তুচ্ছ কারণে সহপাঠীর উপর আক্রমণাত্মক হয়ে উঠল কিশোর। এ কি শুধু মনস্তাত্ত্বিক বিকার, অভিভাবকের ভুল না শিক্ষাব্যবস্থার ব্যর্থতা।
একটা ছেঁড়া বইয়ের জন্য সহপাঠীর গলায় ছুরি চালাল নবম শ্রেণির পড়য়া! এটাই কি আমাদের প্রার্থিত শিক্ষাব্যবস্থা? সাউথ পয়েন্ট স্কুলের ঘটনা আমাদের চারপাশের অবস্থা সম্পর্কে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বার্তা দিচ্ছে। যার ইঙ্গিত স্পষ্ট, এখনও সচেতন না হলে রসাতলে যাবে সমাজ।
আরও পড়ুন:
স্কুলের মধ্যেই নবম শ্রেণির দুই ছাত্রের মধ্যে কোনও একটি বিষয় নিয়ে প্রথমে কথা কাটাকাটি শুরু হয়েছিল। সেখান থেকেই ক্রমশ পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, এরপরই একজন পড়ুয়া অন্যজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। ব্যাগের মধ্যে ছুরি নিয়ে আসা মানে পরিকল্পনা করেই হয়তো এমন কাণ্ড ঘটিয়েছে কিশোরটি। স্কুলের ভিতরে এমন ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠেছে, তেমনই ভাবতে হচ্ছে কেন একজন পড়ুয়া নিজের সহপাঠীর উপর এতখানি আক্রমণাত্মক হয়ে উঠল। পুরনো রাগ বা শত্রুতা, না কি আচমকাই মেজাজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলা- তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। কিন্তু ঘটনার গভীরতা কোনওভাবেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সামান্য বই ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে সহপাঠীদের বচসা থেকে এমন ঘটনা স্বভাবতই প্রশ্ন তুলে দেয় শিশুদের বর্তমান মনস্তাত্ত্বিক অবস্থান নিয়ে। কিশোর মনস্তত্ব কোথায় যাচ্ছে এবং কেন এই আগ্রাসন বাড়ছে, তা নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ যেমন ভাবনাচিন্তা করবে- তেমনই অভিভাবক থেকে শুরু করে বিশেষজ্ঞদেরও নজর দিতে হবে।
এটা কি শুধু একজন কিশোরের দোষ? না। এই ব্যর্থতা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার। পুরো সমাজের। আমরা ছোটদের শেখাচ্ছি সবেতে সেরা হতে হবে। কিন্তু সাফল্য না পেলে তা কীভাবে মেনে নিতে হয়, তা শেখাচ্ছি না। তারা জানে না, রাগ কীভাবে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। প্রত্যাখ্যানের যন্ত্রণা, অপমান কীভাবে সামলাতে হয়। অনেক সময় বাড়িতে বাবা-মায়ের মধ্যে ঝগড়া, বিশৃঙ্খল পরিবেশ বা কঠোর শাস্তি দেওয়ার প্রবণতা শিশুদের মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সমাজমাধ্যমে, ভিডিও গেমে অতিরিক্ত হিংসা তাদের মনে প্রভাব ফেলে। সেটাকেই স্বাভাবিক বলে ধরে নিয়ে নকল করতে চায়। অনেক সময় নিজের মনের ভাব, চাহিদা ঠিকমতো প্রকাশ করতে পারে না, বা তাদের সেই মানসিক চাহিদা অভিভাবকরা পুরণ করেন না। তাতেও তাদের মনে অস্থিরতা, ক্ষোভ তৈরি হয়। যার পরিণতি এই ধরনের ঘটনা।
আহত পড়ুয়ার বাবার মত, এটি সামাজিক অবক্ষয়ের ফল। ছেলেটির ‘মানসিক সংশোধন’ দরকার। ঠিক এই বিষয়টাই প্রত্যেককে বুঝতে হবে। সঠিক দিশার অভাব, নেতিবাচক পরিবেশের জন্য অনেকে ভুল করে ফেলে। নেতিবাচক দিকগুলি চিহ্নিত করে তা শুধরে নেওয়া প্রয়োজন। দরকার তার ভুল কাজের প্রভাব ও সমাজের প্রতি দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করা। পরিবারের উচিত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে এ বিষয়ে তাদের ঠিক লক্ষে পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে? যারা পথ দেখাবে, তারাই যদি ঠিক-ভুলের ফারাক করতে না পারে, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়ংকর হতে বাধ্য।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
রাতে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনা, নিউটাউনে দু’টি বাইকের সংঘর্ষে মৃত্যু নিরাপত্তারক্ষীর
-
দিনের পর দিন টাট্টু ঘোড়ার সঙ্গে যৌনতা! জেলে ব্রিটিশ কিশোর
-
রাজ্যবাসীকে ‘ফেস্টিভ প্যাকেজ’ উপহার খাদ্যমন্ত্রীর! ৫০ শতাংশ ছাড়ে মিলবে রেশন সামগ্রী
-
খুদে দুর্গা গড়েই চমক! দেশ-বিদেশে পাড়ি কৃষ্ণনগরের কৃশানুর অভিনব শিল্পকর্ম
-
‘তার মানে বিচার হবে’, অভয়া সৎকার মামলা সিবিআইয়ের হাতে যাওয়ার পর বললেন মা রত্না