১.৫ ডিগ্রির সীমারেখা পেরনোর মুখে দাঁড়িয়ে পৃথিবী- এখনই পদক্ষেপ না করলে জলবায়ু বিপর্যয় আর দূরের আশঙ্কা থাকবে না।
পৃথিবীর জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আশঙ্কার কথা বহু দিন ধরেই বলা হচ্ছে। কিন্তু রাষ্ট্র সংঘের পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি) সাম্প্রতিক ‘লিমিটিং ওভারশুট’ প্রতিবেদন সেই আশঙ্কাকেই আরও স্পষ্ট, আরও ভয়াবহ করে তুলল। ‘প্যারিস জলবায়ু চুক্তি’-তে বিশ্ব উষ্ণায়নকে প্রাক শিল্পবিপ্লব যুগের তুলনায় ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার যে লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছিল, আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই তা অতিক্রম করার সম্ভাবনা প্রবল। সবচেয়ে উদ্বেগের, বিশ্বের সমস্ত দেশ যদি এখনও নিজেদের ঘোষিত জলবায়ু প্রতিশ্রুতি পূরণ করে, তাহলেও উষ্ণায়ন ১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। অর্থাৎ বিপদ শুধু
ভবিষ্যতের অনিশ্চিত আশঙ্কা নয়, সেই পরিস্থিতি ইতিমধ্যেই তৈরি হয়ে গিয়েছে।
১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস শুধু সংখ্যা নয় যে, তার নিচে পৃথিবী নিরাপদ থাকবে এবং তার উপরে গেলেই বিপর্যয় শুরু হবে। কিন্তু এই সীমা অতিক্রম করার সঙ্গে সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি যে বহুগুণ বেড়ে যাবে, সে সতর্কতা বিজ্ঞানীদের দীর্ঘ দিনের। হিমবাহ, মেরু অঞ্চলের বরফ, তুষারস্তর, পারমাফ্রস্ট এবং সমুদ্রের বরফে বড় পরিবর্তন ঘটলে তার প্রভাব শুধু পাহাড় বা মেরু অঞ্চলে আটকে থাকবে না, সেই সঙ্গে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়বে, উপকূলবর্তী জনপদ বিপন্ন হবে, বন্যা ও দাবানলের প্রকোপ বাড়বে, তীব্র তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন আঘাত হানবে এবং খাদ্য ও পানীয় জলের নিরাপত্তা ক্রমশ দুর্বল হবে। অ্যান্টার্কটিকা, গ্রিনল্যান্ডের বরফ স্তর কিংবা আমাজনের মতো পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক ব্যবস্থা এমনভাবে বদলে যেতে পারে, যার ক্ষতি কোনও অভিযোজন ব্যবস্থাই পুরোপুরি সামাল দিতে পারবে না।
বিশ্বের সমস্ত দেশ যদি এখনও নিজেদের ঘোষিত জলবায়ু প্রতিশ্রুতি পূরণ করে, তাহলেও উষ্ণায়ন ১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। অর্থাৎ বিপদ শুধু ভবিষ্যতের অনিশ্চিত আশঙ্কা নয়, সেই পরিস্থিতি ইতিমধ্যেই তৈরি হয়ে গিয়েছে।
ইউএনইপি-র সতর্কবার্তা তাই উপেক্ষা করার মতো নয়। ১.৫ ডিগ্রির উপরে গেলে তার পরিণতি ভালো হবে না। ইতিমধ্যেই পৃথিবীর নানা প্রান্তে অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহ, ভয়াবহ বন্যা, দাবানল এবং চরম আবহাওয়ার ঘটনা মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করছে। আগামী দিনে এগুলিই যদি আরও ঘন ঘন এবং আরও তীব্র হয়ে ওঠে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষ। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য ঐতিহাসিকভাবে সবচেয়ে বেশি দায়ী দেশগুলির তুলনায় এই মানুষগুলির অবদান অত্যন্ত সামান্য। জলবায়ু ন্যায়ের প্রশ্নটি এখানেই সবচেয়ে তীব্র হয়ে ওঠে।
১.৫ ডিগ্রির উপরে গেলে তার পরিণতি ভালো হবে না। ইতিমধ্যেই পৃথিবীর নানা প্রান্তে অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহ, ভয়াবহ বন্যা, দাবানল এবং চরম আবহাওয়ার ঘটনা মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করছে।
তবে ‘ইউএনইপি’-র বার্তায় শুধু হতাশা নেই, রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ আশার কথাও। ১.৫ ডিগ্রি অতিক্রম করলেই সব শেষ হয়ে যাবে, এমন নয়। উষ্ণতা যত দ্রুত সম্ভব কমিয়ে ফের ১.৫ ডিগ্রির নিচে নিয়ে আসার লক্ষ্য নিয়ে ‘অতিক্রম, সর্বোচ্চ বিন্দু ও পতন’-এর পথ অনুসরণ করা সম্ভব। অর্থাৎ এখনকার ব্যর্থতাকে ভবিষ্যতের স্থায়ী পরাজয় হিসাবে ভাবার কারণ নেই। কিন্তু সেই প্রত্যাবর্তনের জন্য প্রয়োজন সদর্থক পদক্ষেপ। গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমানো, পরিচ্ছন্ন শক্তিতে দ্রুত রূপান্তর, বন ও প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র রক্ষা এবং একই সঙ্গে বাতাস থেকে কার্বন সরিয়ে ফেলার প্রযুক্তির ব্যবহার- সবকিছুকেই গুরুত্ব দিতে হবে।
সর্বশেষ খবর
-
সিপিএম-আরএসপি দ্বন্দ্ব চরমে! চূড়ান্ত হলো না দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচনের প্রার্থী
-
‘নিখোঁজ’ বিডিও কীভাবে পাচ্ছেন বেতন? প্রশান্ত বর্মনের মামলায় সিআইডিকে ‘ভর্ৎসনা’ হাই কোর্টের
-
তসলিমার বক্তৃতা নিয়ে প্রশ্ন স্কুলের পরীক্ষায়! ‘লেখাকে অত সহজে নির্বাসিত করা যায় না’, খোঁচা লেখিকার
-
মণ্ডপের বদলে এবার গঙ্গাতেই প্রতিমা নিরঞ্জন, বিতর্ক কাটিয়ে এবার থিমে কোন চমক দেবে টালা প্রত্যয়?
-
শেফালির ঝড়, দীপ্তির দুরন্ত ঘূর্ণি! বাংলাদেশকে উড়িয়ে ১০ এশিয়া কাপের ১০ আসরেই ফাইনালে ভারত