ভারতীয় বিমানচালক স্মিত মচ্ছরের মরণপণ ঝুঁকির সামনে নত হল ওমানি আক্রমণকারী কোপাইলট। বাঁচল ‘ফ্লাইদুবাই’-সহ যাত্রীরা!
২৪ ডিসেম্বর মানে খ্রিস্টোৎসবের সূচনা। পরের দিন-সহ সমগ্র সপ্তাহ ধরে সেই আনন্দের রেশ জারি থাকে। পয়লা জানুয়ারি নতুন বছরকে বরণ করা দিয়ে প্রীতি ও খুশির মন্তাজ আরও ঘন হয়। এমনই রেওয়াজ! ১৯৯৯ সালে, ভারতের ক্ষেত্রে, ঘটল উলটো। সেই বছরের ২৪ ডিসেম্বর, ‘আইসি ৮১৪’ বিমানকে, পোশাকি নাম ‘ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স এয়ারবাস এ৩০০’, অপহরণ করল হরকত-উল-মুজাহিদিনের জঙ্গিরা। ‘আইসি ৮১৪’ কাঠমান্ডু থেকে দিল্লি আসছিল। ১৯০ জন যাত্রী ছিলেন, ক্রু-সহ। জঙ্গিরা অপহরণের পর বিমানটিকে অমৃতসর, লাহোর, দুবাই হয়ে কান্দাহারে নিয়ে যায়। দুবাইয়ে ২৭ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়, সেই সঙ্গে ফেলে দেওয়া হয় একজন যাত্রীর দেহ। তাঁকে বিমানের মধ্যে নৃশংসভাবে কোপানো হয়েছিল। আফগানিস্তানে সেই সময় তালিবান রাজত্ব। জঙ্গিরা দাবি করে, ভারতের হাতে বন্দি ৩ জন কুখ্যাত জঙ্গিকে মুক্তি দিলে, তারাও ছেড়ে দেবে বিমানযাত্রীদের।
আরও পড়ুন:
দুঃস্বপ্ন তামাদি হয়নি বলেই হয়তো ‘ফ্লাইদুবাই’-এর ভারতীয় চালক স্মিত মচ্ছরের উপর সদ্য ঘটা প্রাণঘাতী হামলায় শঙ্কিত হয়ে উঠেছিল ভারত।
শুরু হয় স্নায়ুর লড়াই। শর্ত, পালটা-শর্ত আরোপের টানাপোড়েন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে, বিবেক কাটজুর নেতৃত্বে, একটি মধ্যস্থতাকারী দল উড়ে যায় অকুস্থলে। সে-দলে ‘র’-এর সেক্রেটারি সি. ডি. সহায়-সহ পরবর্তী সময়ের ভারতের ‘জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা’ অজিত ডোভাল প্রমুখ ছিলেন। শেষ পর্যন্ত মাসুদ আজহার-সহ অন্য ২ জঙ্গিকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছিল ভারত। ৩১ ডিসেম্বর অপহৃত বিমানের যাত্রীরা মুক্তি পান। এ ঘটনার ঐতিহাসিক প্রভাব এতই যে, ‘আইসি ৮১৪’ অপহরণকে অবলম্বন করে বানানো হয়েছে ওয়েব সিরিজ, ‘আইসি ৮১৪: দ্য কান্দাহার হাইজ্যাক’ (২০২৪)। নির্মাতা অনুভব সিনহা। সম্প্রতি হইচই ফেলা আদিত্য ধরের ‘ধুরন্ধর’ সিনেমাতেও ছায়াপাত ঘটেছে ‘আইসি ৮১৪’-র অপহরণের।
প্রশ্ন উঠেছে, ইজরায়েলগামী বিমানে কী করে সে সহচালকের আসন পেল? ওমানের সঙ্গে তো ইজরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই।
দুঃস্বপ্ন তামাদি হয়নি বলেই হয়তো ‘ফ্লাইদুবাই’-এর ভারতীয় চালক স্মিত মচ্ছরের উপর সদ্য ঘটা প্রাণঘাতী হামলায় শঙ্কিত হয়ে উঠেছিল ভারত। স্মিতের উপর আক্রমণ শানিয়েছিল ‘ফ্লাইদুবাই’ বিমানের কো-পাইলট এবং ওমানের নাগরিক হামাম আল-হামামি। সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর তদন্তকারী দল ইতোমধ্যে একে ‘জঙ্গি নাশকতা’ বলে উল্লেখ করেছে। সংবাদমাধ্যমের সূত্রে উঠে এসেছে, হামাম উগ্র কট্টরপন্থায় বিশ্বাসী। স্বদেশ ওমানেই সে উড়ান থেকে ‘নিষিদ্ধ’।
এরপর ‘রয়্যাল এয়ার মারোক’ ঘুরে সে এ বছরের শুরুতে ‘ফ্লাইদুবাই’ বিমান সংস্থায় যোগ দেয়। ঘটনার দিন তার ‘লিঙ্কডইন’ অ্যাকাউন্ট থেকে এমন দু’টি পোস্ট করা হয়, যার সঙ্গে পুরনো সন্ত্রাসবাদমূলক ঘটনার যোগ রয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, ইজরায়েলগামী বিমানে কী করে সে সহচালকের আসন পেল? ওমানের সঙ্গে তো ইজরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। আবার, ভুয়ো ভিডিও ছড়িয়ে ইতিমধ্যে ‘র’ এজেন্টের সঙ্গে এ ঘটনার যোগ তৈরির অপচেষ্টা হয়েছে। এহেন নানামুখী স্রোত কী স্বার্থে নিয়োজিত, সেই রহস্য উদ্ঘাটিত হবে কি আদৌ?
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
হিরো মচ্ছরকে কুর্নিশ, ‘বাংলা থেকেও তৈরি হবে রাষ্ট্রবাদী পাইলট’, বললেন শুভেন্দু
-
প্রেমিকার সঙ্গে মোমো ডেট! হাতেনাতে ধরতে সটান স্বামীর গাড়ির বনেটে স্ত্রী, তারপর যা হল…
-
ভারতের সঙ্গে ব্রাজিলের নির্বাচন গুলিয়ে ফেললেন ট্রাম্প! মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘ভীমরতি’তে হাসির রোল
-
‘১৫ দিনের মধ্যে ফিরে আসুন’, দল ভাঙার পরও ‘গদ্দার’দের জন্য দরজা খোলা মমতার!
-
টিম ইন্ডিয়ায় ব্রাত্য! এবার অন্য ভারতীয় দলে এন্ট্রি ভুবনেশ্বরের, এই টুর্নামেন্টে দেবেন নেতৃত্ব