Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ৬ জুন ২০২৬
Kumbh Mela 2025

কুম্ভমেলা তুমি কার?

কুম্ভমেলাটি এ-বছর দু’টি দলের শক্তি প্রদর্শনের ব্যবস্থা।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ১৯, ২০২৫, ২২:৪০

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ১৯, ২০২৫, ২২:৪০

options
link
কুম্ভমেলা তুমি কার? zoom

কুম্ভমেলাটি এ-বছর দু’টি দলের শক্তি প্রদর্শনের ব্যবস্থা। যারা বলেছিল– চাল, ডাল, আটা, পেট্রোল, ভোজ্য তেলের দাম কমাতে হবে না, শুধু মন্দির চাই, এটা তাদের মেলা। অন্যদিকে, রয়েছে কর্পোরেট শক্তির পেশি আস্ফালন। এর মাঝে রয়েছে ছায়ামূর্তির মতো অগণিত চরিত্র, শাহি স্নানের পুণ্য দিয়ে যাদের পরিমাপ হয় না। লিখছেন অমিতাভ মালাকার

হালে এই এক হয়েছে– সবেতেই ‘মহা’ না বসালে ইনি চটেন, তঁার মুখ গোমড়া। ফলে
‘মহা-কোলা’ থেকে ‘মহা কোলাহল’ অবধি প্রত্যেকের পদোন্নতি চোখের সামনে একাধিকক্রমে দেখলাম। নয়ের দশকের গোড়ায়, এমনকী, বামপন্থীদেরও ‘মহামিছিল’ শহর কঁাপাত। নামটা কেমন যেন উত্তর ভারতীয় বরযাত্রীদের অনুকরণ মনে হয়েছিল– এখনই বুঝি অনিলবাবু, বিমানবাবু, সুভাষবাবুরা সেহরা বেঁধে ঘোড়ায় চেপে লাজুক মুখে বেরলেন আলিমুদ্দিন থেকে– এমব্যারেসিং প্রথাটিকে কি দ্রুত ছেঁটে ফেলা যেত না? তারপর এই সাম্প্রতিক ‘মহাকুম্ভ’।

Advertisement

২০১৩ সালে গিয়ে যে-গুটিকয় সাধারণ পুণ্যার্থীর সঙ্গে বাতচিত হয়েছিল, তারা, যাকে বলে, ‘উইদাউট ব্যাটিং অ্যান আইলিড’– কুম্ভই বলেছিল। এমনকী, নানা কিসিমের খোকা-হারানো ঘোষকরাও তারস্বরে, কিছুমাত্র জানের পরোয়া বিনেই ‘মহা’ বাদ দিয়েছিল– তামাম মিডিয়া, পুলিশ, রাজনৈতিক ফড়েদের উপস্থিতিকে কঁাচকলা দেখিয়ে, তবে কেই-বা না জানে যে, মাইক হাতে পেলে দিল-জানের ভয়-ডর সব উবে যায়! কেবল দিন পঁাচেক আগে হাওড়া টিশানে অতুল মিশ্র আমার লগে গুফতগু করার সময় বার পঁচিশ ভুল শুধরে দিলে– ‘মহাকুম্ভ কহিয়ে জনাব, গঙ্গাজি কা আদর করনা চাহিয়ে।’ গোড়ায় ‘তুই-তোকারি’ চালানোর চেষ্টা করেছিল, আস্তিন গুটিয়ে কড়া চোখে চাওয়ায় ‘আপ’, ‘মাই বাপ’ সম্বোধনে সাবলীল হয়ে উঠল নিমেষে। তবে কুম্ভের বিষয়ে মহা অ্যাডামেন্ট।

ফের একবার দেখলাম চিড়িয়াটিকে আপাদমস্তক। খেউড়ি হয়নি বছর চারেক, অতএব মেলায় যাওয়ার খোয়াইশটি প্রাচীন। পরনের হঁাটু অবধি লাল ধুতি– তলা দিয়ে ‘নাইকি’ লেখা বারমুডাও উঁকি মারছিল– এবং শালু টাইপ উত্তরীয়টির বয়সও কম নয়। চকচকে কঁাসার থালায় গঁাদা, চন্দ্রমল্লিকা, নীলকণ্ঠ, জবা– মনে হল কোনও গৃহস্থর বাগান থেকে ঝেঁপেছে– কারণ, বেগুনি জবা পুজোর ফুল হিসাবে এখনও দোকানির তালিকায় পপুলার নয়! ছোট বাটিতে চন্দন বাটা এবং সিঁদুর– গোপালের মূর্তিটির গায়ে যেভাবে লুঙ্গির ছেঁড়া টুকরো ঘষছিল, তাতে মনে হল, স্টেশনে আসার পথে বড়বাজার থেকে সদ্য কিনেছে, বাৎসল্যবোধের আধিক্য চোখে পড়ার মতো। বছর তিরিশেক বয়স, গঁাজার কলকেটি নাকি গুরুর আশীর্বাদ– শুধালেম, শহরে অটোর পিছনে যে কারণে বাবা-মায়ের ‘আর্শিবাদ’ লেখা থাকে, ইটিও সেই কায়দাতেই সংগৃহীত কি না– তা সে জবাব না দিয়ে কেবল হাসলে!

