শুভময় মণ্ডল: ১৯৭০ সালের ১৭ মার্চ। দুই ভাইয়ের রক্তে ভেসে গিয়েছিল বর্ধমানের সাঁইবাড়ি। রাজনৈতিক হিংসার চরমতম নিদর্শন দেখে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল গোটা এলাকা। সেদিনের সেই ঘটনা আজও তাড়া করে বেড়ায় বর্ধমানের মানুষকে। আজও ঘটনার বীভৎসতা মানুষের মন থেকে মুছে যায়নি। ৫০ বছর পর সেই ঘটনাই উঠে আসছে পর্দায়। সাঁইবাড়ি হত্যাকাণ্ড নিয়ে ডক্যু-ফিচার বানিয়েছেন বিজেপি নেত্রী সংঘমিত্রা চৌধুরি।

আদতে বিজেপির মহিলা মোর্চার নেত্রী সংঘমিত্রা চৌধুরি একজন ফিল্মমেকারও। যদিও এই পরিচয়টি থাকে অন্তরালেই। রাজনীতির ময়দান তাঁর শিল্পীসত্তার সঙ্গে খুব একটা পরিচিত নয়। লোকে তাঁকে দাপুটে নেত্রী হিসেবেই চেনে। কিন্তু নিজের রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতিফলন সংঘমিত্রা ঘটান সেলুলয়েডে। অবশ্য শুধু মতাদর্শ নয়, বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনাও তুলে ধরে তাঁর ক্যামেরা। এর আগেও বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয় পর্দায় তুলে ধরেছেন তিনি। সাঁইবাড়ি গণহত্যার পর আনন্দমার্গী হত্যা, মরিচঝাঁপি-সহ একাধিক বিষয় অবলম্বনে ছবি রয়েছে তাঁর পাইপলাইনে।

[ আরও পড়ুন: শুটিং বাতিল করে দেশে ফিরলেন মিমি-জিৎ, ১৪ দিন আইসোলেশনে অভিনেত্রী ]
১৯৭০ সালের ১৭ মার্চ হামলা হয়েছিল সাঁইবাড়িতে। খুন হয়েছিলেন দুই ভাই প্রণব সাঁই ও মলয় সাইঁ। তাঁরা সকলেই কংগ্রেসের সক্রিয় নেতা-কর্মী ছিলেন। দুই ভাইয়ের রক্তমাখা ভাত সেদিন মায়ের মুখে তুলে দিয়েছিল হত্যাকারীরা। চোখের সামনে ছেলেদের মৃত্যু আর তাঁদের রক্তে লাল হওয়া অন্ন চোখে ভাসত মায়ের। বেশিদিন বাঁচানো যায়নি তাঁকে। ঘটনার কিছুদিন পর হাসপাতালেই মারা যান তিনি। সেদিন প্রণব সাঁই ও মলয় সাইঁয়ের সঙ্গে দুষ্কৃতীরা খুন করেছিল এই পরিবারের ঘনিষ্ঠ জীতেন রায়কেও। অভিযোগ, সিপিএম মিছিল করে এসে এই গণহত্যা চালিয়েছিল। নাম জড়িয়েছিল প্রয়াত সিপিএম নেতা নিরুপম সেনের।

সেদিনের সেই হত্যাকাণ্ডের পর পাঁচ দশক অতিক্রান্ত। সময়ের সাথে ফিকে হয়ে গিয়েছে সাঁইবাড়ির দালান ও মেঝের রক্ত। কিন্তু বাড়ির প্রতিটি সদস্য আজও সেদিনের ঘটনার কথায় আতঙ্কিত হয়ে ওঠেন। নিজের ছবিতে এসবই তুলে ধরেছেন সংঘমিত্রা চৌধুরি। তিনি জানিয়েছেন, ঘটনার বিস্তারিত জানতে বর্ধমান গিয়েছিলেন তিনি। সেই হত্যাকাণ্ডের সাক্ষ্য এখনও বহন করছে সাঁইবাড়ি। সেদিনের সেই ঘটনা চোখের সামনে দেখেছিলেন বিজয় সাঁই। তখন তিনি অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। বয়সের ভারে তিনি এখন নুব্জ। কিন্তু ভয়াবহতা এখনও তাঁর চোখেমুখে। তাঁর জবানবন্দিতেই ডক্যু-ফিচারটি দেখানো হবে। তাঁর বলা ঘটনাকেই নাট্যরূপ দিয়েছেন সংঘমিত্রা।

[ আরও পড়ুন: সমস্ত প্রেক্ষাগৃহ বন্ধের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর, কতটা মানছেন হল মালিকেরা? ]
সংঘমিত্রা জানিয়েছেন, ঘটনার ৫০ বছর পর সেই বীভৎসতা এখনও ম্লান হয়নি। স্বার্থসিদ্ধির জন্য রাজনীতি যে কতটা নিচে নামতে পারে জীবন্ত নিদর্শন সাঁইবাড়ি হত্যাকাণ্ড। ছবির শুটিং প্রায় শেষ। এখন করোনার আতঙ্কের জেরে থমকে গিয়েছে বাকি কাজ। সুরক্ষিত ও সতর্ক থাকতে পোস্ট প্রোডাকশন বন্ধ রেখেছে তাঁর টিম। দেশের পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হলেই আবার কাজ শুরু হবে। তারপর দর্শক সেলুলয়েডে দেখতে পাবে বছর পঞ্চাশেক আগে ঠিক কী ঘটেছিল সাঁইবাড়িতে। কেন এখনও সেই ঘটনার নির্মমতা তাড়া করে বেড়ার বাড়ির সদস্যদের? তাঁর ক্যামেরায় উঠে আসবে, ৫০ বছর আগের এক নগ্ন ইতিহাসের কথা। যা স্মৃতিতে ধারণ করে আজও নিথর হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে বর্ধমানের সাঁইবাড়ি।
সর্বশেষ খবর
-
কিমের দেশে জিনপিং! ইরান-ইউক্রেনে আমেরিকার বিরুদ্ধে ময়দানে নামছে চিন-কোরিয়া?
-
পন্থকে ‘সেন্সার’, তিন নম্বরে কে? আফগান টেস্টের আগে দল নিয়ে ইঙ্গিত গম্ভীরের
-
বিদেশে ঘুরতে গিয়েই ফের কাছাকাছি শাকিব-বুবলি, তৃতীয়বার বাবা হলেন সুপারস্টার! পুত্র না কন্যা এল ঘরে?
-
ব্যান কালচারের হোতা! ‘ইন্ড্রাস্টিকে বরবাদ করেছেন’, স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেপ্তারিতে মুখ খুললেন লকেট
-
কোটি টাকা নিয়েও অভিনয় করেননি! এবার সোহমের বিরুদ্ধে এফআইআর চারু মার্কেট থানায়