সনাতন গড়াই

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬, ১৫:০২

options
link
গড় জঙ্গলের এই বেদিতেই বিশ্বের প্রথম দুর্গাপুজো! রাজা সুরথের পৌরাণিক গাথা আজও ছুঁয়ে আছে দুর্গাপুরের গ্রাম zoom
এই বেদিতেই বিশ্বের প্রথম দুর্গাপুজো সূচনা!
Advertisement

চারদিকে ঘন জঙ্গল। একসময় দিনের বেলাতেও যে অরণ্যে সূর্যকিরণের একচিলতেও প্রবেশ করত না। বাঘ, ভালুকের বিচরণ, নির্জন জঙ্গলে সাধনায় মগ্ন ঋষি-মুনিরা। সেই গভীর অরণ্যের বুকেই ঋষি মেধসের আশ্রম। আজও সেই গড় জঙ্গলকে ঘিরে রয়েছে এক প্রাচীন কাহিনি। রাজা সুরথ, সমাধি বৈশ্য এবং দেবী মহামায়ার আরাধনার কাহিনি। স্থানীয়দের বিশ্বাস, ভাগ্যের পরিহাসে সর্বস্ব হারিয়ে রাজা সুরথ এসেছিলেন ঋষি মেধসের আশ্রমে। সেখানে তাঁর দেখা হয় সংসারচ্যুত সমাধি বৈশ্যের সঙ্গে। দুজনের জীবনেই তখন হারানোর যন্ত্রণা। রাজা সুরথের মন পড়ে থাকে তাঁর হারানো রাজ্য, প্রজা ও রাজকীয় জীবনের প্রতি। আর সমাধি বৈশ্য সব হারিয়েও বারবার নিজের সংসার ও আপনজনদের কথাই ভাবতে থাকেন। কিন্তু কেন সবকিছু হারিয়েও মানুষের মন সেই হারানো জিনিসের প্রতি টান অনুভব করে? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই তাঁরা আশ্রয় নেন ঋষি মেধসের কাছে।

রাজা সুরথের পুরাণ ছুঁয়ে এই বেদিতে আজও পূজিত হন দেবী। নিজস্ব ছবি।

ঋষি তাঁদের বোঝান, মানুষের এই মায়া আসলে মহামায়ারই প্রভাব। তাঁর নির্দেশেই রাজা সুরথ ও সমাধি বৈশ্য দেবী মহামায়ার সাধনা শুরু করেন। শুরু হয় কঠোর সাধনা। অরণ্যের নির্জন পরিবেশে দেবীর আরাধনায় নিজেদের সমর্পণ করেন তাঁরা। দীর্ঘ সাধনার পর তাঁদের তপস্যায় সন্তুষ্ট হন দেবী মহামায়া। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, দেবীর কৃপায় রাজা সুরথ ভবিষ্যতে নিজের রাজ্য ফিরে পাওয়ার বর লাভ করেন। আর সমাধি বৈশ্য লাভ করেন জ্ঞান ও মোহমুক্তির বর। এই কাহিনির সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে দুর্গাপুজোর প্রাচীনতম সূচনার বিশ্বাস। স্থানীয় মানুষের বিশ্বাস, মেধস মুনির আশ্রমেই রাজা সুরথ প্রথম দেবী দুর্গার আরাধনা করেছিলেন। সেই কারণেই এই স্থানকে অনেকে দুর্গাপুজোর আদিম স্মৃতিবাহী ভূমি হিসেবে মনে করেন।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement
গড় জঙ্গলের গুহায় অধিষ্ঠাত্রী দেবী চণ্ডী। নিজস্ব ছবি।

গড় জঙ্গলের এই প্রাচীন ভূমিতে দুর্গাপুজো শুধুমাত্র কয়েকদিনের উৎসব নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে রাজা সুরথের হারানো রাজ্য, সমাধি বৈশ্যের সংসারের প্রতি মায়া, ঋষি মেধসের উপদেশ এবং দেবী মহামায়ার আরাধনার কাহিনি। এখনও সেই পাথর রয়েছে যেই পাথরে প্রথম দুর্গাপুজো শুরু করেছিল রাজা সুরথ ও সমাধি বৈশ্য। দুর্গাপুজো চারদিন উপচে পড়ে ভিড়। এই আশ্রমে যজ্ঞের আগুন বহু যুগ ধরে জ্বলে আসছে। এছাড়াও রয়েছে প্রাচীন নানান গাছ গুহার ভিতর দেবী চণ্ডীর মূর্তি। গড় চণ্ডীধামের প্রধান সেবাইত যোগীনাথ ব্রহ্মানন্দ গিরি বলেন, “এখানেই বিশ্বের প্রথম দুর্গাপুজো শুরু হয়েছিল। রাজা সুরথ মেধস মুনির আশ্রমে এসে দেবীর আরাধনা করেছিলেন। এই জায়গার সঙ্গে বহু প্রাচীন ইতিহাস ও ধর্মীয় বিশ্বাস জড়িয়ে রয়েছে। ইতিহাসের বহু নিদর্শন আজ বিলুপ্তির পথে। এগুলো যদি সংস্কার ও সংরক্ষণ করা হয়, তাহলে আমরা কৃতজ্ঞ থাকব।”

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.