পথে ‘শ্রীমৎ স্বামী অতুলানন্দ’ টাইপের জমকালো নাম ভেবে ওঠার পরামর্শ দিয়ে বললাম, ‘ভেক ধরেছ ভাল, তবে জনাব-টনাব বললে তোমার মুসলমান পরিচয়টি নিমেষে প্রকাশ পাবে। যারা মেলা এবং হিন্দুত্বর দায়িত্ব কঁাধে তুলেছে, তারা তদ্দণ্ডে মেরে পুঁতে দেবে।’ অতুল হাসল। বললে, তঁাদের গঁায়ে ‘জনাব’, ‘মিয়া’, ‘হুজুর’ শব্দগুলি বাপ-ঠাকুদ্দার সময় থেকেই বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সম্পত্তি, এখনও কোনও সম্প্রদায় থেকে সেগুলির মালিকানার কাগজ লিয়ে কোর্টচত্বর সরগরমের খবর নেই। লজ্জিত হলাম। খেয়াল করে দেখলাম, আমি বারকয়েক ‘প্রয়াগরাজ’ বলা সত্ত্বেও সে ‘ইলাহাবাদ’-ই কয়েছে বরাবর।

জনস্রোত দেখেই মালুম হল: মেলার উদ্দেশে পাড়ি জমানো ট্রেনগুলোর এমনকী পাদানিতেও আমার পক্ষে জায়গা পাওয়া অসম্ভব। অতুল জানালার পাশে সিট বাগিয়ে ফিরে এল। ‘মোদিজি পাকিস্তানের মুখে ঝামা ঘষে দেওয়ার জন্য এবার মেলা বাবদ পঁাচ হাজার কোটি টাকা খরচ করছেন।’ সংবাদটিকে সে কখনও নানা ইশারাটিশারা-সহ চোরাই মাল বিক্রির টোনে, কখনও ব্রিগেডে বক্তৃতার ঢঙে আমাকে শুনিয়েছে নিদেনপক্ষে বার পঞ্চাশেক। সঙ্গে ‘আপ ভি চলিয়ে’– এবং সেটা জেনুইন ভাইচারাজনিত সঙ্গলাভের আকুতি, নির্জন পথে অসহায় বাঙালির মস্তক ইষ্টক দ্বারা চূর্ণবিচুর্ণ করিয়া সর্বস্ব কাড়িয়া লওয়া তাহার উদ্দেশ্যে নয়।

হয়তো ভেবেছিল, পঁাচ হাজার কোটির খানিকটা কাগজকলম হাতে ছন্নের মতো ঘুরে বেড়ানো বেচারি বাবুটিও পাক। ও নিজে যে পাবে, সে বিষয়ে মনে হল, সন্দেহই নেই–চোখ-মুখ আত্মপ্রত্যয়ী সন্ন্যাসীর রথ দেখে কলা বেচে ফেরার জয়োল্লাসে ঝলমল করছিল।
প্রায় প্রত্যেকের দেখলাম এক অবস্থা। স্টেশনের বাইরে এক ছোকরা চার-পঁাচ ইঞ্চি মাপের ফ্রেমে বঁাধানো ছবি বিক্রি সেরে পরমানন্দে বিড়ি ফুঁকছিল– কালী, সারদা, বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথের মাঝে নরেন্দ্র মোদির ছবিও দেখলাম। রামকৃষ্ণর মতো শ্বেত পদ্মের উপর গেরুয়া-পরিহিত সৌম্য চেহারা, চশমাটাও বাদ দেয়নি– সে বললে– যবে থেকে পুণ্যার্থীদের ঢল নেমেছে, দুশো পিস মোদির ছবি বিক্রি হচ্ছে রোজ। রাত অবধি বেচলে সংখ্যাটা ‘ডবোল’ না হলেও অনেকটাই বাড়বে।

