BREAKING NEWS

৭ আশ্বিন  ১৪২৭  শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

জাগতিক জগতের মায়া কাটিয়ে মৃত্যুলোকে পাড়ি দিল বাঙালির ‘বগলা’

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: December 25, 2017 3:02 am|    Updated: September 18, 2019 2:16 pm

An Images

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: অক্টোবর থেকে ভুগছিলেন। নিজের বাড়িতেই পড়ে গিয়েছিলেন। ভর্তি করা হয়েছিল হাসপাতালে। কিডনির সমস্যার কারণে তারপর আর বাড়ি ফিরতে পারেননি। বড়দিনের ভোরে এল দুঃসংবাদ। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন বাংলার ‘বগলা’। প্রয়াত অভিনেতা পার্থ মুখোপাধ্যায়।

ছোটবেলাতেই অভিনয়ের হাতেখড়ি। নিজের ‘মা’ ছবির জন্য শিশু শিল্পী খুঁজছিলেন পরিচালক চিত্ত বসু। খোঁজ শেষ হল পার্থকে দেখার পর। ১৯৫৬ সালেই শুরু হয়ে গেল ছোট্ট পার্থর অভিনয় যাত্রা। তবে পরিচিতি তাঁকে এনে দিয়েছিল তপন সিনহার ‘অতিথি’। ১৯৬৬ সালের সে সিনেমা কেবল বাঙালি দর্শকের কাছেই তাঁর পরিচিতি বাড়ায়নি পৌঁছে দিয়েছিল ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের আসরে। একটুর জন্য সেরা অভিনেতার শিরোপা হাতছাড়া হয় তাঁর। তবে পেয়েছিলেন জাতীয় পুরস্কার।

তবে পার্থর দৌড় সেখানে থেমে থাকেনি। ৬৭’ সালেই আসে ‘বালিকা বধূ’। হিন্দিতেও তৈরি হয়েছিল সে সিনেমা। তবে বাংলার ‘বালিকা বধূ’ মানেই পার্থ-মৌসুমির অমর জুটি। তরুণ মজুমদারের এই সিনেমার মাধ্যমেই সিনে জগতে প্রবেশ করেছিলেন মৌসুমি।

91031

‘ধন্যি মেয়ে’কে সামলানো একমাত্র তাঁর পক্ষেই সম্ভব ছিল। উত্তম কুমারের ভাই বগলার সেই ড্রিবল সব খেলার সেরা ফুটবলকে বাঙালির জীবনে অন্যতম অঙ্গ করে তুলেছিল। শিল্ড ফিরিয়ে নিজের মনসাকে সসম্মানে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। উত্তম কুমারের একাধিক ছবিতে তিনি ছেলের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। এমনকী ফরিয়াদ ছবিতে সুচিত্রা সেনের ছেলের চরিত্রে তাঁর  মন্ত্রমুগ্ধ করা অভিনয় এখনও অনুরাগীদের মন ভাল করে দেয়। এই কৃতী শিল্পীর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ চলচ্চিত্র জগৎ। ব্যক্তিগত জীবনেও পার্থ মুখোপাধ্যায় অত্যন্ত সজ্জন হিসাবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে বাসভবন কারনানি ম্যানসনে। সেখানে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়।

এরপর একের পর এক সিনেমা করেছেন। ‘অগ্নিশ্বর’, ‘অমর পৃথিবী’, ‘বাঘবন্দি খেলা’ ‘গল্প হলেও সত্যি’র মতো সিনেমা রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। শুধু অভিনয় নয় ভাল গানও গাইতেন পার্থ। বিয়ে করেছিলেন সংগীত পরিচালক অসীমা মুখোপাধ্যায়কে। মৃত্যুকালে অভিনেতার বয়স হয়েছিল ৭০। তবে বাঙালির তাঁকে মনে রাখবে বয়ঃসন্ধির সেই মিষ্টি ছেলেটা হিসেবেই, যে সাদাকালো পর্দাকেও করে তুলেছিল জীবন্ত, রঙিন। হাসি ফুটিয়েছিল আট থেকে আশি সকলের মুখে।

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement