প্রধানমন্ত্রী রূপে ধারাবাহিকভাবে ৪,৩৯৯ দিন পূর্ণ করে নতুন নজির গড়েছেন নরেন্দ্র মোদি। তাঁর নেতৃত্বে গত এক দশকে ভারতের অর্থনীতি, পরিকাঠামো, কৃষি ও সামাজিক সুরক্ষা ক্ষেত্রে এসেছে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। নারী ক্ষমতায়ন থেকে ডিজিটাল রূপান্তর– ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তোলার আয়ুধ। কলম ধরলেন বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল।
২০১৪ সালের পর থেকে অভূতপূর্ব উন্নতি হয়েছে ভারতের। দেশের অর্থনীতি এখন অনেক শক্তিশালী। পরিকাঠামো অবশ্যই অনেক উন্নত। মহিলাদের ক্ষমতায়ন হয়েছে দ্রুতগতিতে। কৃষকরা পণ্যের আরও ভালো দাম পাচ্ছেন। দরিদ্র মানুষ আরও দৃঢ় নিরাপত্তার আচ্ছাদনে। এই পরিবর্তনের কারণ– প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দূরদর্শিতা ও নেতৃত্ব। দেশের মানুষ তঁার দূরদর্শী, সংবেদনশীল নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছে।
আরও পড়ুন:
তিনি ১০ জুন দেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীদের মধ্যে ধারাবাহিক ভিত্তিতে সবচেয়ে বেশি সময়ে পদে থাকার মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। এদিন প্রধানমন্ত্রী হিসাবে মেয়াদের ৪ হাজার ৩৯৯ দিন পূর্ণ করলেন তিনি, ছাড়িয়ে গেলেন জওহরলাল নেহরুকে। এই ঐতিহাসিক মাইলফলক দেশের গণতন্ত্রের যাত্রায় বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। ২০১৪ সালে দেশের মানুষ যখন বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় মোদি সরকারকে ক্ষমতায় আনে, তখন ভারতের অর্থনীতি ছিল টালমাটাল। ইউপিএ-র জমানার নীতিপঙ্গুত্ব, দুর্নীতি– একের পর এক কেলেঙ্কারিতে মানুষ ছিল তিতিবিরক্ত।
সংবেদনশীল নেতৃত্ব
২০১৪ সালে শুরু হয় রূপান্তরের অনন্য এক যাত্রা। মোদি সরকার ৮১ কোটিরও বেশি মানুষের কাছে বিনামূল্যে খাদ্যশস্য পৌঁছে দিয়েছে, ৫৮ কোটি জন-ধন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির কর্মসূচিকে জোরদার করেছে, এবং ১৬ কোটি পরিবারে পৌঁছে দিয়েছে নলবাহিত জলসংযোগ। বিশ্বের বৃহত্তম স্বাস্থ্য বিমা কর্মসূচি ‘আয়ুষ্মান ভারত’-এর কল্যাণে ১২ কোটি পরিবার এখন ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত মূল্যমানের চিকিৎসা নিখরচায় পাওয়ার অধিকারী।
২০১৪ সালে দেশের মানুষ যখন বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় মোদি সরকারকে ক্ষমতায় আনে, তখন ভারতের অর্থনীতি ছিল টালমাটাল। ইউপিএ-র জমানার নীতিপঙ্গুত্ব, দুর্নীতি– একের পর এক কেলেঙ্কারিতে মানুষ ছিল তিতিবিরক্ত।
প্রথমে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী রূপে, পরে দেশের প্রধানমন্ত্রী রূপে নরেন্দ্র মোদি যে যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা করেছেন, তার আগে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কতটা কঠিন ছিল, কল্পনা করাও ভারতের নবীন প্রজন্মের অনেকের কাছেই বেশ কঠিন। তঁার দৃঢ় নেতৃত্ব এবং সংবেদনশীল কর্মকাণ্ড দেশকে ২০৪৭ সাল নাগাদ ‘বিকশিত ভারত’ হয়ে ওঠার দিকে এগিয়ে নিয়ে চলেছে। উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের মানুষকে নিজ-ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতন করে তোলার কাজও চলছে জোরকদমে।
নারী শক্তি
প্রধানমন্ত্রীর চেতনায় মহিলারা শুধুমাত্র ‘প্রকল্প’-র সুবিধা বা সহায়তার প্রাপক নন, তঁারা দেশের নির্মাতা। এই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে উপযুক্ত ভিত্তি গড়ার কাজ শুরু হয় প্রথমে। ‘স্বচ্ছ ভারত মিশন’-এর আওতায় ১২ কোটিরও বেশি শৌচালয় নির্মিত হয়েছে– নিশ্চিত হয়েছে মহিলাদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা। রান্নাঘরের ধোঁয়া থেকে মহিলাদের মুক্তি দিতে ‘উজ্জ্বলা যোজনা’-র আওতায় ১০ কোটিরও বেশি এলপিজি সংযোগ দেওয়া হয়েছে। ‘বেটি বঁাচাও বেটি পড়াও’ উদ্যোগ শিশুকন্যার শিক্ষা ও সার্বিক কল্যাণের বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়েছে। নারীশক্তি বন্দনা অধিনিয়মের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী আইনসভায় মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি করে নারী নেতৃত্বাধীন বিকাশের পথ প্রশস্ত করতে চাইছেন।
প্রথমে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী রূপে, পরে দেশের প্রধানমন্ত্রী রূপে নরেন্দ্র মোদি যে যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা করেছেন, তার আগে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কতটা কঠিন ছিল, কল্পনা করাও ভারতের নবীন প্রজন্মের অনেকের কাছেই বেশ কঠিন।
কৃষক কল্যাণ
নরেন্দ্র মোদির নীতিতে কৃষক কল্যাণ রয়েছে কেন্দ্রীয় স্থানে। প্রধানমন্ত্রী ‘কিষান সম্মান নিধি’-র মাধ্যমে কোটি-কোটি কৃষকের কাছে সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে আর্থিক সহায়তা। প্রায় ১০ কোটি কৃষক পরিবার এর ফলে উপকৃত। এই প্রকল্পের আওতায় মোট ৪.২৮ লক্ষ কোটি টাকা পৌঁছে গিয়েছে কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। ‘ন্যূনতম সহায়ক মূল্য’-ও অনেক বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। বর্তমানে তা উপাদান ব্যয়ের অন্তত ১.৫ গুণ। আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম বৃদ্ধির অঁাচ যাতে কৃষকদের না লাগে, তা নিশ্চিত করতে সুলভ মূল্যে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে ক্রপ নিউট্রেন্ট। তরুণ প্রজন্ম, সম্ভাবনার দরজা তরুণ প্রজন্মের সামনে সুযোগ ও সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে হাতে নেওয়া হয়েছে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘স্টার্টআপ ইন্ডিয়া’-র মতো কর্মসূচি। আধুনিক সময়ের চাহিদা অনুযায়ী, দেশের তরুণ প্রজন্মকে কর্মদক্ষ করে তুলতে গড়ে তোলা হয়েছে পৃথক দক্ষতা বিকাশ ও উদ্যোগ মন্ত্রক। ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ বিপ্লবের যাবতীয় সুবিধা যাতে ভারত নিতে পারে, তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। উদ্ভাবনমূলক কর্মকাণ্ডে গতি আনতে হাতে নেওয়া হয়েছে ‘স্টার্টআপ ইন্ডিয়া’ কর্মসূচি। এর সুবাদে বহু তরুণ-তরুণী কর্মপ্রার্থী না থেকে হয়ে উঠেছেন কর্মদাতা। দেশে উদ্যোগ-স্পৃহা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কর্মসংস্থান ও আর্থিক বিকাশে গতি এসেছে।
নরেন্দ্র মোদির নীতিতে কৃষক কল্যাণ রয়েছে কেন্দ্রীয় স্থানে। প্রধানমন্ত্রী ‘কিষান সম্মান নিধি’-র মাধ্যমে কোটি-কোটি কৃষকের কাছে সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে আর্থিক সহায়তা। প্রায় ১০ কোটি কৃষক পরিবার এর ফলে উপকৃত।
