২ ভাদ্র  ১৪২৬  মঙ্গলবার ২০ আগস্ট ২০১৯ 

Menu Logo মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

২ ভাদ্র  ১৪২৬  মঙ্গলবার ২০ আগস্ট ২০১৯ 

BREAKING NEWS

বিশ্বকাপ ফুটবলের বাজারে ভারতীয় ফুটবলের সবচেয়ে বড় খবর! সইদ আবদুল রহিম নিয়ে যে বায়োপিক তৈরি করছেন বলিউডের বিখ্যাত প্রযোজক! বাঙালির প্রিয় রহিম সাহেব হবেন অজয় দেবগণ। শুক্রবার শেষ বিকেলে মুম্বই থেকে ফোনে গৌতম ভট্টাচার্যকে বিশেষ সাক্ষাৎকার দিলেন বনি কাপুর।

আপনি ক্রিকেটপ্রেমী জানতাম। হঠাৎ ফুটবল?

আসলে ক্রিকেটেরও আগে ফুটবল দিয়ে আমার স্পোর্টস ভালবাসা শুরু। ছোটবেলায় আমরা থাকতাম মুম্বইয়ের তিলকনগর কলোনিতে। আমাদের খেলার জীবন শুরুই ফুটবল নিয়ে। খেলার সরঞ্জাম বলতে বল ছাড়া ছিল আমাদের দু’জোড়া চপ্পল। আমার একজোড়া চপ্পল, ছোট ভাই অনিল কাপুরের আরেক জোড়া চপ্পল। সেই দু’জোড়া চপ্পল দিয়ে দু’দিকের গোলপোস্ট হত। বর্ষার সময় আমরা চলে যেতাম সামনের ময়দানে খেলতে। এখন তিলকনগর ময়দানে কী হয় জানি না। তখন ওখানে ক্রিকেট হত না। আর আমি যে সময়ের কথা বলছি, ১৯৬২-’৬৩, তখন ক্রিকেট ক্রেজটাও বোধহয় এত বেশি ছিল না। আমরা ছোটরা সে জন্যই এত সমর্পিতপ্রাণ ছিলাম ফুটবলে।

ভারতীয় ফুটবলের ওটাই সোনার সময়। চুনী-পিকে এঁদের খেলা দেখেছেন?

দুঃখজনক ভাবে দেখিনি। ভারতীয় ফুটবলের সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা যে তার সেরা সময়ে না ছিল টেলিভিশন, না ছিল রেডিও। মানে রেডিওতেও জাকার্তা এশিয়ান গেমসের ধারাভাষ্য শোনার কোনও সুযোগ পাইনি। যাঁরা দেশের সেরা, তাঁরা কেমন, সে সম্পর্কে আমাদের কোনও ধারণাই ছিল না। কিন্তু ফুটবলের আকর্ষণ অব্যাহত থাকতে কোনও অসুবিধে ছিল না। বৃষ্টি পড়লেই আমরা দু’ভাই চলে যেতাম তিলকনগর ময়দানে। সেখানে নানা রকম ফুটবল টুর্নামেন্ট হত। আর কলোনি ভেঙে লোক আসত টুর্নামেন্ট দেখতে।

ফুটবল থেকে ক্রিকেটে সরে গেলেন?

ওই সময় থেকে ক্রিকেটারদের সম্পর্কে সচেতনতা বাড়া শুরু হল। ছোট ছোট চকোলেট পাওয়া যেত। চাঁদু বোরদে চকোলেট, পলি উমরিগড় চকোলেট। ওই সময়ই সামনে চলে এলেন টাইগার পতৌদি। রেডিও কমেন্ট্রি শুরু হল ভারতীয় টিমের বিদেশ সফরের। ১৯৬৭-’৬৮ অস্ট্রেলিয়া সিরিজের কমেন্ট্রি আমরা বাড়ি বসে শুনতাম আর রোমাঞ্চিত হতাম। ওদিকে ক্যাপ্টেন ববি সিম্পসন। ইন্ডিয়ান ক্যাপ্টেন পতৌদি। অসম্ভব গ্ল্যামারাস। আমার মনে হয় ক্রিকেট ক্রেজটা পতৌদিকে কেন্দ্র করে প্রথম তৈরি হয়। আর সেটা সীমাহীন পর্যায়ে পৌঁছে গেল ১৯৭১-এ ওয়াদেকরের টিম বিদেশে সিরিজ জেতার পর।

