১৩ মাঘ  ১৪২৬  সোমবার ২৭ জানুয়ারি ২০২০ 

Menu Logo মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক:  হায়দরাবাদ ধর্ষণকাণ্ডে ফুঁসছিল গোটা দেশ। শুক্রবার ভোরের ঘটনার পর সেই উত্তাপ যেন কিছুটা হলেও কমল। ধর্ষণকাণ্ডের ১০ দিনের মাথায় আজ শুক্রবার ভোররাতে অভিযুক্ত চার জনের এনকাউন্টার করল তেলেঙ্গানা পুলিশ।  পুলিশি এনকাউন্টারে উল্লসিত আম আদমি। সাধারণ মানুষ যখন তেলেঙ্গানা পুলিশকে সাধুবাদ জানাচ্ছে, তখন পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তসলিমা নাসরিন। অন্যদিকে, দোষীদের এহেন শাস্তিকে সমর্থন জানাননি অভিনেত্রী অপর্ণা সেন।

অপর্ণার কথায়, দৃষ্টান্তমূলক সাজা হল না। আইন মেনে সাজা হলেও দৃষ্টান্ত হত। গুলি করে মারা কখনও দৃষ্টান্ত নয়। পুলিশের হাতে ক্ষমতা যেতে পারে না। এনকাউন্টার যদি হবে, তাহলে পায়ে গুলি করা যেত। বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা থামাতে হবে। আরও দ্রুত ধর্ষণ মামলার নিষ্পত্তি করতে হবে। সরাসরি গুলি করে মেরে ফেলার ঘটনা তিনি সমর্থন করতে পারছেন না। 

অন্যদিকে, তেলেঙ্গানা পুলিশের এনকাউন্টারকে সোজাসুজি বিরোধীতা না করলেও খানিক পরোক্ষভাবেই তসলিমা সওয়াল তুলেছেন পুলিশের ভূমিকা নিয়ে। লেখিকার কথায়, “বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদী ও মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশি এনকাউন্টারে মারা যায়। তবে ভারতে আজ পুলিশের এনকাউন্টারে ৪ জন ধর্ষক ও খুনির মৃত্যু হয়েছে। সময়, অর্থ, শক্তি সবই বাঁচল! এক দিক থেকে ভাল, কিন্তু সত্যিই কি ভাল?” “অপরাধীদের মেরে ফেলা সোজা। কিন্তু অপরাধীদের এমনভাবে শিক্ষিত করে তোলা যাতে তারা আর কোনও দিন অপরাধই না করে, সেটা কঠিন। আমরা আসলে সোজা পদ্ধতিই পছন্দ করি”, মত তসলিমার।

[আরও পড়ুন:  জল্পনার অবসান, আজই বিয়ে করছেন সৃজিত-মিথিলা]

দিন দুয়েক আগেই তলসিমা টুইট করেছিলেন, “মানুষ সাধারণত হিংসা-হানাহানি ভালবাসে। তাই যখনই ধর্ষণে অভিযুক্তদের ফাঁসি দেওয়া, বেদম গণপিটুনি দেওয়া কিংবা মেরে ফেলার মতো কথাগুলি বলা হয়, সাধারণ মানুষ কিন্তু বেশ উৎফুল্লিত হয়। কিন্তু যখন তাঁদের নারী-পুরুষের সমানাধিকার, মহিলাদের উপর হওয়া অত্যাচার রোধ করা কিংবা পুরুষশাসিত সমাজের বিরোধীতা করার শিক্ষা দেওয়ার কথা তোলা হয়, তা আবার মোটেই পছন্দ করে না আম জনতার।”

কৌশিক সেনের মতে, “এসব ক্ষেত্রে বিচার আরও ত্বরান্বিত করতে হবে। কারণ, এভাবে যদি চলতে থাকে, তবে বিচার ব্যবস্থার উপর থেকে মানুষের ভরসা উঠে যাবে।”

তেলেঙ্গানা পুলিশের এনকাউন্টারকে সমর্থন জানাননি গায়ক বিশাল দাদলানিও। তাঁর কথায়, “আমরা এমন একটি সময়ে বাস করছি যেখানে বিচার ব্যবস্থার নিরঙ্কুশ ব্যর্থতাতেও ‘ন্যায়বিচার’-এর তকমা সাঁটা হয়। ঠিক তেমনই আইনি প্রক্রিয়া না মেনে পুলিশের মানুষ মারার ঘটনা কোনও দিন আপনার ক্ষেত্রেও পুনরাবৃত্তি হতে পারে।” 

অন্যদিকে তেলেঙ্গানা পুলিশের এনকাউন্টারের খবর আসতেই প্রাক্তন ‘বিগ বস’ প্রতিযোগী তেহসিন পুনাওয়ালা সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজস্ব মতামত শেয়ার করে নেটিজেনদের রোষানলে পড়েছেন। তিনি বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কখনওই উচিত নয়।  দেশের বিচার ব্যবস্থায় এভাবে কখনও এনকান্টারের কথা বলা হয়নি।  শুধু তাই নয়, আশারাম বা চিন্ময়ানন্দের মতো হাই প্রোফাইল আসামীর ক্ষেত্রেও কি এই একই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে? না কি, ধর্ষকরা গরিব বলেই তাদের জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল? প্রশ্ন তোলেন তেহসিন পুনাওয়ালা। এরপরই নেটিজেনরা ফুঁসতে শুরু করেন।  

[আরও পড়ুন: বনি-শ্রাবন্তীর ‘বিয়ে বিয়ে খেলা’! ব্যাপারটা কী? ]

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং