সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বিচ্ছেদ মানে কি শুধুই তিক্ততা? রহমান (AR Rahman) এবং তাঁর স্ত্রী সায়রাবানু (Saira Banu) দিলেন অন্য পাঠ। ডিভোর্সের পর মিউজিক মায়েস্ত্রোর সম্পর্কে নানা কুকথা, চটুল, কুৎসিত খবর ছড়াতেই ময়দানে নেমেছিলেন সায়রাবানু। এ আর রহমানের সঙ্গে উনত্রিশটা বছর সংসার করেছেন। স্বাভাবিকভাবেই সেই কঠিন সময়ে হাজারো রটনা, গুঞ্জন তাঁকে বিচলিত করেছিল। ডিভোর্স ঘোষণার পাঁচ দিন বাদে মুখ খুলে রহমানের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন সায়রাবানু। এবার প্রাক্তন স্ত্রীর কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ালেন এ আর রহমান।
জানা গিয়েছে, সম্প্রতি জটিল অস্ত্রোপচার হয়েছে সায়রার। সেইসময়েই প্রাক্তন স্বামী রহমানকে পাশে পেয়েছেন তিনি। আর সেই প্রেক্ষিতেই এক বিবৃতিতে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মিউজিক মায়েস্ত্রোর প্রাক্তন স্ত্রী। সায়রা-রহমানের বিচ্ছেদ মামলা যিনি লড়ছেন, সেই বন্দনা শাহই এবারও অনুঘটকের মতোই কাজ করলেন। তাঁর তরফেই ওই বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, “শ্রীমতী সায়রা রহমানকে সম্প্রতি মারাত্মক অসুস্থতার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল। এক জটিল অস্ত্রোপচারও হয়েছে তাঁর। আর এই কঠিন সময়ে দ্রুত সেরে ওঠাই তাঁর একমাত্র ধ্যানজ্ঞান। পাশাপাশি যে বা যাঁরা এই সময়ে পাশে থেকেছেন তাঁদেরকেও অসংখ্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন সায়রা।” রহমানের প্রাক্তন স্ত্রীয়ের সঙ্গে অস্কারজয়ী রসুল পুকুট্টি এবং তাঁর স্ত্রী শাহিদারও সুসম্পর্ক রয়েছে। তাঁদের কথা উল্লেখ করেই সায়রাবানু জানিয়েছেন, “লস অ্যাঞ্জেলসের বন্ধু রসুল পুকুট্টি, শাহিদা, আইনজীবী বন্দনা শাহ এবং অবশ্যই এ আর রহমানকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমার এই কঠিন সময়ে পাশে থাকার জন্য। ওঁদের উৎসাহ-অনুপ্রেরণা জোগানোর জন্য আমি কৃতজ্ঞ।” পাশাপাশি তাঁদের গোপনীয়তা রক্ষার জন্যও আর্জি জানিয়েছেন সায়রাবানু।

মাস তিনেক আগেই সোশাল মিডিয়ায় আচমকাই ডিভোর্স ঘোষণা করেন অস্কারজয়ী সুরকার এ আর রহমান। সোশাল মিডিয়ায় এ আর রহমানের বিচ্ছেদ ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরেই রহমানের (AR Rahman) সহশিল্পী মোহিনী দে-ও (Mohini Dey) স্বামী ম্যাকের সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘোষণা করেন। দুই ঘটনার যোগসূত্র খুঁড়ে নানা জল্পনা রটে যায় নেটপাড়ায়। রটে যায়, ‘রহমান-সায়রাবানুর ডিভোর্সের নেপথ্যে নাকি পরকীয়া!’ কেন ত্রিশ বছরের দাম্পত্য ভাঙল? ভয়েস নোট প্রকাশ্যে এনে সায়রাবানু তখন সাফ জানিয়েছেন, “গত কয়েক মাস ধরেই মুম্বইতে রয়েছি আমি। রহমানের থেকে একটু বিরতি নিতে চেয়েছিলাম। ইউটিউবার এবং সমস্ত মিডিয়াকর্মীদের কাছে আমার অনুরোধ, রহমানের নামে কোনও খারাপ কথা বলবেন না। ও আমার দেখা সেরা মানুষ। আমি শুধুমাত্র আমার শারীরিক অসুস্থতার জন্যই চেন্নাই ছেড়েছি। আমি জানতাম, আমি চেন্নাইতে না থাকলেই লোকজন ভাববে, সায়রা কোথা গেল? আসলে আমার চিকিৎসা চলছে। চেন্নাইতে রহমানের এত ব্যস্ত শিডিউল থাকে যে, ওখানে থাকলে এটা সম্ভব হত না।”
এরপরই সায়রাবানুর সংযোজন, “আমি আর রহমান এখনও একে-অপরকে ভালোবাসি। আর এই বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তটা একশো শতাংশ মিউচুয়াল। তাই সকলের কাছে আমার অনুরোধ রহমান যেমন আছে, ওকে তেমনটাই থাকতে দিন। আমার নিজের জীবন দিয়ে ওকে বিশ্বাস করি। এতটাই ভালোবাসি আমি ওকে। রহমানও তাই। তাই সবার কাছে একটাই আর্জি, রটনা রটানো বন্ধ করুন। আমাদেরকে একটু একা থাকতে দিন। আমরা তো অফিশিয়ালি কারণ নিয়ে কিছু বলিনি এখনও। তাই ওঁর নামে কুৎসা রটাবেন না।” ১৯৯৫ সালে রহমান ও সায়রাবানুর বিয়ে হয়েছিল। দেখাশোনা করেই নাকি এই বিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ ২৯ বছরের সেই সম্পর্কে গত বছর নভেম্বর মাসে ভাঙন ধরে। তবে বিবাহ বিচ্ছেদ হলেও সুসম্পর্ক বজায় রেখেছেন তাঁরা।
সর্বশেষ খবর
-
অন্ধকারে আলোর রেখা! প্রীতি ম্যাচ ৩৬ ধাপ উপরে থাকা তাজিকিস্তানের বিরুদ্ধে ড্র ভারতের
-
সুজিত বসুর পর উজ্জ্বল বিশ্বাস, গ্রেপ্তার আরও এক প্রাক্তন মন্ত্রী, এবার ত্রাণচুরির অভিযোগ
-
রাজস্থানে বেআইনি বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ! ঝলসে মৃত অন্তত ৭
-
নীল-সাদা অতীত, নবান্নে এবার ‘রং দে তু মোহে গেরুয়া’
-
ভুরি ভুরি দুর্নীতি টাকিতে! হাই কোর্টে মামলা করে দাবি তৃণমূল কাউন্সিলরের