[পর্দায় মধুবালা হতে চান শ্রীদেবী-কন্যা জাহ্নবী]

আপনার প্যাশন বদলে গেল?

ফুটবল কখনও মুছে যায়নি। কিন্তু ক্রিকেট সামনে চলে এল। তার আরও একটা কারণ সুনীল গাভাসকর। গাভাসকরের পারফরম্যান্স আমাকে মুগ্ধ করে দেয়। আজও স্পোর্টসের সেরা যা কিছু, তার মধ্যে আমি গাভাসকরের স্ট্রেট ড্রাইভকে ফেলতে চাই।

রোভার্স কাপ কখনও দেখেছেন?

দেখিনি। তবে কলকাতা ময়দানে একবার ফুটবল দেখতে এসেছিলাম। সালটা ২০০৯। সলমন খান সঙ্গে ছিল। এত হুল্লোড় হয় যে, কিছুক্ষণ বাদেই বেরিয়ে যেতে হয়েছিল। তবে এখন আই লিগ দেখি। মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল-ডেম্পো কী করছে খোঁজখবর রাখি। আমার মনে হয় ফুটবলের এ দেশে অনেক বেশি পাবলিসিটি হওয়া উচিত ছিল। যা কিছুই হয়নি। আমি বাজি রেখে বলতে পারি, দেশের নিরানব্বই শতাংশ লোক জানে না আমরা যে এক সময় অলিম্পিক্সে ফোর্থ হয়েছিলাম। বা এশিয়ার সেরা টিম ছিলাম।

বিষয় হিসেবে হঠাৎ রহিম সাহেব কেন?

আমার যুগ্ম প্রযোজক আকাশ চাওলা এসে যখন স্ক্রিপ্টটা শোনায়, আমার দারুণ আকর্ষণীয় মনে হয়েছিল। এ রকম একজন মানুষ যে থাকতে পারেন, যিনি পেশায় ফুটবল কোচ নন, ছিলেন শিক্ষক। যে ভাবে টিমকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। যে ভাবে কেন্দ্রের অর্থমন্ত্রকের সঙ্গে লড়ে জাকার্তায় টিম পাঠিয়েছিলেন, তা অভাবনীয়। কেন্দ্রীয় সরকার সে সময় জাকার্তায় টিম পাঠানোর বিদেশি মুদ্রাই দিতে রাজি হচ্ছিল না। তার পরেও এমন পরিস্থিতি হয় যে, তারা টিম ছোট করতে বলে। তখন উনি নিজের ছেলেকে বাদ দিয়েছিলেন। অবিশ্বাস্য এমন একজন মানুষ!

[পর্দায় মালালার জীবন, প্রকাশ্যে ‘গুল মকাই’-এর ট্রেলার]

রহিম সাহেব বাঙালি ফুটবল দর্শকের খুব প্রিয় চরিত্র। পিকে-চুনীদেরও খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন। যিনি স্ক্রিপ্ট লিখেছেন, এঁদের সঙ্গে কথা বলেছেন কি?

ডিটেলড কথা হয়েছে পিকে-চুনী-বলরাম সবার সঙ্গে। রহিম সম্পর্কে এঁদের প্রত্যেকের ইন্টারভিউ আমরা ভিডিওতে রেকর্ড করেছি। সেখানে আমরা আরও হতবাক হয়ে গেছি রহিম সাহেবের প্রতি এ সব লেজেন্ডের এত শ্রদ্ধা দেখে। পিকে বন্দ্যোপাধ্যায় হুইলচেয়ারে বসে ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে প্রায় কেঁদে ফেলেছেন। বলরামের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে আজও কোচের ছবি কত যত্ন করে তিনি সাজিয়ে রেখেছেন। আমরা রহিমের ছেলে হাকিমের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলেছি। সেই সময়ের জনাকুড়ি ফুটবলারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। খুব আঁটঘাট বেঁধে আমরা নামতে চাই।

অজয় দেবগণ?

অজয় দুর্ধর্ষ একজন অভিনেতা। প্লাস বিষয় নিয়ে খুব এক্সাইটেড হয়ে আছে। আমার মনে হয় দারুণ করবে।

চুনী-পিকের ভূমিকায় কারা?

খোঁজখবর চলছে। সারা ভারতবর্ষ থেকে অভিনেতা নেওয়া হবে। বাংলা থেকেও নেব। অন্তত একশো কুড়ি জন ফুটবলার আমাদের লাগবে শুটিং চলার গোটা সময়টা। ফুটবল কনসালট্যান্ট খুঁজছি। কোচ খুঁজছি। ট্রেনার খুঁজছি। রিসার্চ চলছে। মনে রাখতে হবে আমরা আধুনিক ফুটবল ফুটিয়ে তুলছি না। আমাদের ফিরে যেতে হবে সেই ছয়ের দশকে।

কলকাতায় শুটিং হবে?

অবশ্যই হবে। কলকাতা বাদ দিয়ে ভারতীয় ফুটবল সম্ভব নাকি? তবে শুরুর দৃশ্য কলকাতায় নয়।

সেটা কোথায়?

ওপেনিং সিকোয়েন্স হেলসিঙ্কি। মনে আছে নিশ্চয়ই হেলসিঙ্কি অলিম্পিক্সে যুগোস্লাভিয়ার কাছে দশ গোল খেয়েছিল ভারত। সেখান থেকে শুরু হবে ছবি। সেই অপমানিত টিমই কী ভাবে উঠে দাঁড়াল। কীভাবে তাকে সাজালেন রহিম সাহেব।

[কাজলের ‘হাতের পুতুল’ ঋদ্ধি, প্রকাশ্যে ‘হেলিকপ্টার ইলা’র নয়া পোস্টার]

শেষ হতে কত দিন লাগবে?

আমার মনে হয় গুছিয়ে শুরু করতে করতে আরও আট মাস। বিষয়টার স্পর্শকাতরতা সম্পর্কে আমি খুব সচেতন। এমন কিছু করব না যাতে ফুটবলপ্রেমী দর্শকের মেনে নিতে অসুবিধে হয়। তবে একটা কথা বলতে পারি, এই ফিল্ম বার হলে দেশের মানুষ বুঝতে পারবে ফুটবল নিয়ে এক সময় আমাদের গর্ব করার কত কারণ ছিল। বুঝবে আমাদের একটা ফুটবল ঐতিহ্য আছে। আমার বিশ্বাস তাতে ফুটবল নিয়ে এখনকার ধ্যানধারণা আমূল বদলে যাবে।

বিশ্বকাপ দেখছেন?

(হাসি) নিয়মিত রাত জেগে। সেই হ্যাংওভার চলছে বলেই তো এত লেট লাঞ্চ। আর আপনাকে ইন্টারভিউটা দিতে এত দেরি হয়ে যাওয়া।

আপনার ফেভারিট টিম কারা?

আগে ছিল বেলজিয়াম। এখন ক্রোয়েশিয়া। চাইব ফ্রান্স হারুক কাল। আন্ডারডগরা জিতুক।

[কন্ডোম দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে দেয় কাস্টিং ডিরেক্টর, বিস্ফোরক অভিনেত্রী]

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং