Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ৬ জুন ২০২৬
Winter and Book Fair

বইমেলা শেষ, অস্তগামী বঙ্গের শীতও, তোমার মনকমনের দিন!

বইমেলা আর শীত বিদায়ে মনকমন নিয়ে ভাবি, আর-একটু থাকতে পারত! সম্পর্কগত শৈত্যও কি শীতের সঙ্গে বিদায় নেবে?

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬, ২১:৫২

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬, ২১:৫২

options
link
বইমেলা শেষ, অস্তগামী বঙ্গের শীতও, তোমার মনকমনের দিন! zoom
শেষ শীতের মেঘশূন্য, কুয়াশাবিহীন আকাশে যে-মায়ার খেলা। ফাইল চিত্র।

মঙ্গলবার এ-বছরের বইমেলা শেষ হল মাঘি পূর্ণিমার প্রায় পূর্ণচন্দ্র মাথায় নিয়ে। বলা যায়, এই শীতের শেষ পূর্ণিমা বইমেলার অঙ্গনে রেখে গেল তার বিদায়বেলার মধুর আলিঙ্গন। বইমেলার শেষ রাতে বাঙালির ঢল নেমেছিল। অনেকেই থমকে তাকাচ্ছিল আকাশপানে। সেখানে প্রায় পূর্ণ চাঁদের মায়া। শেষ শীতের মেঘশূন্য, কুয়াশাবিহীন আকাশে যে-মায়ার খেলা অধিকাংশ বাঙালির ছাদ ছাড়া শহুরে বাসার জানালার ফ্রেমে ধরা পড়ে না। সঙ্গে উপরি প্রাপ্তি শীতের শেষ ঝলক। ‘আহা!’ গতরাতে অনেক বাঙালির প্রাণে এই ছোট্ট মৃদু অবাক আহ্লাদ জেগেছিল বইকি! এবং তার গায়ে জড়িয়ে ছিল মনকেমন। শীত যেন এল, আর গেল! আরও ক’টা দিন
থাকতে পারত। কেন এত তাড়া?

এই বছর শীত, প্রথম দিকে লাজুক দ্বিধায় কিন্তু-কিন্তু করলেও, ক্রমে বেশ জাঁকিয়েই বসল। তবে বেশিরভাগ বাঙালি কি তাকে ঠিক তেমন জমিয়ে ‘চিয়ার্স’ বলতে পেরেছে? শীত যত বেড়েছে, ততই নাকি জেগেছে বাঙালির হাড়ে-হাড়ে কাঁপুনি। অন্তত সংবাদপত্রের আবহাওয়াবাণীতে ছড়িয়ে পড়েছে বঙ্গের কাঁপন-বার্তা। সেই সঙ্গে আমাদের ঘরে ঘরে ঠান্ডা লাগার ভয়। গলায় মাফলার, মাথায় পশমের টুপি, এমনকী কানঢাকা মাঙ্কি ক্যাপ, গায়ে গরম জামার উপর চাদরের মুড়ি, শীতের সেই জবুথবুমির মধ্যে সত্যিই কি ছিল জম্পেশ শীতের প্রাণময় উপভোগ? বরং ছিল বাতজ বেদনার ‘উঃ আঃ’। কিংবা হাঁচি-কাশি, বুকভরা সর্দি, গলাভরা টনসিলের উপদ্রব। শীত এই বছর বড্ড বাড়াবাড়ি করছে, গেলে বাঁচি, এমন কথাও শোনা গিয়েছে। এই কথাটাই হয়তো রূঢ় সত্য যে, শীত আমাদের ধাতে সয় না।

Advertisement

গ্রীষ্মের দুর্ভোগ, তারপর বর্ষার জলজমা শহর-গ্রাম, মশার ঝাঁক, তারই মধ্যে আসন্ন নির্বাচন।

শীতের আপাত আরামে অনেক হারাম। স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ এত স্তুতির গীতি লিখেছেন বর্ষা, এমনকী গ্রীষ্ম নিয়েও। কিন্তু তাঁর শীতের গানে তেমন অপেক্ষা, আলিঙ্গন এবং বিদায়ী-বেদনা
আছে কি? একটু ভাবলে শীতের জন্য রবীন্দ্রনাথের মনকেমনের দু’টি লাইন অবশ্য ভুলতে পারা শক্ত: ‘মাঘের সূর্য উত্তরায়ণ পার হয়ে এল চলি/ তার পানে হায় শেষ চাওয়া চায়। করুণ কুন্দকলি’। শীতের ছোট্ট ছোট্ট তুষারধবল কুন্দফুল, যে-ফুলের মালা পরেন সরস্বতী, তারও চলে যাওয়ার সময় হল শীতের সঙ্গে। রবীন্দ্রনাথের বেদনা বিদায়বেলার করুণ কুন্দকলির জন্য!
ইতিমধ্যেই চেতাবনি এসেছে আবহাওয়া দফতর থেকে, এ-বছর গর্মি আসবে এমাসের শেষ থেকেই। রেকর্ড-ভাঙা গরম পড়বে। এসি-র বাজারও গরম হতে চলেছে খুব তাড়াতাড়ি।

স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ এত স্তুতির গীতি লিখেছেন বর্ষা, এমনকী গ্রীষ্ম নিয়েও। ফাইল চিত্র।

গ্রীষ্মের দুর্ভোগ, তারপর বর্ষার জলজমা শহর-গ্রাম, মশার ঝাঁক, তারই মধ্যে আসন্ন নির্বাচন। ভাবার মতো সমন্বয় অবশ্যই। কিন্তু সেই নিরীক্ষণ, নির্ণয়ের জন্য তো চাই একটা জুতসই জায়গা। এবং একেবারে তরতাজা ‘ইয়ং বেঙ্গল’ ভাবতে শুরু করেছে শীতশেষে কোনও শীতভূমিতেই কিছু দিনের নিলয়নিবাস! আর-একটি কথা। শীত যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যদি সম্পর্কের শৈত্যকেও খানিকটা শুষে নিয়ে চলে যায়। একটু প্রাণের ফুল্লতায় মানুষ যেন সম্পর্কে বাঁচতে পারে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.