Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৪ জুন ২০২৬
Aparna Sen

অরিন্দমের ছবিতে অপর্ণা সেনকে অসম্মানের অভিযোগ! সোহাগ সেন সরব হতেই মুখ খুললেন পরিচালক

সোহাগ সেনের অভিযোগের তীর যদিও অরিন্দম শীলের উদ্দেশে নয়, তবে এহেন পোস্টের পরই অনেকে কৌতূহলী হয়ে উঠেছেন। কী বললেন পরিচালক?

Advertisement
স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১৪, ২০২৬, ১৯:০৯

link
স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১৪, ২০২৬, ১৯:০৯

options
link
অরিন্দমের ছবিতে অপর্ণা সেনকে অসম্মানের অভিযোগ! সোহাগ সেন সরব হতেই মুখ খুললেন পরিচালক zoom
ছবিতে অপর্ণা সেনকে অসম্মানের অভিযোগ! কী বললেন অরিন্দম শীল?

কাঠগড়ায় বছর দুয়েক আগের এক সিনেমা। সুরূপা গুহ হত্যাকাণ্ডের অবলম্বনে ফ্রাইডে ওটিটি অ্যাপের জন্য ‘উনিশে এপ্রিল’ নামে একটি ছবি তৈরি করেছিলেন অরিন্দম শীল। সেই সিনেমার বিরুদ্ধেই প্রবাদপ্রতীম পরিচালক তথা অভিনেত্রী অপর্ণা সেনকে অসম্মানের অভিযোগ উঠল! বছর দুয়েক আগের এক ছবি নিয়ে বর্তমানে কেন এত হইচই? সেই বিষয়টি স্পষ্ট না হলেও এহেন কদর্য অভিযোগ কিন্তু নজর এড়ায়নি নাট্যব্যক্তিত্ব সোহাগ সেনের। মঙ্গলবার সেই প্রেক্ষিতেই সোশাল মিডিয়ায় সরব হন প্রবীণ অভিনেত্রী। অরিন্দম শীল পরিচালিত সিনেমায় অপর্ণা সেনের চরিত্র হননের যে অভিযোগ উঠেছে, সেই বিষয়টি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি। সোহাগ সেনের মন্তব্য, ‘কে বা কারা এহেন বিষোদগারে লিপ্ত হয়েছেন জানা নেই, কিন্তু বিষয়টি মোটেই সমর্থনযোগ্য নয়।’

“ইন্দ্রনাথ ও অপর্ণার মধ্যে সৌজন্যমূলক সম্পর্কই ছিল বরাবর। দয়া করে এমন বিষোদগার ছড়ানো বন্ধ করুন। পরিবর্তে আরও গঠনমূলক ও ইতিবাচক কাজ করুন।…”

সোহাগ সেনের পোস্টে উল্লেখ, “খবর পেলাম যে, পরিচালক অরিন্দম শীল নাকি সুরূপা গুহর আত্মহত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি সিনেমা তৈরি করেছেন। যেখানে অপর্ণা সেনের জড়িত থাকার ইঙ্গিত রয়েছে। আমি অরিন্দমের সাথে কথা বললাম। তিনি বেশ অবাকই হলেন। এবং জানালেন যে, প্রায় দু’বছর আগে তিনি ‘উনিশে এপ্রিল’ নামে একটি কাল্পনিক থ্রিলার ছবি তৈরি করেছিলেন বটে। সেই ছবিটি একটি আত্মহত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত, কিন্তু তাতে অপর্ণা সেনের মতো কোনও চরিত্র ছিল না।” পরিচালকের সঙ্গে কথা বলে অপর্ণা সেন ঘনিষ্ঠ ‘সিনিয়র’ অভিনেত্রী এও জানান যে, “যে মানুষটির প্রতি অরিন্দম শীলের অগাধ শ্রদ্ধা রয়েছে, তাঁকে কখনওই ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হেয় বা কলঙ্কিত তিনি করবেন না। এই ছবিটি ‘ফ্রাইডে’ নামক একটি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তিও পেয়েছিল। কিন্তু সেসময়ে এই সিনেমা নিয়ে কোনওপ্রকার নেতিবাচক বা আপত্তিকর সমালোচনা শোনা যায়নি। তাই এই গুজবটি কোথা থেকে ছড়াল, সে সম্পর্কে আমার বিন্দুমাত্র ধারণা নেই। তবে অপর্ণার (Aparna Sen) চরিত্র নিয়ে বিষোদগার করা হচ্ছে, তাতে এই দাবি অনুঘটকের মতো কাজ করেছে। যেখানে সত্যের লেশমাত্র নেই, এমন সব নেতিবাচক গল্প ফেঁদে বসেছে এরা। তবে আমার মতে, সাধারণ মানুষের এহেন কদর্য ও নোংরা চর্চায় মেতে ওঠার এই সামগ্রিক প্রবণতা কোনওভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।”

