১২ আষাঢ়  ১৪২৬  বৃহস্পতিবার ২৭ জুন ২০১৯ 

Menu Logo বিলেতে বিশ্বযুদ্ধ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

মধ্য মে-র হাহাকার করা গরমে চেকড হ্যান্ডলুমের হুডখোলা জ্যাকেট আর ফেডেড জিনসে হোটেলের এসি রুমে অজয় দেবগণ এসে বসলেন ইন্টারভিউ দেবেন বলে। সোফায় বসে হাতে বানানো সরু সিগারেটের মুখে লাইটার জ্বালিয়ে কথা বলা শুরু করলেন ‘পপকর্ন’-এর সঙ্গে।মুম্বইয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বললেন  তপন বকসি৷ 

অন্য অনেক নায়কের বেলায় বয়সের সঙ্গে ইমেজ ধরে রাখতে গিয়ে যে সমস্যা হয় সেটা আপনার বেলায় তেমন দেখা যাচ্ছে না। তার কারণ আপনি অ্যাকশন নির্ভর ছবির নায়ক। তাই কি?
আমি জানি না আমি অ্যাকশন নির্ভর ছবি করি বলেই ইমেজ ধরে রাখতে পেরেছি বা পারছি কি না। অ্যাকশনের বাইরেও তো ছবি করেছি বা করছি। ‘গোলমাল’ সিরিজ তো কমেডি। তাছাড়াও ‘দৃশ্যম’ করেছি। এছাড়া এই মুহূর্তে যে ছবিটা রিলিজ করছে ‘দে দে প্যায়ার দে’, এটাও একটা রোমান্টিক কমেডি। আমি বারবার কোনও সিনেমার চিত্রনাট্য, পরিচালনার ওপর জোর দিতে চেয়েছি। ভরসা করেছি। তা সে অ্যাকশনই হোক কিংবা অন্য কোনও জনার।

তার মানে আপনার ছবি নির্বাচনে আপনি এই তিনটে জিনিসের ওপরেই ভরসা করেন বেশি?
প্রথম থেকে আজ পর্যন্ত। আপনি মন দিয়ে ভাল করে একটা চিত্রনাট্য যদি লিখতে পারেন আর ধৈর্যশীল পরিচালনায় তাকে যদি এগজিকিউট করতে পারেন, বাকিটা দর্শকদের ওপর ছেড়ে দিন। দেখবেন দর্শক সেই ছবিকে ঠিক ভালবাসবে। এটা আমার বিশ্বাস।

এই যে নতুন ছবি ‘দে দে প্যায়ার দে’, এখানে এক অসমবয়সি প্রেমের কথা বলা হয়েছে। পঞ্চাশ বছরের এক পুরুষ ২৫ বছরের মেয়ের প্রেমে পড়ছেন৷ এ ধরনের চরিত্র করতে গিয়ে কি আপনার নিজের বয়স প্রকাশ্যে এসে পড়ার জন্য কোনও অস্বস্তি হয়?
না। হয় না। আমি চারবছর আগে যখন ‘দৃশ্যম’-এ একজন কিশোরী মেয়ের বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছি, তখন আমার বয়স ৪৫-৪৬ দেখানো হয়েছে। এবং আমি সত্যিই তখন সেই বয়সেরই ছিলাম। সেই এক্সপোজার নিয়ে আমার সে দিনও কোনও অস্বস্তি হয়নি। কিংবা ধরুন তারও আগে ২০০৮ সালে যখন আমি ‘ইউ, মি অউর হাম’ করেছি, তখনও হয়নি। তাছাড়া বয়সটা হল একটা মাইন্ডসেট। আমি, আপনি, আমরা মিলে তার একটা সংজ্ঞা বেঁধে দিই। ঈশ্বর তো বলেননি যে এই বয়সে এসে তুমি এটা এটা করবে। এটা এটা করবে না। আপনি যদি নিজেকে ফিট রেখে কাজ করে যেতে পারেন, সেটাই বড় কথা।

[ আরও পড়ুন: দেশের প্রথম সিরিয়াল কিলারকে নিয়ে ওয়েব সিরিজ, প্রধান চরিত্রে জয়া]

