‘পুজো’। এই একটি শব্দেই বাঙালির বুকের মধ্যে ঢাকের বোল বাজে! বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব একেবারে দোরগোড়ায়। সময় যতই পালটে যাক, আধুনিকীকরণের ছোঁয়ায় ঐতিহ্যকেই আঁকড়ে ধরে রাখতে চায় মন। এই ক’টা দিন লাইট, ক্যামেরা, অ্যাকশনের ব্যস্ততার মাঝেও সেলেবরাও পুজোর আমেজে গা ভাসান। উপরন্তু, পুজো রিলিজ থাকলে তো কথাই নেই! ব্যস্ততা দ্বিগুণ হয়। কিন্তু তাই বলে, পুজোর প্ল্যান থাকবে না? আলবাৎ থাকবে! কৌশানী মুখোপাধ্যায় (Koushani Mukherjee) বলছেন, দুর্গাপুজো মানেই তাঁর কাছে ‘হস্টেল থেকে ছুটি পাওয়া’। কীরকম? সংবাদ প্রতিদিন ডট ইন-কে জানালেন অভিনেত্রী।
‘পুজোর সেরা সুন্দরী তকমাটাই তখন আমার কাছে বিশাল ব্যাপার ছিল। মানে, ঘুরতে বেরিয়ে পুরস্কার জিতে বাড়িতে ফিরছি, এটাই তো দারুণ ব্যাপার।…’
আরও পড়ুন:
পুজোর নস্ট্যালজিয়া বললে প্রথমেই কোন স্মৃতি মনে উঁকি দেয়? ‘বহুরূপী’র ‘ঝিমলি’ জানালেন, “যখন অভিনেত্রী হয়ে উঠিনি, তখন দড়ির ওপারে থাকতাম। মানে লাইন দিয়ে ঠাকুর দেখতাম। আর পুজোর বিশেষ স্মৃতি বললেই- ‘প্রেমে’র কথা মাথায় আসে। প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে যখন পুজোয় সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা হত প্রচুর ছেলেরা এসে এসে ঝারি মারত। সেখানে হঠাৎ করে আমাকে পছন্দ করে নেওয়া আর সেখান থেকে প্রতিযোগিতায় জেতা। ‘পুজোর সেরা সুন্দরী’ তকমাটাই তখন আমার কাছে বিশাল ব্যাপার ছিল। মানে, ঘুরতে বেরিয়ে পুরস্কার জিতে বাড়িতে ফিরছি, এটাই তো দারুণ ব্যাপার। আমার ভাইবোনেরা আবার সেটা সেলিব্রেট করত। গর্ব করে ওরা বলত- আমাদের বোন এত সুন্দরী।” এর প্রেমটা? কৌশানী বললেন, “হ্যাঁ, পুজোর কটা দিনের প্রেম- এই বিষয়টা দারুণ লাগত। সেই প্রেমগুলো আবার পুজোর কটা দিনই টিকত। তারপর কেটে যেত।”

চলতিবারের পুজোয় মুক্তি পাচ্ছে কৌশানীর ‘বহুরূপী: দ্য গোল্ডেন ডাকু’। অতঃপর প্রচারের ব্যস্ততা যে থাকবেই, তা বলাই বাহুল্য। সেসব বাদে কীভাবে পুজোর প্ল্যান সাজালেন? অভিনেত্রী জানালেন, “‘বহুরূপী: দ্য গোল্ডেন ডাকু’র প্রচার করেই সপ্তমী অবধি কেটে যাবে। তবে শত ব্যস্ততা থাকা সত্ত্বেও সপ্তমীর সন্ধে থেকে আমি পরিবারকে সময় দিই। প্রচারের পর প্রত্যেকটা মণ্ডপে আমাকে দেখা যায়। কারণ আমি প্যান্ডেল হপিং করতে মারাত্মক ভালোবাসি। ফি বছর নিয়ম মেনে করিও। সেসব ছবিও শেয়ার করি।” কথাপ্রসঙ্গেই কৌশানী জানালেন, তাঁর এবারের শপিং হয়ে গিয়েছে। প্রত্যেকদিনের জন্য আলাদা লুক রেখেছেন। তবে কীরকম? সেটা অবশ্য পুজোর সারপ্রাইজ হিসেবেই রাখতে চান তিনি।
পুজো এলেই ডায়েটের কড়া নিয়মে একটু ছাড় দেন কৌশানী মুখোপাধ্যায়। রাস্তায় দাঁড়িয়ে ফুচকা, পছন্দের রেস্তরাঁয় খাওয়াদাওয়া আর অষ্টমীর রাতে একেবারে বাঙালি কায়দায় লুচি-কষা মাংস।

বনি সেনগুপ্তের সঙ্গে নিশ্চয়ই প্ল্যান রয়েছে? কৌশানীর মন্তব্য, “আমার পুজোর সবক’টা প্ল্যানেই বনি আছে। একসঙ্গে ঠাকুর দেখা, একসঙ্গে রোম্যান্স করা, হইহই করে পার্টি করা। পুজোর ক’টা দিন বেরচ্ছি হয়তো দুপুরবেলা, আর বাড়ি ফিরছি ভোরবেলা। বাকি সকালটা ঘুমোচ্ছি। এই কদিন আমার দিনযাপনের সাইকেল পুরো চেঞ্জ হয়ে যায়। তাই আমার কাছে পুজো মানেই হস্টেল থেকে ছুটি পাওয়া।” তবে পুজো এলেই ডায়েটের কড়া নিয়মে একটু ছাড় দেন কৌশানী মুখোপাধ্যায়। রাস্তায় দাঁড়িয়ে ফুচকা, পছন্দের রেস্তরাঁয় খাওয়াদাওয়া আর অষ্টমীর রাতে একেবারে বাঙালি কায়দায় লুচি-কষা মাংস। উৎসবের প্রহরে খাবারের আনন্দে কোনও কাটছাঁট করতে চান না অভিনেত্রী। সারাবছর ডায়েট মেনে চললেও পুজোর ক’টা দিন তাঁর কাছে একটু অন্যরকম। “পুজো মানে আমার কাছে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ফুচকা খাওয়া। এটা হতেই হবে”, সোজাসাপটা কৌশানী। ফুচকার পাশাপাশি ভালো রেস্তরাঁয় খাওয়ার পরিকল্পনাও থাকে। তবে অষ্টমীর রাতের খাবারে কোনও আধুনিকতার ছোঁয়া নয়, পছন্দ একেবারে চেনা বাঙালি রান্না। লুচি আর কষা মাংস। তবে এই ছাড় চিরস্থায়ী নয়। পুজোর আনন্দ শেষ হলেই আবার নিজের নিয়মে ফেরেন কৌশানী। কয়েক দিনের জমিয়ে খাওয়াদাওয়ার পর শুরু হয় তাঁর কথায় ‘ডিটক্স’।
View this post on Instagram
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ঠোঁটস্থ চণ্ডীপাঠ-গীতা, সংসারের জোয়াল টানতে গেরুয়া বসনে অটোর স্টিয়ারিংই ভরসা ‘সাধুদা’র
-
ঢেঁড়স এক্কেবারে অপছন্দের? এই ৫ রেসিপি মেনে বানালে ছোটরাও আঙুল চেটে খাবে!
-
বাজারদরে ৯৮০০ কোটি টাকার তফাৎ! তবু ব্রাজিলকে বেগ দিতে পারেন ভারতের কোন ফুটবলাররা?
-
হাঁটুতে অস্ত্রোপচারের পর ‘বিগ বসে’ ওয়াইল্ড কার্ড এন্ট্রি! শন বললেন, ‘ফিরছি তবে…’, নতুন টুইস্ট?
-
ক্যাপ্টেন স্পার্ক! বিশ্বমাঝে ভারতের মাথা উঁচু করা স্মিত মচ্ছর মনে করালেন নীরজাকে