Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ৫ জুন ২০২৬
Practice

ডুব দে মন! অনুশীলনই সাফল্যের সিঁড়ি

সম্প্রতি ক্যাচ ধরার অনুশীলনে নিমগ্ন তরুণ প্রাণ হারান ক্যাম্বিস বলের আঘাতে। তবে প্র্যাকটিসে আকণ্ঠ ডুবে যাওয়াই তো সাফল্যের সোপান।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ২৫, ২০২৬, ২১:১৫

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ২৫, ২০২৬, ২১:১৫

options
link
ডুব দে মন! অনুশীলনই সাফল্যের সিঁড়ি zoom
সকলের কি প্রয়োজন হয় নিয়মিত নিবিড় অনুশীলনের?

ওয়াটগঞ্জের মনসাতলার খেলার মাঠ। রোজ সকালের মতো সেদিনও বিশ বছরের অঙ্কিত দাস ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে এসেছিল ক্যাচ ধরা প্র্যাকটিস করতে। ওই মাঠের ক্রিকেট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ছাত্র অঙ্কিত। সেদিন টেনিস বল নিয়ে একাই ক্যাচ প্র্যাকটিস করছিল। বলটা ছুড়ে দিচ্ছিল অনেক ওপরে। ধরছিল নির্ভুলভাবে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছে, একবার বলটা আকাশে উঠে গিয়ে যেন উবে গেল। অঙ্কিত ক্যাচ ধরার অপেক্ষায়। কিন্তু বলটা গেল কোথায়? তারপর বলটা একটা গাছের ডালপালার আড়াল থেকে এসে পড়ল অঙ্কিতের ঘাড়ে আচমকা। আর, টেনিস বলের অতর্কিত আঘাতে অঙ্কিত লুটিয়ে পড়লেন মাঠে। হাসপাতালে পৌঁছল প্রাণহীন দেহ! অঙ্কিত তার অনুশীলনে এতটাই নিবিড়, নিবিষ্ট ও নিমগ্ন হয়েছিল যে, টেনিস বলের আচমকা আঘাত সহ্য করতে পারেনি।

মনের নিবিষ্ট, নিমগ্ন অবস্থায় আচমকা অভিঘাত মারাত্মক হতেই পারে। আর যে কোনও কাজের নিয়মিত প্র্যাকটিস, মগ্নতা-সাপেক্ষ। যে-অনুশীলনে ধ্যানের মগ্নতা, নিবিড়তা নেই, তা ফাঁকা ও ফাঁকি। অনুশীলনের সময় থেকেই অর্জুনকে তাঁর অন্যান্য শিষ্যের থেকে পৃথকভাবে চিনতে পেরেছিলেন আচার্য দ্রোণ। অস্ত্রচর্চায় অর্জুন তাঁর মন ও মগ্নতার সবটুকু সর্বক্ষণের জন্য নিয়োগ করতে সক্ষম। আর্দশ অনুশীলনে ফাঁকির কোনও জায়গা নেই। সম্ভবত নিয়মিত ক্রিকেট প্র্যাকটিসের সময় অঙ্কিত মনে রাখত শচীন তেন্ডুলকরের এই কথাটি, যা শচীন স্বীকার করেছেন তাঁর আত্মজীবনীতে: ‘আই হ্যাভ অলওয়েজ বিলিভড ইন ইনটেন্স প্র্যাকটিস সেশনস। হোয়েন আই প্র্যাকটিস আই গিভ মাই হান্ড্রেড পার্সেন্ট অ্যান্ড লিভ দ্য রেস্ট টু গড।’ জীবনে যে কোনও কাজে পারদর্শিতা অর্জন করতে নিয়মিত অনুশীলনের, দীর্ঘ এবং মগ্ন চর্চার কোনও বিকল্প নেই।

Advertisement

মনের নিবিষ্ট, নিমগ্ন অবস্থায় আচমকা অভিঘাত মারাত্মক হতেই পারে। আর যে কোনও কাজের নিয়মিত প্র্যাকটিস, মগ্নতা-সাপেক্ষ। যে-অনুশীলনে ধ্যানের মগ্নতা, নিবিড়তা নেই, তা ফাঁকা ও ফাঁকি।

আচ্ছা, শেক্সপিয়রের মতো ভাষার ঈশ্বর, কিংবা মেসির মতো ফুটবলের ঈশ্বর, তাঁদেরও কি প্রয়োজন হয় নিয়মিত নিবিড় অনুশীলনের? এই নির্বোধ প্রশ্নের পরিপ্রশ্ন হল, শেক্সপিয়র কিংবা মেসি হওয়া কি আদৌ সম্ভব সব ভুলে নিয়মিত ভাষা কিংবা ফুটবল নিয়ে ধ্যানমগ্ন প্র্যাকটিস ছাড়া? অ্যালবার্ট আইনস্টাইন থেকে পাবলো পিকাসো, লিও তলস্তয় থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর- সমস্ত ভুলে ডুবে গিয়েছিলেন নিজসৃজনের চর্চায়। অনুশীলন-ই একমাত্র পথ পারদর্শিতার এবং সাফল্যের। মেসির সমস্ত অবিশ্বাস্য গোলের একটিও নয় মিরাকেল। তার অবিস্মরণীয় ফুটবলের প্রতিটি মুহূর্ত তাঁর প্রতিভা ও অন্তহীন অনুশীলনের ফসল। কেমন সেই অনুশীলন?

জানাচ্ছেন মেসি নিজেই: আই স্টার্ট আর্লি। অ্যান্ড আই স্টে লেট। ডে আফটার ডে। ইয়ার আফটার ইয়ার। মেসির মতো প্রতিভাকেও নিরন্তর অনুশীলনের ডিসিপ্লিন মেনে নিতে হয় সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছতে। অনুশীলন প্রসঙ্গে সেতারশিল্পী রবিশংকরের উক্তিটি সম্ভবত উল্লেখযোগ্য: আমার সমস্ত অনুষ্ঠানই আমার অনুশীলন। আই হ্যাভ বিন প্র্যাকটিসিং ফর সিক্সটি ইয়ার্স অ্যান্ড অ্যাম স্টিল লার্নিং। দ্য মোর আই প্র্যাকটিস দ্য মোর আই রিয়েলাইজ হাউ লিটল আই নো!

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.