Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৪ জুন ২০২৬

আমেরিকার ধাঁচে সেনাকে ঢেলে সাজানোই স্বপ্ন মোদির!

'চিফ অফ দ্য ডিফেন্স স্টাফ' নিয়োগের সাহস দেখাতে পারবেন মোদি?

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ডিসেম্বর ১৪, ২০১৬, ১৫:১৯

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ডিসেম্বর ১৪, ২০১৬, ১৫:১৯

options
link
আমেরিকার ধাঁচে সেনাকে ঢেলে সাজানোই স্বপ্ন মোদির! zoom

আমেরিকার ধাঁচে সেনাবাহিনীকে ঢেলে সাজাতে চলেছে কেন্দ্র৷ দেশের সবকটি সশস্ত্র বাহিনীকে একজোট করে গড়ে তোলা হতে পারে ‘জয়েন্ট অ্যাকশন ফোর্স’৷ কী সুবিধা হবে ‘চিফ অফ দ্য ডিফেন্স স্টাফ’ নিয়োগে, খোঁজ নিলেন দীপেন্দু পাল

নির্বাচনী ইশতেহারে এনডিএ তথা বিজেপি ঘোষণা করেছিল, দেশের সেনাবাহিনীকে আরও মজবুত করে তুলতে একজন ‘চিফ অফ দ্য ডিফেন্স স্টাফ’ বা ‘সিডিএস’ নিয়োগ করা হবে৷ এই কঠিন সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে পারলে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে দু’টি বড় রদবদল এবছর হতে চলেছে৷ প্রথম ‘এক পদ এক পেনশন’ চালু৷ এবং দ্বিতীয়টি এই ‘চিফ অফ দ্য ডিফেন্স স্টাফ’ নিয়োগ৷

Advertisement

কী এই ‘সিডিএস’? কেনই বা এর অবিলম্বে দরকার হয়ে পড়ল সেনাবাহিনীতে?

কে সুব্রহ্মণ্যমের নেতৃত্বে গঠিত কারগিল রিভিউ কমিটি সুপারিশ করেছে, ভারতের সশস্ত্র সেনাবাহিনীকে আরও আধুনিক ও মারাত্মক করে তুলতে একজন ‘চিফ অফ দ্য ডিফেন্স স্টাফ’ নিয়োগ করা জরুরি৷ আমেরিকার মতো দেশ, যাদের সশস্ত্র বাহিনী বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী বলে মানা হয়, তাদের একজন ‘সিডিএস’ রয়েছে৷

মিলিটারি যে কোনও দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রধান স্তম্ভ৷ যার সেনাবাহিনী যত বড়, তার অভ্যন্তরীণ কাঠামো ততই জটিল৷ তাই কোনও একজন ব্যক্তি একচ্ছত্র নেতৃত্ব দাবি করতে পারেন না৷ তার উপর এখন শুধু জলে বা স্থলে নয়, দেশের সাইবার নিরাপত্তাকে আঁটসাঁট করতেও পৃথক বাহিনীর প্রয়োজন হয়ে পড়েছে৷ বিদেশি আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষা করতে অবিলম্বে দেশের সেনাবাহিনীর কাঠামোয় কয়েকটি পরিবর্তন করা জরুরি৷ পদাতিক, নৌবাহিনী ও বায়ুসেনার মধ্যে সমন্বয় ঘটানো খুব জরুরি হয়ে পড়েছে৷ সবকটি বাহিনীর ‘জয়েন্ট অ্যাকশন’ শত্রুকে কড়া মোকাবিলা দিতে পারে৷ ‘জয়েন্ট অ্যাকশন’ বলতে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনও একটি বাহিনী তাদের পৃথক যুদ্ধ লড়বে না৷ ধরা যাক, সীমান্তে জঙ্গি অনুপ্রবেশের মোকাবিলায় একা বিএসএফ নয়, যৌথ অভিযান চালাবে সীমান্তরক্ষী বাহিনী, নৌসেনা ও বায়ুসেনা৷ আকাশ থেকে গুলিবর্ষণ, রণতরী থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ে ও পদাতিক বাহিনী একেবারে শত্রুর ঘাঁটিতে ঢুকে ঝাঁঝরা করে দিয়ে এলে অনেক সহজে, কো-ল্যাটারাল ড্যামেজ এড়িয়ে জঙ্গি দমন করা যেত বলে অনুমান সামরিক বিশেষজ্ঞদের৷ তবে এক্ষেত্রে সব বাহিনীকে সম্মিলিতভাবে কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে৷

