রুশ তেল কেনা নিয়ে ওয়াশিংটনের নতুন আইন ভারতের বিদেশনীতিকে আবার কাঠগড়ায় তুলেছে। পশ্চিমের আপত্তি আর নয়াদিল্লির অনড় অবস্থানের মাঝখানে প্রশ্ন একটাই– আমাদের দেশ কি সত্যিই এগোচ্ছে, না কি নিজের তৈরি জালেই জড়াচ্ছে?
পার্থ দেবনাথ: ১৮ সেপ্টেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নতুন আইনে সই করেছেন। রাশিয়া ও ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোর এই আইনে রুশ তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতাদের পণ্যের উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক বসানোর ক্ষমতা পেয়েছেন তিনি। চিনের পাশাপাশি ভারতও সেই ক্রেতাদের সামনের সারিতে। মার্কিন প্রতিনিধি সভায় বিলটি পাশ হয়েছে ২৬২-১৫৯ ভোটে। রুশ-জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করছে, এমন দেশগুলির জন্য ছাড়ের সংস্থান আইনে আছে। তবে কোন দেশে কত শুল্ক বসবে এবং কাকে ছাড় দেওয়া হবে, তা ঠিক করার এক্তিয়ার প্রায় পুরোটাই প্রেসিডেন্টের হাতে। নয়াদিল্লির বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, এমন পদক্ষেপ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে প্রভাব ফেলতে পারে, এবং আপন বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থরক্ষায় ভারত প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে।
যুক্তির শিকড় খুঁজতে গেলে ফিরতে হয় কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে। ‘চাণক্য’ নামেই যিনি পরিচিত সমধিক। রাষ্ট্রনীতিকে দাঁড় করিয়েছিলেন ‘সাম’, ‘দাম’, ‘দণ্ড’ ও ‘ভেদ’– এই চারটি স্তম্ভের উপর। তাঁর মণ্ডল তত্ত্বে প্রতিবেশী রাষ্ট্র স্বাভাবিক প্রতিদ্বন্দ্বী, আর প্রতিবেশীর প্রতিবেশী স্বাভাবিক মিত্র। সন্ধি, বিগ্রহ, আসন, যান, সংশ্রয় ও দ্বৈধীভাব– এই ছ’টি গুণের নীতিতেও সিদ্ধান্তের ভিত্তি– শক্তির আপেক্ষিক অবস্থান। বিচারের মাপকাঠি এখানে জাতীয় স্বার্থ, নৈতিক ধারাবাহিকতা নয়। অবশ্য একই বইয়ে প্রজার সুখেই রাজার সুখ– এ কথাও রয়েছে। তাই কৌটিল্যকে নিছক নীতিহীনতার প্রবক্তা বলা ঠিক নয়। তবু আধুনিক মানবাধিকারের ভাষার সঙ্গে তঁার রাষ্ট্রকৌশলের যে দূরত্ব, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।
বাস্তবে ভারত এই দর্শনের প্রয়োগ করেছে জ্বালানি, বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা– তিনটি ক্ষেত্রেই। ইউক্রেন যুদ্ধের আগে ভারতের আমদানি করা অশোধিত তেলে রাশিয়ার অংশ ছিল প্রায় ২ শতাংশ। ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে মস্কো বড় অঙ্কের ছাড় দিতে শুরু করার পর ছবিটা বদলে যায়। ২০২৫-’২৬ অর্থবর্ষে ভারতের অশোধিত তেল আমদানির প্রায় ৩০ শতাংশ এসেছে রাশিয়া থেকে। ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর রসনেফ্ট ও লুকঅয়েলের উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারি হলে ভারতীয় শোধনাগারগুলি বিকল্প খুঁজতে শুরু করে। বিশ্লেষক সংস্থা ক্যাপলারের তথ্য অনুযায়ী ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে রুশ তেলের অংশ দুই বছরে প্রথমবার ২৫ শতাংশের নীচে নামে। কিন্তু পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার পর ছবিটা আবার উল্টে যায়। বাণিজ্য মন্ত্রকের তথ্য বলছে, তেল আমদানির বিলে রাশিয়ার অংশ জানুয়ারির ২১.৪ শতাংশ থেকে বেড়ে এপ্রিলে পৌঁছেছে ৩৭.৭ শতাংশে। ওই মাসে মার্কিন অশোধিত তেলের অংশ ছিল মাত্র ২.৯ শতাংশ।
ওয়াশিংটনের সঙ্গে দরকষাকষিতেও একই কৌশল চোখে পড়ে। ২০২৫ সালে ভারতীয় পণ্যের উপর মার্কিন শুল্ক চড়ে ৫০ শতাংশে পৌঁছেছিল। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে এক বাণিজ্য চুক্তিতে তা নামে ১৮ শতাংশে, আর রুশ তেলের কারণে বসানো ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে তুলে নেওয়া হয়। মার্কিন সরকারের নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছিল, ভারত রুশ তেল সরাসরি বা পরোক্ষে কেনা বন্ধ করার অঙ্গীকার করেছে। অথচ দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে সেই অঙ্গীকারের কোনও উল্লেখ ছিল না। একই বিবৃতিতে ভারত ৫ বছরে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন জ্বালানি, বিমান, প্রযুক্তি ও অন্যান্য পণ্য কেনার অভিপ্রায় জানিয়েছিল। কূটনীতির ভাষায় একে বলা হয় ‘গঠনমূলক অস্পষ্টতা’। চাণক্য কৌশলের ভাষায় বলা চলে, সন্ধির সুবিধা নেওয়া হল, অথচ হাত পুরোপুরি বাঁধা পড়ল না। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে এই বহুমুখী নীতি আরও স্পষ্ট।
স্টকহোম আন্তর্জাতিক শান্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বা ‘সিপ্রি’-র ২০২৬ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ভারত ছিল বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অস্ত্র আমদানিকারক, বিশ্ব আমদানির ৮.২ শতাংশ ছিল তার ভাগে। ভারতের অস্ত্র আমদানিতে রাশিয়ার অংশ ২০১১-’১৫ সালের ৭০ শতাংশ থেকে কমে ২০২১-’২৫ সালে দঁাড়িয়েছে ৪০ শতাংশে। এই সময়ে ফ্রান্সের অংশ বেড়ে হয়েছে ২৯ শতাংশ, ইজরায়েলের ১৫ শতাংশ। অর্থাৎ মস্কোর সঙ্গে সম্পর্ক না ছিঁড়েও ভারত ধীরে ধীরে পশ্চিমের দিকে ঝুঁকেছে। জানুয়ারিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা শেষ হওয়া সেই ঝোঁকেরই আরেক প্রমাণ। প্রায় দুই দশকের দরকষাকষির পর সমাপ্ত এই চুক্তি প্রায় ২০০ কোটি মানুষের বাজারকে যুক্ত করবে, যা বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় এক-চতুর্থাংশ। যদিও সই ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া এখনও বাকি।
পশ্চিমের আপত্তি কতটা বাস্তব প্রশ্ন হল, পশ্চিম কি সত্যিই এই নীতিকে প্রত্যাখ্যান করছে? আপত্তির কারণ অবশ্য আছে। ফ্রিডম হাউজের ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে ভারত রয়েছে আংশিক স্বাধীন দেশের তালিকায়। ১০০-র মধ্যে তার স্কোর ৬২, আগের বছরের চেয়ে এক কম। সুইডেনের গোথেনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভি-ডেম ইনস্টিটিউট ভারতকে রেখেছে নির্বাচনী স্বৈরতন্ত্রের শ্রেণিতে। ভারত সরকার ও তার সমর্থকরা এই মূল্যায়নের পদ্ধতি এবং তার পিছনে পশ্চিমি ধারণা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তাদের যুক্তি, দেশে নিয়মিত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হয়, বিরোধী দল রাজ্যে ও কেন্দ্রে জেতে, আর সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচনী বন্ডের মতো সরকারি উদ্যোগ বাতিলও করেছে। এই বিতর্কে কে ঠিক, তার চূড়ান্ত বিচার এই লেখার কাজ নয়। কিন্তু একটা বিষয় স্পষ্ট। মূল্যবোধ নিয়ে সমালোচনা যতই তীব্র হোক, ভারতের সামনে পশ্চিম কোনও অর্থনৈতিক দেওয়াল তোলেনি।
