ফুটপাত ব্যবহারে পথচারীদের অধিকার ‘সুরক্ষিত’ না হলে তাঁরা ক্ষতিপূরণের জন্য কোর্টের দ্বারস্থ হতে পারেন, যুগান্তকারী রায় সুপ্রিম কোর্টের।
হকার উচ্ছেদ নিয়ে রাজ্যে যখন বিতর্ক তুঙ্গে, তখন সুপ্রিম কোর্ট একটি দুর্ঘটনা-সংক্রান্ত মামলার রায়ে জানাল, ফুটপাত দিয়ে সাধারণ মানুষের হাঁটার অধিকার ‘মৌলিক অধিকার’-ভুক্ত। সংবিধানের ধারা ও উপধারা উল্লেখ করে দেশের শীর্ষ আদালত এ রায় দিয়েছে। জানিয়েছে, সংবিধানের ১৯(১)(ডি) ধারা সমস্ত মানুষকে স্বাধীনভাবে চলাফেরার অধিকার দেয়। ২১ নম্বর ধারা ভারতীয় নাগরিকদের জীবন ও জীবিকার অধিকার দিয়েছে। দু’টি ধারা-ই সংবিধানে প্রদত্ত মৌলিক অধিকারের ব্যাখ্যা করে। সুপ্রিম কোর্ট এই দুই ধারার উল্লেখ করে ফুটপাত দিয়ে নাগরিকদের নিরাপদে চলাচলের অধিকারকে মৌলিক অধিকার বলে গণ্য করেছে। শীর্ষ আদালত পুরসভা ও স্থানীয় প্রশাসনকে রাস্তার পাশাপাশি বাধ্যতামূলকভাবে পথচারীদের জন্য ফুটপাত করতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে। শুধু ফুটপাত বানালেই হবে না, সেই ফুটপাত যাতে সাধারণ মানুষের হাঁটাচলার উপযুক্ত থাকে তাও পুরসভা বা স্থানীয় প্রশাসনকে সুনিশ্চিত করতে হবে, আদালতের নির্দেশ। অর্থাৎ, ফুটপাত এবার হকারদের দখলে গেলে যে কোনও নাগরিক তাঁর মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হওয়ার অভিযোগে আদালতের দ্বারস্থ হতে পারবেন।
আরও পড়ুন:
রায়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, ফুটপাত যাতে পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখা যায় তা দেখভালে সরকারকে একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা তৈরি করতে হবে। তারা খেয়াল রাখবে রাস্তা তৈরির সময় পুরসভা ও স্থানীয় প্রশাসন ফুটপাত নির্মাণ করছে কি না। পথচারীদের অধিকার সুরক্ষিত না হলে তাঁরা ক্ষতিপূরণের জন্যও কোর্টের দ্বারস্থ হতে পারবেন। এই উদ্দেশ্যে সরকারকে একটি আইন তৈরির নির্দেশও শীর্ষ আদালত দিয়েছে। এককথায় এই রায়টি আগামী দিনের জন্য একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।
পথচারীদের অধিকার সুরক্ষিত না হলে তাঁরা ক্ষতিপূরণের জন্যও কোর্টের দ্বারস্থ হতে পারবেন। এই উদ্দেশ্যে সরকারকে একটি আইন তৈরির নির্দেশও শীর্ষ আদালত দিয়েছে।
কলকাতা-সহ দেশের বহু শহরে ফুটপাত পুরোপুরি হকারদের দখলে। যখনই রাজ্য সরকার, পুরসভা বা স্থানীয় কোনও প্রশাসন হকার উচ্ছেদ করে, তখন নাগরিক সমাজেরই একটি অংশ পথে নেমে প্রতিবাদ করে। দাবি করে, পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ চলবে না। এক্ষেত্রেও গরিব মানুষের জীবিকার প্রশ্নটি সামনে আসে। সুপ্রিম কোর্টও সংবিধানের ২১ নম্বর ধারায় থাকা জীবন-জীবিকার অধিকারকে সুরক্ষিত করার কথা রায়ে বলেছে।
সম্প্রতি, রাজ্যে বিজেপি সরকার কিছু এলাকায় জবরদখলকারীদের উচ্ছেদের ক্ষেত্রে একাধিক পদক্ষেপ করেছে। নাগরিক সমাজের একটি অংশ সরব। পুরসভা যদি এখন সুপ্রিম কোর্টের রায়টিকে সামনে রেখে ফুটপাত সাফ করতে নামে, তাহলে এই প্রতিবাদী অংশটি কী বলবে? কিছু মানুষের জীবিকার দোহাই দিয়ে বিশাল নাগরিক সমাজের নিরাপদে ফুটপাত দিয়ে হাঁটার, এবং জীবনকে সুরক্ষিত রাখার অধিকার কখনওই কেড়ে নেওয়া যায় না। সুপ্রিম কোর্ট যেমন ফুটপাত পরিষ্কার রাখার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে দায়বদ্ধ করার চেষ্টা করেছে, তেমন নাগরিকদের এই অংশকেও সচেতন করার চেষ্টা করেছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
মাছ-মাংসের হরেক পদ! ‘হাতে সময় কম’ বলেও প্রথম জামাইষষ্ঠীর ভোজ খেলেন বিধায়ক কৌস্তভ
-
‘এটাই সঠিক সিদ্ধান্ত…’, ইস্টবেঙ্গলে শেষ অস্কার-যুগ, ক্লাব ছাড়ছেন আইএসএল জয়ী কোচ
-
‘নেতানিয়াহু একজন যোদ্ধা’, লেবাননে হামলার মাঝেই ইজরায়েলের প্রশংসা! কী চাইছেন ট্রাম্প?
-
রান্নাঘরের অন্ধকারে মা-মেয়ের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল যুবক! তারপর…
-
অভিষেকের বিমান-বিলাস, ৪ বছরে হাওয়ায় উড়েছে তৃণমূলের ১৫০ কোটি!