কীসের প্রত্যাশায় মানুষ মেলার পানে চলেছে, সে-প্রশ্নের শবব্যবচ্ছেদ দরকার মনে হল তাই। ইনস্টাগ্রাম, টুইটার, রিল, ফেসবুকে কেবল অভিযোগ– সঙ্গে সনির্বন্ধ উপদেশ– ‘খবদ্দার আসবেন না, পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে কোনও ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি।’ কী ব্যবস্থা নেবে? সান ফ্রান্সিসকোর গোল্ডেন গেট পার্কের একটি ভিডিও খুব চলছে বাজারে। শিবলিঙ্গর মতো একটি রোডব্লকার পেয়ে এনআরআই মহিলারা ভক্তিগদগদ চিত্তে দুধ, ফুল, মালা দিয়ে পুরসভা থেকে লাগানো গাড়ি আটকানোর খাম্বাটির পুজো করে ফাটিয়ে দিচ্ছে। যাদের– মোটামুটি লিঙ্গর মতো দেখতে– সাইজে বড় হলে তো কথাই নেই– কিছু একটা পেলেই বাহ্যজ্ঞান লুপ্ত হয়– তাদের মোদি বাড়তি কী দেবেন?

তাছাড়া এই উপমহাদেশে লোকে মেলায় গিয়েছে কঁাধে কম্বল ফেলে, সঙ্গে বড়জোর একটি গাড়ু। নদীর ধারে রাতে শুয়েছে, বৃষ্টি পড়লে কোনও আখড়ায় ধুনির গায়ে একটু আশ্রয় মিললে, সেটিই পূর্বজন্মের অশেষ পুণ্য ধরে আশমান পানে করজোরে আকুতি করেছে– ‘ফের যেন আসতে পারি।’ আর, গেরস্তরা মেলা থেকে ফিরতেই চাইত না। দ্রবময়ীর মতো গন্ডায় গন্ডায় মিলত না মানছি, তবে ধর্মবিকারগ্রস্তর দেশে দু’-একটি বক যথা এদিক-সেদিক খুঁটে বেড়াত শূন্য ঝুলি কঁাধে, ফিরতও তেজারতির কড়াক্রান্তি না মিটিয়েই। এখন সাধুরা প্রকৃত অর্থে নাঙ্গা হয়ে মেলায় আসে– তারপর জ্বালানি কাঠ দাও, সকাল থেকে রাত অবধি ভোজনের মন্ডা-মিঠাই দাও, ইসকনের মতো তঁাবু দাও। মহিলারা শাওয়ার লাগানো বাথরুম, ফ্রিতে বিউটি পার্লার, বিকেলে পানিপুরির স্টল চাইছে। বুড়োদের গদিওয়ালা বিছানা, মাথার উপর ছাদ এবং উত্তুরে হাওয়াটা আর-একটু পশ্চিম ঘেঁষে বইয়ে দেওয়ার আবদার। সিনেমা আর্টিস্টরা শুধু দেখলাম ধর্মেন্দ্র-দেবানন্দের মতো বিছড়ে হুয়ে জুড়ুয়া ভাইয়ের আবদারটি করলেন না!

কুম্ভমেলাটি এ-বছর আদতে দু’টি দলের শক্তি প্রদর্শনের ব্যবস্থা সেটি ভুললে চলবে? যারা বলেছিল– চাল, ডাল, আটা, পেট্রোল, ভোজ্য তেলের দাম কমাতে হবে না, শুধু মন্দির চাই, এটা তাদের মেলা– গোটা উত্তর ভারতের হিন্দু মধ্যবিত্তর ধর্মীয় রাজনীতির পেশি আস্ফালন। সঙ্গে বিভিন্ন মঠের মোহন্তদের– বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতের মন্দিরকেন্দ্রিক ক্ষমতার অচলায়তনগুলিকে বুঝিয়ে দেওয়া যে, নিউ নর্মালের বুলডোজার চলছে। এই রাষ্ট্রে ঈশ্বরের নাম রাম, নেতার নাম মোদি, মেলার নাম মহাকুম্ভ, জাতীর আত্মা মোদি মিডিয়া, ইত্যাদি প্রভৃতি। অতএব মুসলমানদের মেলায় ঢোকা নিয়ে চোরাগোপ্তা থেকে সর্বসমক্ষে হুমকি– এবং সাধারণ হিন্দুরা পেল একখাবলা অস্থায়ী রূপে প্রতিষ্ঠিত হিন্দু রাষ্ট্র। অন্যদিকে, রয়েছে কর্পোরেট শক্তি। গোটা শহর এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে দলিতদের ঘর-বাড়ি ভেঙে, মুসলমানদের এলাকায় বুলডোজার চালিয়ে, প্রাচীন স্কুল এবং পাঠাগার ধ্বংস করে নতুন মানচিত্রের খসড়াও তৈরি– ঠিক যেমন ক্যালিফোর্নিয়ায় আগুন লাগিয়ে ২০২৮ সালের আগে অলিম্পিকের জন্য স্মার্ট সিটির পরিকল্পনাটিকে একধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল মার্কিন নির্মাণ সংস্থার মাফিয়ারা– এবার গোটা অঞ্চলটিকে কম দামে গৃহহীনদের থেকে কিনে নিলেই চলবে!