Advertisement
Controversy over Aparna Sen insult in Arindam Sil’s film ‘Unishe April’
অপর্ণা সেন, অরিন্দম শীল। ছবি- সংগৃহীত

১৯৭৬ সালে দক্ষিণ কলকাতার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের গৃহবধূ সুরূপার মৃত্যু তৎকালীন শহরবাসীকে নাড়া দিয়েছিল। তদন্তে নেমে পুলিশ সুরূপার স্বামী ইন্দ্রনাথ গুহকে গ্রেফতার করে। শোনা যায়, সেসময়ে বন্ধু হিসেবে অপর্ণা সেনকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল পুলিশ। বছর দুয়েক আগে সেই সুরূপা-কাণ্ডই অরিন্দমের ফ্রেমে ফুটে ওঠে। তবে আচমকাই কে বা কারা অপর্ণা সেনের চরিত্র হননের অভিযোগ এনেছেন? সেটা সোহাগ সেনের পোস্টে স্পষ্ট নয়। তবে সবরকম ধোঁয়াশা সরিয়ে তিনি সাফ জানিয়েছেন, “সুরূপার স্বামী ইন্দ্রনাথ গুহকে আমি ছোটবেলা থেকেই চিনি। তিনি ছিলেন আমার ভাই সঞ্জয় সেনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু। সঞ্জয় পরবর্তীকালে অপর্ণাকে বিয়ে করেন। ইন্দ্রনাথ সর্বদা অপর্ণাকে তাঁর বন্ধুর স্ত্রী হিসেবেই দেখতেন এবং সেইভাবেই তাঁর সাথে আচরণ করতেন। ইন্দ্রনাথ ও অপর্ণার মধ্যে সৌজন্যমূলক সম্পর্কই ছিল বরাবর। দয়া করে এমন বিষোদগার ছড়ানো বন্ধ করুন। পরিবর্তে আরও গঠনমূলক ও ইতিবাচক কাজ করুন।”

“ছবিটির প্রযোজক কিংবা আমি- আমরা কেউই এমন কোনও চরিত্র সৃষ্টির কথা কখনও ভাবিনি, যা রিনাদিকে কলঙ্কিত করতে পারে। এমনকী দু’বছর আগে যখন আমি ছবিটি তৈরি করছিলাম, তখনও ঠিক একই কথা বলেছিলাম।…” 

সোহাগ সেনের অভিযোগের তীর যদিও অরিন্দম শীলের উদ্দেশে নয়, তবে এহেন পোস্টের পরই অনেকে কৌতূহলী হয়ে উঠেছেন। সেই প্রেক্ষিতেই সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল-এর তরফে যোগাযোগ করা হয় অরিন্দম শীলের তরফে। পরিচালকও সোহাগ সেনের সঙ্গে একমত। অরিন্দম জানালেন, “‘উনিশে এপ্রিল’ সুরূপা গুহর মৃত্যুর ঘটনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ছবিটির প্রযোজক কিংবা আমি- আমরা কেউই এমন কোনও চরিত্র সৃষ্টির কথা কখনও ভাবিনি, যা রিনাদিকে কলঙ্কিত করতে পারে। এমনকী দু’বছর আগে যখন আমি ছবিটি তৈরি করছিলাম, তখনও ঠিক একই কথা বলেছিলাম। রিনাদির প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মান রয়েছে। এ বিষয়ে যে কোনওরকম বিরূপ মন্তব্য বা ট্রোলিং অত্যন্ত দুঃখজনক এবং অশালীন!”

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.