প্রেসিডেন্ট শেনবাউমের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল মেক্সিকো। পার্টি-হস্তক্ষেপ ছাড়া নির্বাচন এবং স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার দাবিতে সরব জেন জি।
প্রেসিডেন্ট শেনবাউমের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল মেক্সিকো। পার্টি-হস্তক্ষেপ ছাড়া নির্বাচন এবং স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার দাবিতে সরব জেন জি। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেনবাউম পারদোর পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল রাজধানী মেক্সিকো সিটি। শনিবার স্বাধীনতার প্রতীক ‘অ্যাঞ্জেল অফ ইন্ডিপেনডেন্স’ স্মারক থেকে কনস্টিটিউশন স্কোয়্যার পর্যন্ত মিছিল শেষে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ রাষ্ট্রপতি ভবনে ঢোকার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বিক্ষোভকারীদের হাতে রয়েছে ‘জেনারেশন জেড’ পোস্টার।
দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে ব্যাপক দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ছিলই, তার উপর শহরের মেয়র কার্লোস মানজো-র খুনের ঘটনায় সরকারের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠল সে-দেশের যুবসমাজ। মানজো অগ্রণী সংঘ-বিরোধী আন্দোলন-কর্মী রূপে কাজ করতেন। এই বিক্ষোত একদিকে যেমন একটি নতুন রাজনৈতিক তরঙ্গ, অন্যদিকে তেমনই প্রথাগত রাজনৈতিক শক্তিগুলির জন্য একটি অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। একদিকে স্বৈরাচারবিরোধী ক্লাপ্তি, অন্যদিকে সেই ক্লান্তিকে বিক্ষোভের আয়ুষ হিসাবে ব্যবহারের প্রশ্ন। এই আন্দোলনকে মেক্সিকোর রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের অসাম্য, এবা ভবিষ্যৎ সম্পর্কেও একটি গভীর সাক্ষ্য বলে মনে কর হচ্ছে। এই বিক্ষোভ আন্দোলনের হোতা ‘জেনারেশন জেড মেক্সিকো’ নামে একটি গোজী। যারা ঘোষণা করেছে তারা অতিবামপন্থী বা অধিকারপন্থী নয়- ভারা সেই প্রজন্ম, যারা মাথা নিচু করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গিয়েছে। তাদের একটি ম্যানিফেস্টো রয়েছে, যেখানে তারা নাগরিকদের জন্য এমন প্রক্রিয়া চায়, যা রাজনৈতিক দলগুলির নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত। যেমন, যমন, পার্টি-হস্তক্ষেপ ছাড়া নির্বাচন এবং স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া। যদিও সরকার দাবি করে বিক্ষোভ বছ গভীর থেকে সংগঠিত এবং প্রভাবশালী কিছু গোষ্ঠীর মিশনে চালিত। এমন আভাসও নাকি রয়েছে যে মিছিলটি শুধু তরুণদের ক্লান্তির কণ্ঠ নয়, বরং রাজনৈতিক চালের অংশ। এখানেই এ-বিক্ষোভের সবচেয়ে বড় তাৎপর্য। এটি মেক্সিকোর রাজনীতিতে নিভৃত, দীর্ঘস্থায়ী অসাম্যকে এক নতুন চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড় করাচ্ছে। একদিকে তরুন প্রজন্ম, যারা প্রযুক্তিতে পারদর্শী, সামাজিক মাধ্যমকে শক্তিশালী হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করছে নিজেদের কথার প্রচারে- অন্যায়, অবিচার, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে।
অন্যদিকে, শক্তিশালী রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক গোষ্ঠী, যারা দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় রয়েছে, তারা অত্যন্ত সতর্ক যে, এই নতুন তরঙ্গকে শুধু ‘প্রদর্শনমূলক প্রতিবাদ’ হিসাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারা যায় কি না। কারণ যদি তরুণদের ক্ষোভ প্রকৃতপক্ষে রাজনৈতিক রূপ নেয়, তাহলে তা তাদের জন্য বিশেষভাবে বিপজ্জনক হতে পারে, যারা নিজের অবস্থানকে প্রশ্নহীনই ধরে নিয়েছে। সাম্প্রতিকে ‘জেন জি’ শব্দটি ‘গ্লোবাল প্রোজেক্ট’ হিসাবে বিক্ষোভ এবং বৈপরীত্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে। তবে, মেক্সিকোর এই জেন জি বিক্ষোভ শুধু একদিনের আবেগই নয়, এটি এক বিবর্তনশীল রাজনৈতিক প্রক্রিয়া। মেক্সিকোর সরকার ও সমাজকে সেটা বুঝতে হবে। দমন সমাধান নয়।
সর্বশেষ খবর
-
পাটের জমিতে লুকিয়ে ২ দিন! পুলিশ ভ্যান থেকে ঝাঁপ দিয়ে পলাতক দুষ্কৃতী অবশেষে জালে
-
যৌনগন্ধী মন্তব্য বিতর্ক অতীত, জন্মদিনে প্রেমিকার সঙ্গে মহাকালের দরবারে ‘শাপমোচন’ রণবীরের
-
বিশ্বকাপের আগে মেসির মুকুটে নতুন পালক, প্রথম ফুটবলার হিসাবে জিতলেন এই পুরস্কার
-
কলকাতা পুরসভা বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টা! ১৯ জুন অধিবেশনের ডাক ‘পুরনো তৃণমূলে’র
-
আইসক্রিম ভেবে ‘ক্ষতিকর’ ফ্রোজেন ডেজার্ট খাচ্ছেন না তো? পার্থক্য না বুঝলেই মুশকিল