এখানে ‘মেলা’ নামক প্রকল্পটিকেও এলাহাবাদ-সহ রিলায়েন্সকে বেচে দেওয়া কেবল সময়ের ওয়াস্তা– তাহলেই কর্পোরেটাইজেশন সম্পূর্ণ হবে, মেলায় ঢুকতে টিকিট কাটবে আপামর জনসাধারণ, এবং আবার একটি মুনাফাচরিতমানস লেখা হবে। এই ক’দিনে মেলা থেকে সরকারের আয় হয়েছে ২৫ হাজার কোটি টাকা। ব্যবসায়ীরা ভোটের সময় টাকা ঢালে, তারা চাইবে না এই বাণিজ্যের ভাগ? মামদোবাজি? দলিতরা এই ক’দিন উচ্চবর্ণের সঙ্গে এক নদীতে স্নান করার সুযোগও পেয়েছে, আর কী চায় ওরা?

ন্যুরেমবার্গে নাৎসিদের রেলা দেখানোর র‍্যালির অনুকরণে এবারের মহাকুম্ভ সাজানো হয়েছে
সে-বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। তবু, সমস্ত বিরুদ্ধ-স্বর চেপে দেওয়া হিটলারি গুন্ডাদের পক্ষেও যেমন সম্ভব হয়নি, ভাঙা মেলাও মনু মানেসরদের নাগালের বাইরেই থেকে যাবে বরাবর। সংক্রান্তির স্নান শেষ হলে মেলা কার, সে প্রশ্নের উত্তর হয়তো কোনও দিনই মিলবে না– তবে সেটিও কুম্ভমেলাই বটে। পুণ্যার্থীদের ঢল বাড়িমুখো যেমন, তেমনই পিলপিল করে লোক ঢুকবে মেলার মাঠে আগামী একমাস। ছকে বঁাধা পুণ্যের খোঁজ যাদের নেই, তাদের জাতের বিচার মশকরা নয়।

ছোটখাট পশরার ডালা নিয়ে ফেরে তারা, নদীতে ভেসে চলা গাছের ডাল টেনে আনে একাকী সাধুর আগুনের কাছে, ছেলে হারানো মহিলার পাশে বসে মন দিয়ে দুঃখের কাহিনি শোনে অযথা বাজে প্রশ্নে গল্পের খেই বিগড়ে না দিয়ে, বেনিয়াদের বাড়িতে কুয়ো থেকে জল তুলে স্নান সারে পরমার্থিক প্রাপ্তির হিসাবকে ফুৎকারে উড়িয়ে, এবং কোনও দিন মেলায় ঢোকার জন্য টিকিটের দরকার হলে– তারা চলে যাবে অন্য কোনও মেলায়– সাড়ে চার কোটির সমাগম ইত্যাদি বুক বাজানো কদর্যতার প্রয়োজন তাদের হয়নি কখনও। প্রত্যাশার গলায় শেকল পড়াতে হলে ৫ হাজার কোটিতে কুলোবে না, আরও বাড়তি কিছু দরকার– কী তা আল্লাই জানে!

ঈপ্সা নিয়ন্ত্রণের খেলাটি আদতে শঁাখের করাত– ‘কোনও ইচ্ছে নেই, চাইনে কিছুই’ লোকেদের সংখ্যাটি হিসাবের বাইরে থেকে যায় বলেই হয়তো তাদের মাথায় কর্পোরেট মেলা চাপিয়ে দিলেই সব সমস্যার সমাধান সম্ভব! সব পাওনাগন্ডা মিটিয়ে নেওয়া যাবে মুসলমান ফুলবিক্রেতা আর গঙ্গার মাঝিদের পুলিশ-মিলিটারি লেলিয়ে ছেঁটে ফেলতে পারলেই?
হয় কখনও?

(মতামত নিজস্ব)
লেখক সাংবাদিক
[email protected]

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.