Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ৯ আগস্ট ২০২৬
Helmet

মাথার দাম বুঝতে পুলিশ! তবু, এসো শিরোস্ত্রাণ

নতুন মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশে গত ২ দিনে শুধু হেলমেটের চাহিদাই বাড়েনি, বেড়েছে রাস্তায় হেলমেট-পরা বাইক আরোহীর সংখ্যাও !

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ২০, ২০২৬, ১৫:৫২

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ২০, ২০২৬, ১৫:৫২

options
link
মাথার দাম বুঝতে পুলিশ! তবু, এসো শিরোস্ত্রাণ zoom
Advertisement

১৯৬১। অস্ট্রেলিয়া পৃথিবীর প্রথম দেশ, যারা বুঝতে পেরেছিল বাইক দুর্ঘটনায় মাথায় মারাত্মক আঘাত লাগতে পারে। এবং ওই সালেই অস্ট্রেলিয়ায় আইনসম্মতভাবে নিষিদ্ধ হল হেলমেট ছাড়া বাইক চড়া। পরে অন্যান্য দেশেও আইন করে বন্ধ করা হল হেলমেট ছাড়া বাইক রাইডিং। ফিনল্যান্ডে সাইকেল চালাতেও হেলমেট পরতে হয়। পৃথিবীর অধিকাংশ সভ্য দেশ অবশ্য সহজে বুঝেছে এই আইন কতটা মাঙ্গলিক, বাইকযাত্রীর সুরক্ষার জন্য কতটা প্রয়োজনীয়। সুতরাং, প্রথম বিশ্বের সব দেশেই ‘বাইক চড়লে মাথায় অবশ্যই হেলমেট, নচেৎ আইন লঙ্ঘনের শাস্তি’– এই বাধ্যতা পেয়েছে দ্বিধাহীন মান্যতা।

ভারতে ছবিটা অন্যরকম। হেলমেট ছাড়া মোটরচালিত দু’-চাকার গাড়ি চালানো প্রথম ‘নিষিদ্ধ’ করল ভারতের ‘মোটর ভেহিকেল্‌স অ‌্যাক্ট’, ১৯৮৮ সালে। বাইক চড়তে এই আইন হেলমেট-কে মান‌্যতা দিল আইনত প্রয়োজনীয় প্রটেকটিভ হেডগিয়ার হিসাবে। কিন্তু দেশজুড়ে, বিশেষভাবে একটি সম্প্রদায়ের মধ্যে, তেমনভাবে গড়ে উঠল না হেলমেট-সচেতনতা। উলটে দেখা দিল এক রকমের বেপরোয়া অর্বাচীন হেলমেট-বিমুখতা। বাড়তেই লাগল হেলমেটহীন বাইকের দৌরাত্ম‌্য। দুর্ঘটনা। মৃত্যু।

Advertisement

অসম্ভবকে সম্ভব করতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কঠোর বার্তা: হেলমেট ছাড়া বাইক চালানো যাবে না। এই কণ্ঠস্বর ভিন্ন, যারা বোঝার তারা বুঝে গেল।

এবার কলকাতা। ২০১৬ সালের মধ্যে হেলমেট ছাড়া বাইক-মস্তানির কারণে দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর হার এমন জায়গায় পৌঁছল যে, ওই বছরের জুলাই মাসে এই সরকারি বার্তা জারি করা হল, ‘নো হেলমেট নো পেট্রোল’। কিন্তু তাতে ফল হল বিপরীত। কিছু মানুষ বাইকবাহনে হেলমেটহীন হিরো হয়ে আরও যেন রাজ্যজুড়ে দেখাতে লাগল নির্বোধ হিম্মত। কলকাতার বিশেষ বিশেষ অঞ্চলের পুলিশ চোখ বুঝে থাকল কোনও নেপথ্য নির্দেশে। ২০২০-তে পশ্চিমবঙ্গ সরকার নতুনভাবে জোরদার করল মোটর ভেহিকেল্‌স আইন। বলা হল, যে কোনও হেলমেট নয়, আইন মেনে চলতে হলে, আইএসআই সার্টিফায়েড হেলমেট বাধ্যতামূলক। কিন্তু চোখের সামনে পার্ক সার্কাস, মেটিয়াবুরুজ, এন্টালি, কসবা, বন্দর এলাকা, রাজাবাজারে চলতেই লাগল পরোয়াহীন বাইক স্পিডিং। সঙ্গে হেলমেট-তাচ্ছিল্য। সরকার ও পুলিশের এইসব অঞ্চলে গা এলানো ভাব, তাও ছিল চোখে পড়ার মতো।

অসম্ভবকে সম্ভব করতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কঠোর বার্তা: হেলমেট ছাড়া বাইক চালানো যাবে না। এই কণ্ঠস্বর ভিন্ন, যারা বোঝার তারা বুঝে গেল। কলকাতায় ১২ লক্ষের বেশি বাইক ব্যবহারকারী। এর ৪০ শতাংশ হেলমেট-বাধ্যতাকে এ-যাবৎ তুড়ি মেরে উড়িয়েছে। মুখ‌্যমন্ত্রীর বার্তায় হেলমেটবিহীন বাইক-দাপটের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন সক্রিয়তা শুরু করেছে কলকাতা পুলিশ। প্রথম ২ দিনে ৩ হাজারের বেশি বাইক আরোহীর বিরুদ্ধে হেলমেট না পরায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তার অবিশ্বাস্য ফল চোখের সামনে: হু-হু করে বাড়ছে হেলমেটের চাহিদা, সেই সঙ্গে হেলমেট পরা মাথার সংখ্যা বাইকে-বাইকে। তবুও দুঃখ, এ-দেশের এত মানুষকে এখনও নিজেদের মাথার দাম পুলিশ লাগিয়ে বোঝাতে হয়!

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.