ইনস্টাগ্রামে শিশুদের উপর যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত আপত্তিকর কনটেন্টের বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে। ‘মেটা’-র কড়া মনোভাব গ্রহণ করা উচিত।
‘গরিব’ এবং ‘বড়লোক’-এর মধ্যে কী তফাত? সহাস্যে জানতে চাইছে একজন নারী, তার সইয়ের কাছে। সইটি বলছে: উভয়পক্ষই জামাকাপড় বিবর্জিত হয়ে মলত্যাগ করে। ফলে ‘তফাত’ আর রইল কোথায়? এ-কথা শুনে প্রশ্নকর্তা আরও জোরে হেসে তথ্যটি সমর্থন করল।
আরও পড়ুন:
এমন বহু রুচিবহির্ভূত রিলে এখন সোশ্যাল মিডিয়া ছয়লাপ, ভরভরন্ত। ফেসবুক থেকে ইনস্টাগ্রাম: সর্বত্র এক চিত্র, এক প্রবণতা। গোপাল ভঁাড়ের গল্পের চটি সংকলন একদা লোকাল ট্রেনে হু হু করে বিক্রি হত। এখনও হয়, তবে ব্যবসায়িক জোয়ারে টান কম। গোপালের গল্পের মধ্যে পাওয়া যেত গ্রাম্য, স্থূল, অসংশোধিত ও অমার্জিত রুচির বাহুল্য। যেমন: গোপাল একদিন এই চ্যালেঞ্জ নিল যে, বাজার থেকে টাটকা ইলিশ কিনে বাড়ি ফিরবে, কিন্তু কেউ দাম জানতে চাইবে না তার কাছে। মোটা টাকার শর্ত। গোপাল তা জিতেও যায়। কী উপায়ে? ইলিশ কিনে প্রথমে সে নিরাবরণ হয়। তারপর পরনের ধুতিটি জড়িয়ে নেয় মাথায়, পাগড়ির মতো করে। এবার হেঁটে যায় ইলিশ নিয়ে।
এ গল্পে যে অমার্জিত রস উছলে ওঠে, বলা বাহুল্য, সেটিই গল্পটিকে লোকপ্রিয় করেছে। ট্রেনে-বাসে এমন সস্তা গল্পের জন্য পাঠকের আদিখ্যেতা তৈরি হয়েছে। কিন্তু যে-গল্প কখনও তথাকথিত স্কুলমুখী না-হওয়া গোপালের জন্য বরাদ্দ, সেরকম অশালীন গল্পকুচি কি ‘রিল’ রূপে সামাজিক মাধ্যমে উঠে আসতে পারে?
‘জনতা’ বা ‘পাবলিক’ বলতে যে বৃহত্তর শ্রেণিকে বোঝায়, তাদের মোটা দাগের উত্তর হবে: কেন নয়! সামাজিক মাধ্যম তো কেবল সূক্ষ্মরুচিসম্পন্ন উচ্চকোটির মানুষের জন্য নয়। ভারতের মতো দেশে মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত ও প্রান্তিক মানুষের অঢেল অনুপ্রবেশ ঘটেছে সামাজিক মাধ্যমের পরিসরে। শিক্ষা, বীক্ষা, কৌলীন্য উপেক্ষা করে সেসব মানুষ এই সামাজিক মাধ্যমে নিজেদের উজাড় ও উপুড় করেছে। মতবিনিময়ে তারা আগলহীন, পিছুটানমুক্ত। ভাল-মন্দ বা রুচি-অরুচির প্রশ্নে তারা উদার ও নির্বিচার। ফলে প্রদর্শন-অযোগ্য কনটেন্ট, শ্রুতিকটু কনটেন্ট, আলোচনা করতে গিয়ে অস্ফুট ও অধোবদন হতে হবে এমন কনটেন্টের পোয়াবারো। ভারতের বিপুল জনসংখ্যা। তুলনায় ছঁাকনি কম। ফলে ফেসবুক ছেড়ে ইনস্টাগ্রামে এসেও রুচিসন্ধানী মানুষ হঁাপিয়ে ওঠে। অশ্লীল কনটেন্টের অঁাশটে গন্ধে টেকা যেন দায়।
এমনকী, ইনস্টাগ্রামে শিশুদের উপর যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত আপত্তিকর কনটেন্টের বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে। সংবাদসংস্থা ‘বিবিসি’ এ বিষয়ে প্রথম নজর টেনেছিল। ‘হোয়াটসঅ্যাপ’-এর জন্য প্রস্তাবিত ‘ইউজারনেম’ ফিচার চালু করা নিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে মেটা-র টালবাহানা চলছে। এমন সময়ে শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত আপত্তিকর বিজ্ঞাপন প্রচার করা ঘিরে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠাতে নির্দেশ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। ‘মেটা’-র কড়া মনোভাব-সহ পদক্ষেপ করা উচিত। রুচির প্রশ্নে, শিশুসুরক্ষার প্রশ্নে তা একান্ত জরুরি।
সর্বশেষ খবর
-
‘লাল পতাকাই জান’, গাড়িতে থাকবেই সিপিএমের প্রতীক! অনড় অ্যাপ ক্যাব চালক ফেরালেন যাত্রী
-
হবু স্ত্রীর হাতে ‘খুন’ নাতি, শোক সইতে না পেরে ১৬ দিনের মাথায় মৃত্যু কেতনের ঠাকুরদার
-
সেবাশ্রয় নিয়ে অভিষেকের নামে নয়া অভিযোগ ববির, নাম রয়েছে সুমিত-জাহাঙ্গিরেরও
-
‘ডিমের জায়গায় ইট মারা হবে…’, ‘পলাতক’ পঞ্চায়েত প্রধানদের হুঁশিয়ারি দিলীপের
-
‘ইথানল দুর্নীতি’র বিরুদ্ধে দিল্লিতে শুরু ধরনা! ‘মাইলেজ কমছে’, মানছে গাড়ি সংস্থাগুলিও