পঁচিশ সালে বিবেক অগ্নিহোত্রী পরিচালিত ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ ছবি নিয়ে বাংলার রাজ্য রাজনীতিতে কম শোরগোল হয়নি! ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে ‘বিজেপির প্রোপাগান্ডা’র অভিযোগে অলিখিত নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল বিবেক অগ্নিহোত্রী পরিচালিত ছবির বিরুদ্ধে। এমনকী গোপালচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের পরিবারের তরফেও ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ নিষিদ্ধ করার দাবি তুলে আইনি পদক্ষেপ করা হয়েছিল। ‘বাংলা বিরোধী স্ট্র্যাটেজি মূলক সিনেমায় বাঙালি অভিনেতারা কেন?’ এহেন প্রশ্নের সম্মুখীনও হতে হয়েছিল সৌরভ দাস, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়দের। তবে আইনি জটিলতার জেরে সেসময়ে ‘হালে পানি পাননি’ বিবেক! এবার বঙ্গে গৈরিক সূর্যোদয়ের ৯৬ ঘণ্টায় বড় অ্যাকশন। বাংলার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’।
“আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়, শারীরিকভাবে আক্রমণ করা হয়। আমার বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছিল ডজন ডজন এফআইআর। এমনকি রাজ্যপালের কাছ থেকে পুরস্কার নিতেও যেতে পারিনি।”
আরও পড়ুন:
গত সোমবার বাংলার মাটিতে পদ্ম ফুটতেই এক ভিডিওবার্তায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন পরিচালক। বিবেকের ‘মন কি বাত’, “‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ মুক্তির পর আমাকে বাংলায় কার্যত নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। ছবিটি সিনেমা হল থেকে তুলে নেওয়া হয়, এবং বলা হয়েছিল আমাকে বাংলায় ঢুকতে দেওয়া হবে না। গত বছর দ্য বেঙ্গল ফাইলস সম্পূর্ণভাবে পশ্চিমবঙ্গে নিষিদ্ধ করা হয়। আমাদের ট্রেলার লঞ্চ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়, শারীরিকভাবে আক্রমণ করা হয়। আমার বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছিল ডজন ডজন এফআইআর। এমনকি রাজ্যপালের কাছ থেকে পুরস্কার নিতেও যেতে পারিনি।” এবার বিবেক জানালেন, “ভাগ্যিস আমরা সেসময়ে হাল ছাড়িনি। আমাদের নিজস্ব ক্ষুদ্র উপায়েই লড়াই চালিয়ে গিয়েছিলাম। শুধু কলকাতা নয়, বরং বাংলার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের কাছে আমরা এই ছবিটিকে পৌঁছে দিতে চাই।”

“শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক দলের নির্দেশ কিংবা স্বৈরাচারের জেরে সেন্সর-অনুমোদিত ছবিটা বাংলায় মুক্তি পেল না। ভারতের বাকি রাজ্যে ছবিটি প্রদর্শিত হলেও বাংলার একটি প্রেক্ষাগৃহেও সেটা দেখানো সম্ভব হয়নি।…”
খবর, ১৫ মে, শুক্রবার কলকাতায় মুক্তি পাচ্ছে ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ (The Bengal Files)। তবে তিলোত্তমার গণ্ডি পেরিয়ে এই সিনেমাকে রাজ্যের সর্বসাধারণের কাছে পৌঁছে দিতে চাইছেন বিবেক অগ্নিহোত্রী। জানা গেল, দক্ষিণ কলকাতার প্রিয়া সিনেমাহলে প্রদর্শিত হতে চলেছে এই সিনেমা। এপ্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমের কাছে হল কর্তা অরিজিৎ দত্তর প্রতিক্রিয়া, “শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক দলের নির্দেশ কিংবা স্বৈরাচারের জেরে সেন্সর-অনুমোদিত ছবিটা বাংলায় মুক্তি পেল না। ভারতের বাকি রাজ্যে ছবিটি প্রদর্শিত হলেও বাংলার একটি প্রেক্ষাগৃহেও সেটা দেখানো সম্ভব হয়নি। তবে সিনেমাটা নিয়ে বরাবরই মানুষের মধ্যে প্রবল কৌতূহল ছিল। আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে, অবশেষে বাংলার মানুষ ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’দেখার সুযোগ পাবেন।” অন্যদিকে টলিপাড়ার সিনে-পরিবেশক শতদীপ সাহা রাজ্যজুড়ে এই সিনেমা রিলিজের দায়ভার নিয়েছেন বলে খবর। তিনি জানিয়েছেন, “শুধুমাত্র কলকাতাতেই নয়, সমগ্র বাংলার বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহের একটি তালিকা তৈরি করছি আমরা।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
সফল অপারেশন টাইগার! মমতার পর ভাঙল উদ্ধবের দল, একযোগে ৬ সাংসদ শিণ্ডে শিবিরে
-
এআইয়ের ‘সাইড এফেক্ট’, একলাফে অনেকখানি দাম বাড়ছে স্মার্টফোন, ল্যাপটপের!
-
বাজেটে নারী ক্ষমতায়ণে জোর, কী কী পেলেন বাংলার মহিলারা?
-
নাবালিকাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে ‘ধর্ষণ’, শরীরে সিগারেটের ছ্যাঁকা! এনকাউন্টারে গুলিবিদ্ধ অভিযুক্ত
-
‘এনএসডি ক্যান্টিনে সিঙারা পরিবেশন করত শাহরুখ’, ফাঁস শাহিদের বাবা পঙ্কজ কাপুরের