তথ্য দেখলে বোঝা যায়, পশ্চিমের বাজার ভারতের জন্য খোলাই আছে। ২০২৫-’২৬ অর্থবর্ষে যুক্তরাষ্ট্র ছিল ভারতের সর্বোচ্চ পণ্য রফতানির গন্তব্য, মূল্য ৮৭.৩১ বিলিয়ন ডলার। চলতি অর্থবর্ষের এপ্রিল থেকে আগস্টে সেখানে রফতানি গত বছরের ৪০.৩৯ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ৪২.৭৯ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৬ শতাংশ বৃদ্ধি। একই সময়ে ভারতের মোট পণ্য রফতানি বেড়েছে ১৭.৮ শতাংশ, অঙ্কে ২১৫.৯১ বিলিয়ন ডলার। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বছরে ১৮০ বিলিয়ন ইউরোর বেশি মূল্যের পণ্য ও পরিষেবার লেনদেন চলে। অর্থাৎ পশ্চিম ভারতের সমালোচনা করে, কিন্তু ভারতকে বর্জন করে না। কারণ চিনের বিপরীতে একটি বড় ও তুলনামূলক স্থিতিশীল অংশীদারের প্রয়োজন তারও আছে। প্রথম বিশ্বের প্রত্যাখ্যান তাই অনেকটাই ভাষণের স্তরে, কাজের ক্ষেত্রে পশ্চিমও স্বার্থের হিসাবেই চলে।
ভারত কেন ছাড়ছে না
ভারত কেন এই পথ ছাড়ছে না, তার প্রথম উত্তর জ্বালানির অঙ্কে। দেশ তার অশোধিত তেলের প্রায় ৮৮ শতাংশ আমদানি করে। ঘরোয়া উৎপাদন ২০১৯-’২০ সালের ৩২.২ মিলিয়ন টন থেকে কমে ২০২৪-’২৫ সালে দঁাড়িয়েছে ২৮.৭ মিলিয়ন টনে। অন্যদিকে, দৈনিক চাহিদা ২০২৪ সালের ৫৬.৪ লক্ষ ব্যারেল থেকে বেড়ে ২০৩০ সালের মধ্যে ৬৬.৬ লক্ষ ব্যারেলে পৌঁছবে বলে পূর্বাভাস আছে। এমন একটি দেশ কোনও একটি সরবরাহ অঞ্চলের উপর ভরসা করে বসে থাকতে পারে না। ২০২৬ সালের হরমুজ সংকট সেই শিক্ষাই আবার দিয়েছে, কারণ উপসাগরীয় সরবরাহে টান পড়তেই রুশ তেল ফঁাক ভরাট করেছে। দ্বিতীয় উত্তর ইতিহাসে। ঔপনিবেশিক অভিজ্ঞতা ভারতকে শিখিয়েছে যে, শক্তিধর রাষ্ট্রের নৈতিক উপদেশ অনেক সময় তার নিজের স্বার্থের মোড়ক। তাই নয়াদিল্লি কৌশলগত স্বাধীনতাকে নীতির কেন্দ্রে রাখে, এবং কোনও একটি শিবিরের শর্ত মেনে নিতে চায় না।
যেখানে হিসাব মিলছে না
কিন্তু হিসাবের খাতায় লোকসানের ঘরও কম ভারী নয়। মণ্ডল তত্ত্ব মেনে চললে, চিনকে– স্বাভাবিক প্রতিদ্বন্দ্বী বলা যায়, ভারতের। অথচ ২০২৫-’২৬ অর্থবর্ষে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রকে টপকে ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার হয়ে উঠেছে চিন। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১৫১.১ বিলিয়ন ডলারের। চিন থেকে ভারত আমদানি করেছে ১৩১.৬৩ বিলিয়ন ডলারের পণ্য, আর রফতানি করেছে মাত্র ১৯.৪৭ বিলিয়ন ডলারের, যা আমদানির প্রায় ১৫ শতাংশ। বাণিজ্য ঘাটতি ১১২.১৬ বিলিয়ন ডলার, একটি দেশের সঙ্গে ভারতের এ যাবৎ সর্বোচ্চ। ‘কোয়ান অ্যাডভাইজরি ও ইনস্টিটিউট অফ চাইনিজ স্টাডিজ’-এর একটি প্রতিবেদন জানাচ্ছে, শুধু বৈদ্যুতিন যন্ত্র ও সরঞ্জামেই ঘাটতি ২০১৮-’১৯ সালের প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৪৩.১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। যে প্রতিদ্বন্দ্বীকে কৌশলগতভাবে ঠেকিয়ে রাখার কথা, কারখানার যন্ত্রাংশের জন্য তার উপরেই নির্ভর করতে হচ্ছে। এই স্ববিরোধ কৌটিল্যের ছকে খাপ খায় না।
জ্বালানির ক্ষেত্রেও নির্ভরতা বদলেছে, কমেনি। এক সময় সস্তা তেলই ছিল রাশিয়ার দিকে ঝেঁাকার প্রধান যুক্তি। ‘দ্য ওয়্যার’-এ প্রকাশিত একটি বিশ্লেষণ বলছে, সাম্প্রতিক তথ্যে সেই ছাড় মিলিয়ে গিয়েছে এবং বাড়তি দামও দিতে হচ্ছে। যে-যুক্তিতে নির্ভরতা বেড়েছিল, তার বড় অংশ তাই এখন দুর্বল। অথচ সেই নির্ভরতাই ভারতকে মার্কিন শুল্কের মুখে দঁাড় করিয়েছে। শুল্ক বসলে আঘাত পড়বে সেই রফতানির উপর, যা যুক্তরাষ্ট্রে বছরে ৮৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি। ঝুঁকি আর লাভের এই অসম বণ্টন নীতিনির্ধারকদের ভাবার কথা। গঠনমূলক অস্পষ্টতারও একটি দাম আছে। ফেব্রুয়ারির চুক্তিতে যে-কথা কিনা মার্কিন আদেশনামায় লেখা ছিল, যৌথ বিবৃতিতে তা ছিল না। এই ফঁাক ওয়াশিংটনকে ভবিষ্যতে বলার সুযোগ দেয় যে, প্রতিশ্রুতি রক্ষা হয়নি। সেপ্টেম্বরের আইন সেই সুযোগেরই আইনি রূপ। বারবার শিবিরের মাঝখানে অবস্থান বদলালে অংশীদার হিসাবে ভারতের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। মণ্ডল তত্ত্বর যুক্তিতে চলতে গিয়ে প্রতিবেশী ছোট দেশগুলির মনে ভারতের উদ্দেশ্য নিয়ে সংশয় তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও থেকে যায়।
শেষ বিচারে
কৌটিল্য শুধু কৌশলের কথা বলেননি। তঁার সপ্তাঙ্গ রাষ্ট্রতত্ত্বে কোষ ও দণ্ড, অর্থাৎ অর্থভাণ্ডার ও সেনাবল– মিত্র ও জনপদের পাশাপাশি– রাষ্ট্রের অপরিহার্য অঙ্গ। দুর্বল রাষ্ট্রের কৌশল আর সবল রাষ্ট্রের কৌশল যে আলাদা, তাও তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন। ভারতের বর্তমান বহুমুখী নীতি তঁার দ্বৈধীভাবের কিছুটা কাছাকাছি। তবে এই নীতি সফল হয় তখনই, যখন রাষ্ট্রের নিজস্ব কোষ ও শক্তি দুই প্রতিপক্ষের চাপ একসঙ্গে সামলাতে পারে। চিনের সঙ্গে ঘাটতি, তেলের আমদানি নির্ভরতা, এবং মার্কিন শুল্কের খঁাড়া দেখিয়ে দিচ্ছে যে, ভারতের শক্তিভিত্তি এখনও সেই মাপে পৌঁছয়নি।
তাই ভারতের অবস্থান ভাল হচ্ছে না খারাপ– এই প্রশ্নের উত্তর সরল নয়। দরকষাকষির ক্ষমতায় ভারত এগিয়েছে। শুল্ক ৫০ থেকে ১৮ শতাংশে নামানো, ইউরোপের সঙ্গে চুক্তি, অস্ত্রের উৎস বহুমুখী করা– সেই অগ্রগতির প্রমাণ। উল্টোদিকে চিন, রাশিয়া ও ওয়াশিংটন– তিন দিকেই নির্ভরতার ঝুঁকি বেড়েছে। সমর্থকরা বলবেন, শক্তিশালী হওয়ার পথে এই ঝুঁকি অনিবার্য মূল্য। সমালোচকরা বলবেন, বাস্তব শক্তির ভিত্তি ছাড়াই কৌশলের সাফল্য খোঁজা হচ্ছে, আর গণতান্ত্রিক সূচকে পিছিয়ে পড়া দেশের নৈতিক কণ্ঠ পশ্চিমে ও গ্লোবাল সাউথে দুর্বল হচ্ছে। দুই যুক্তিতেই কিছু সত্য আছে। তবে একটা কথা এখনই বলা যায়। চাণক্যনীতির সার্থকতা মাপা হয় কোষাগারের জোরে, বক্তৃতার জোরে নয়। ভারত যদি ঘরোয়া উৎপাদন, জ্বালানির উৎস আর প্রযুক্তির নির্ভরতার হিসাব আগে মেলাতে পারে, তবে বিশ্বমঞ্চে তার কথার ওজন স্বতঃই বাড়বে।
(মতামত নিজস্ব)
লেখক সহকারী অধ্যাপক, সিকিম মণিপাল বিশ্ববিদ্যালয়
সর্বশেষ খবর
-
‘স্ট্যান্ডিং কমিটির শীর্ষে কেন বিদ্রোহী সাংসদ?’ কাকলিতে আপত্তি জানিয়ে স্পিকারকে চিঠি অভিষেকের
-
কেন কালীঘাট এলাকার একাধিক ব্যক্তির নামে সিম তুলেছিলেন সুমিত? নেপথ্যে বড় লেনদেন! তদন্তে পুলিশ
-
মেসি-ম্যাচে বঞ্চিত দর্শকদের শুভেন্দুর উপহার, উরুগুয়ে ম্যাচে ২২ হাজার টিকিট মিলবে বিনামূল্যে
-
ভারতের লড়াইকে ‘বাহবা’ দিলেন ব্রাজিল কোচ, হেরে খালিদ দুষলেন মনঃসংযোগের অভাবকে
-
‘লেনিন, মার্কস, হো চি মিন, এরা কারা?’ রাস্তার নাম বদল নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী