মেয়ের স্কুলে প্রিন্সিপালের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিল শ্রীকান্ত তিওয়ারি। সে কি ‘অভিভাবক’ হিসাবে খুব নম্বর পাবে। শ্রীকান্ত-র মনে সংশয় ছিল। ছেলে-মেয়ের সঙ্গে সে সময় কাটায় না এমন নয়। তবে তাদের কেরিয়ার-মুখী করে তুলতে, অন্য বাবাদের মতো ততখানি তৎপরও নয়। নিজের পেশায় মজে থাকে। দূর থেকে দেখে তাই মনে হয়, সে বুঝি ছেলে-মেয়ের ব্যাপারে একটু আলগা, ক্যাজুয়াল। স্কুলের প্রিন্সিপালও তা-ই বলতে চাইছিলেন। স্পষ্টত অস্বস্তিতে পড়া শ্রীকান্ত-কে বাঁচিয়ে দিল বুলডোজার। স্কুলের একাংশ ভেঙে ফেলার অর্ডার বেরিয়েছে।
বুলডোজার হাঁকিয়ে হাজির বৃহমুম্বইয়ের দেখভালের দায়িত্বে থাকা কর্পোরেশন-কর্তা। প্রিন্সিপাল ম্যাডাম রুচিশীল, বিদুষী, ব্যাক্তিত্বময়ী, সম্ভ্রান্ত। ইংরেজি ছাড়া কথা বলেন না। কিন্তু আগ্রাসী বুলডোজারের থাবা থেকে কী করে বিল্ডিং রক্ষা করতে হয়, সে বিদ্যে তাঁর অধরা। এমন সময় ঝাঁপিয়ে পড়ে শ্রীকান্ত। ধমকে, চমকে একশেষ করে কর্পোরেশনের কর্তাকে। মুখ থেকে বেরিয়ে আসে অপশব্দ। শুনে মেয়ে ও মেয়ের স্কুলের প্রিন্সিপাল দু’জনের ভুরু কুঁচকে যায়। কিন্তু করণীয় কী?
এ-দেশে ‘কাগজ দেখাব না’-র গোঁয়ার্তুমি আমরা প্রত্যক্ষ করেছি। যে বা যারা ‘কাগজ’ দিতে অপারগ, তাদের জন্য আইন বা রাষ্ট্র সদয় হবে না, এমন কথা কোথাও বলা হয়নি।
শ্রীকান্ত ফোন ঘোরায় কমিশনারকে। এবং কমিশনারের নির্দেশে বুলডোজারের মতি ও গতি বদলায়। ওই কার্পোরেশন-কর্তা মেনে নেয়, ভুল তার। মেয়ের স্কুলকে এভাবে সাক্ষাৎ যমের মুখ থেকে বাঁচিয়ে ‘হিরো’ হয়ে যায় শ্রীকান্ত তিওয়ারি। এ-গল্পের মজার দিকটি কিন্তু বেশ পীড়াদায়ক। স্কুল ভাঙার নোটিস জারি হয়েছে। এও কি সম্ভব। যে কর্পোরেশন-কর্তা দলবদল নিয়ে বুলডোজার হাঁকিয়ে স্কুল ভাঙতে উদ্যত ছিল, এমনকী তারও মনে প্রশ্ন জাগেনি, কেন স্কুল ভাঙতে হবে। স্কুলের কোনও অংশ কি বেআইনি নির্মাণ তবে? বেআইনি নির্মাণের সঙ্গে অসাধু ব্যবসায়ী ও প্রোমোটিং চক্র জড়িয়ে থাকে। ফলে যত্রতত্র গজিয়ে ওঠে
অনুমতিহীন বহুতল। তা’বলে স্কুল।
রজ অ্যান্ড ডিকে নির্মিত ‘ফ্যামিলি ম্যান’ সিরিজে ‘এনআইএ’-এর অফিসার রূপে আমরা এই শ্রীকান্ত তিওয়ারিকে পেয়েছিলাম। ‘বুলডোজার’ বলতে যেখানে শক্তিমত্তার প্রদর্শন বোঝায়, তার বিপরীতে শ্রীকান্ত দাড়িয়েছিল। তবে এন্ড মানতে হবে, নিয়মের পরোয়া না করে যে বা যারা এখানে-ওখানে বাড়ি হাঁকিয়ে ফেলছে, বা বসতি গড়ে তুলছে- তাদের হুঁশিয়ারি দিতে বুলডোজারের তাশুন কখনও কখনায় নির্বিকল্প। এ-দেশে জরুরি কাজকর্মে ‘কাগজ’ অপরিহার্য। ব্যাজ হোক বা ভিসা- ‘কাগজ’ গরমিল থাকলে কাজ হবে না। আবার ‘কাগজ’ ঠিক থাকলে, তা-ই রক্ষাকবচ।
এরপরেও এ-দেশে ‘কাগজ দেখাব না’-র গোঁয়ার্তুমি আমরা প্রত্যক্ষ করেছি। যে বা যারা ‘কাগজ’ দিতে অপারগ, তাদের জন্য আইন বা রাষ্ট্র সদয় হবে না, এমন কথা কোথাও বলা হয়নি। আবার এমনও বলা হয়নি যে, কাগজ না-দেখানোর জুলুম করে বেআইনি দখল বা অনুপ্রবেশ বা নাগরিকত্ব আদায়ের চেষ্টা ক্লিনচিট পাবে। বুলডোজারের গড়ানো কাম্য নয়। কাম্য নয়, বুলডোজার গড়ানোর কারণ প্রস্তুত করা।
সর্বশেষ খবর
-
অরূপ-স্বরূপের ‘রহস্যময় ঘরে’ তল্লাশি পুলিশের, উদ্ধার মোবাইল-আইপ্যাড, প্রচুর নথি!
-
কুলটিতে ‘ভয় আউট, ভরসা ইন’, মন্ত্রীর জনতার দরবারে ৫ বছরের সমস্যার সমাধান ২৪ ঘণ্টায়!
-
আলিপুরদুয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিয়ন রুমে কন্ডোম, নেশার সামগ্রী! শোরগোল শিক্ষাঙ্গনে
-
লোকসভায় ‘অপারেশন লোটাসের’ নেপথ্যে কে? নাম সামনে আনলেন ‘বিদ্রোহী’ কাকলি
-
দুবাইতে ভয়ংকর দুর্ঘটনা! মিনিবাস-ট্রাকের সংঘর্ষে মৃত্যু বহু ভারতীয়র