অর্থনীতি ও ‘ইজ অফ লিভিং’
২০১৪ সালের আগে ভারত বিশ্বের চোখে ছিল ৫টি ভঙ্গুর অর্থনীতি দেশের একটি। বিনিয়োগকারীরা এ-দেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছিলেন। সাহসী সংস্কার কর্মসূচি, বিনিয়োগকারীদের পক্ষে সুবিধাজনক বিভিন্ন নীতি, আর্থিক শৃঙ্খলা, এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের সুবাদে ভারত এখন বিশ্বের বৃহৎ দেশগুলির মধ্যে দ্রুততম বিকাশশীল এবং বিনিয়োগকারীদের অন্যতম গন্তব্য।
বিভিন্ন উন্নত দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে ভারত। আমাদের তরুণ প্রজন্ম, কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কারিগর ও কর্মীদের সামনে নতুন সুযোগের পরিসর তৈরি হয়েছে। অথচ, দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হয়নি– যেমন হয়েছিল ‘ইউপিএ’ আমলে কিছু অবিবেচনাপ্রসূত চুক্তির ফলে।
সরকারের প্রতি বণিক মহলের এবং মধ্যবিত্তর আস্থা দৃঢ় হয়েছে পণ্য ও পরিষেবা করের মতো সংস্কারমূলক কর্মসূচির কল্যাণে। ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’ উদ্যোগ এবং তার সঙ্গে ইন্টারনেট পরিষেবা ও ডিজিটাল লেনদেন পরিষেবার প্রসার দেশের অর্থনীতিতে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপন আগের তুলনায় অনেক সহজ হয়েছে। ছোটখাট কারণে অপরাধের তকমা লাগানোর সেকেলে আইনসমূহ দূর হওয়ায় এবং অকারণ বাধ্যবাধকতার বোঝা কমে যাওয়ায় বণিক মহলও বিশেষভাবে উপকৃত। ১২.৭৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বার্ষিক উপার্জনে কর-রেহাই মধ্যবিত্তকে স্বস্তি দিয়েছে।
আধুনিক পরিকাঠামো
কেন্দ্রীয় সরকার ভারতের পরিকাঠামো ক্ষেত্রে দ্রুত রূপান্তর এনেছে। চালু বিমানবন্দরের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে– ২০১৪-র ৭৪ থেকে বেড়ে এখন সংখ্যাটি ১৬০-এরও বেশি। রেল লাইনের বৈদ্যুতিকীকরণ হচ্ছে দ্রুতগতিতে। বুলেট ট্রেন প্রকল্প, জাতীয় মহাসড়ক নেটওয়ার্কের দ্রুত প্রসার ভারতের পরিকাঠামো ক্ষেত্রকে সারা বিশ্বের নিরিখেই প্রথম শ্রেণির করে তুলেছে। নরেন্দ্র মোদির সাফল্যের মূল কথা– অভূতপূর্ব ইতিবাচক রূপান্তর। তঁার নেতৃত্ব দরিদ্র মানুষ ও কৃষকদের কল্যাণ, মধ্যবিত্তর আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে অগ্রাধিকার দিয়েছে। উদীয়মান ভারতের স্বপ্ন বাস্তবায়িত করা প্রশাসনের অগ্রাধিকারের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
দেশ এগিয়ে চলেছে। এই যাত্রা হবে আরও দ্রুতিসমন্বিত। ২০৪৭ সাল নাগাদ ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে দেশ এগিয়ে চলবে দৃঢ় পদক্ষেপে।
(মতামত নিজস্ব)
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
গুরুত্ব চা-আমে, উত্তরবঙ্গে ব্যবসায়ীদের বৈঠকে মনের মতো বাজেটের প্রতিশ্রুতি অর্থমন্ত্রীর
-
বিশ্বকাপের মঞ্চ মাতাবেন বাংলাদেশি ডিজে! সঙ্গী কেটি পেরি, উত্তেজনায় ফুটছে ওপার বাংলা
-
বন্ধ ঘরে নিথর দেহ, আত্মহত্যা না খুন? পাঞ্জাবে মহিলা চিকিৎসকের রহস্যমৃত্যুতে অভিযুক্ত স্বামী
-
‘যদি বন্ধুর রূপ ধরে ক্ষতি করতে চান…’, ভুয়ো ছবিতে জেরবার জীতু! কী আর্জি অভিনেতার?
-
রিমঝিম বৃষ্টির মরশুমেও হাসবে বাগান, বর্ষা শুরুর আগে সেরে রাখুন জরুরি এই কাজগুলি