armed-force_web

এই কাঠামো কিন্তু প্রথম বিশ্বের প্রায় সমস্ত সশস্ত্র বাহিনীই অনুসরণ করে চলে৷ ১৯৮৭-তে মার্কিন আইনসভায় পাশ হয় সেই বিখ্যাত ‘গোল্ডওয়াটার-নিকোলাস অ্যাক্ট’৷ ওই আইন প্রণয়নের কৃতিত্ব দিতেই হয় প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রেগানকে৷ আইন তৈরি করে একেবারে ‘ক্লাসিক থিয়েটার কমান্ড সিস্টেম’-এ মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর পরিচালনা শুরু হয়৷ মার্কিন মুলুকের চারটি সশস্ত্র বাহিনিকেই এক ছাদের নিচে নিয়ে আসা হয়৷ প্রত্যেক বাহিনীর প্রধানদের দায়িত্ব থাকে সেনাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া, তাঁদের অপারেশনের জন্য তৈরি করা৷ তাঁরা রিপোর্ট করেন কমব্যাটান্ট কমান্ডারকে৷ কমব্যাটান্ট কমান্ডার সরাসরি রিপোর্ট করেন সেক্রেটারি ডিফেন্সকে৷ সেক্রেটারি ডিফেন্সকে কিন্তু ভারতের ডিফেন্স সেক্রেটারির সঙ্গে গুলিয়ে ফেললে চলবে না! আমাদের দেশে প্রতিরক্ষা সচিব একজন আমলা৷ মার্কিন মুলুকের সেক্রেটারি ডিফেন্স হলেন আমেরিকার প্রতিরক্ষামন্ত্রী৷ তিনি রিপোর্ট করেন মার্কিন প্রেসিডেন্টকে, যিনি আমেরিকার সর্বাধিপতি, সর্বোচ্চ সেনানায়ক৷ পড়শি পাকিস্তান যে আজ পারমাণবিক গবেষণায় আন্তর্জাতিক মহলের নজর কেড়েছে তার জন্যও কিন্তু দায়ী এই ‘জয়েন্ট অ্যাকশন’ সিস্টেম৷ ‘জয়েন্ট চিফ অফ স্টাফ কমিটি’র চেয়ারম্যান পারমাণবিক গবেষণার রিপোর্ট দেন সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে৷

২০০১ সালে কারগিল রিভিউ কমিটির সুপারিশ মোতাবেক কেন্দ্রীয় সরকার ‘এইচ কিউ ইন্টিগ্রেটেড ডিফেন্স স্টাফ’ বা ‘এইচ কিউ আইডিএস’ গঠন করে৷ এর কাজ হল পরিকল্পনা, মতামত, ইন্টেলিজেন্স, প্রশিক্ষণ এমনকী যৌথ অভিযানেরও প্রাথমিকভাবে আইডিএস-এর কাজের পরিধির মধ্যে পড়ে৷ কিন্তু এখনও দেশের তিনটি প্রধান বাহিনীর মাথারাই কোনও অভিযানের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন৷ ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি বা ডিআইএ গঠিত হয় ২০০১ সালে৷ জাতীয় সুরক্ষা উপদেষ্টা বিভাগের অধীনে কাজ করে ডিআইএ৷ ওই বছরই ‘স্ট্র্যাটেজিক ফোর্স কমান্ড (এসএফসি)’ তৈরি হয় যারা দেশের পারমাণবিক গবেষণা সংক্রান্ত বিষয়গুলির দেখভাল করেন৷ এই এসএফসি কিন্তু কোনও বাহিনীর আওতায় পড়ে না৷ এর সর্বোচ্চ নিরামক সংস্থা এনএসএ৷ এতদিন ‘আন্দামান ও নিকোবর কমান্ড’-এর দায়িত্ব ‘রোটেশন’ পদ্ধতিতে সামলাতেন তিন বাহিনীর প্রধান৷ সম্প্রতি সেই দায়িত্ব পাকাপাকিভাবে দেওয়া হয়েছে ভারতীয় নৌবাহিনীকে৷ বিশেষজ্ঞরা বলছেন,  এইভাবে কোনও একটি বাহিনীর হাতে চূড়ান্ত ক্ষমতা না তুলে দিয়ে ‘সিডিএস’ নিয়োগ করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ! সমস্ত অপারেশনের জন্য তিনি দায়বদ্ধ থাকবেন৷ যদিও বাহিনীর প্রশিক্ষণের দায়িত্ব থাকবে প্রধানদের হাতেই৷ কিন্তু পদাতিক, নৌবাহিনী ও বায়ুসেনার আলাদা আলাদা প্রধানের পদ এখন সত্যি পুরনো হয়ে গিয়েছে৷ ২০০১ থেকে ২০১৬- মাঝের এতগুলো বছরেও সেনাবাহিনীর গঠন কাঠামোয় কোনও পরিবর্তন আসেনি৷ এখনও এ দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেনাবাহিনী-রাজনীতি ও আমলাতন্ত্রের ত্রিভুজের উপর নির্ভরশীল৷ এই ব্যবস্থা চললে কোনও সাহসী পদক্ষেপ নিতে দেরি হয়ে যেতে পারে৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মতো একজন সাহসী নায়ক এ বিষয়েও কোনও বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার হিম্মত দেখাতে পারেন কি না, সেদিকেই তাকিয়ে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা৷

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.