বয়স নিয়ে অস্বস্তিতে থাকা কিংবা কোনও কমপ্লেক্সে ভোগার পক্ষপাতী আপনি নন?
একেবারেই নয়। গুগল ইঞ্জিন সার্চে তো আমার বয়স, আমার জন্মদিন, অক্ষয়ের বয়স, তাঁর জন্মদিন এসবই আপনি পেয়ে যাচ্ছেন। লুকনোর আছেটা কী? তাছাড়া আমাদের প্রত্যেক জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়ে এত গ্রিটিংস আসে, তাতে কি বয়স লুকনোর আদৌ কোনও সুযোগ থাকে? তাই যদি না থাকে, দেন হোয়াট ইজ রং ইন প্লেয়িং ইট?

আপনার নতুন ছবিতে আপনি আপনার স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও একস্ট্রা ম্যারিটাল অ্যাফেয়ারে জড়িয়ে পড়ছেন, এরকম কোনও ঘটনা আপনার বাস্তব জীবনে এসেছে?
না। আসেনি। তবে আপনি যখন ম্যারিটাল লাইফ কাটাচ্ছেন, সেই দীর্ঘ জীবনযাপনে কখনও কখনও সামান্য সমস্যা তো যে কোনও পরিবার বা কাপলসের মধ্যে এসে থাকে। আর তাকে জয় করতে আধঘণ্টা থেকে পঁয়তাল্লিশ মিনিট সময় যথেষ্ট। নিজেদের ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়ে নিতে কতটা সময় লাগে, যদি সত্যি  ভালবাসা থাকে?

দাম্পত্যে অনেক সময়েই যে প্রথম শর্ত বা আবেগ থাকে যে তোমাকে ছাড়া আমি অন্যকিছু ভাবতে পারি না বা কল্পনাও করতে পারি না, সেই অনুভূতিটা যখন পরিবর্তিত পরিবেশে এসে কখনও ধাক্কা খায়, তার একটা প্রতিক্রিয়া হয় বইকি। তাকে কীভাবে ফেস করেছেন আপনি?
এরকম প্রতিক্রিয়া আসতেই পারে। এই পরিবর্তিত পরিবেশে আমরা তখন কেমন বিহেভ করি, সেটা নিয়েই এই নতুন সিনেমা। আরে মানুষে মানুষে ভুল বোঝাবুঝি তো ছেড়ে দিন, জানোয়ারে জানোয়ারেও ভুল বোঝাবুঝি হয়, আবার তা ভালবাসায় এসে মিটে যায়। একটা কথা মনে পড়ল। আমার বাংলোতে আমি দুটো কুকুর পুষেছিলাম। তার একটা মেল। আর একটা ফিমেল। ওরা দু’জন দু’জনের সঙ্গে ঝগড়া করত। আবার মিলেমিশেও থাকত। কিছুদিন আগে ফিমেল পার্টনারটা হঠাৎ মারা গেল। মেল পার্টনারটাকে দেখলাম তারপর আটদিন কোনও খাবারই খেল না। তাহলে বুঝতে পারলেন?

আপনি অভিনেতা হিসেবে অনেক রকম জনারে কাজ করেছেন। এর মধ্যে আপনার প্রিয় চরিত্র কোনটা?
অভিনেতাদের কোনও প্রিয় জনার হয় না। যে কোনও চরিত্রে সে একবার কমিট করে, তার কাছে সেটাই প্রিয়। আজ পর্যন্ত আমি যে চরিত্রগুলোয় অভিনয় করেছি, সেগুলো সবই আমার কাছে সমান প্রিয়, গুরুত্বপূর্ণ। হয়তো সেই চরিত্র বা ছবি কখনও কখনও দর্শক ভালভাবে নেয়নি। ব্যবসা হয়নি। মার খেয়েছে। কিন্তু তা বলে তা অভিনেতার কাছে খারাপ হয়ে যেতে পারে না। একটা ব্যবসায়িক ভাবে অসফল ছবির চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে আমি যে মেহনত করি, একটা সফল ছবির চরিত্রে সেই একই মেহনত করি। মেহনত বা মন দিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে কোনও ভেদাভেদ হয় না।

[ আরও পড়ুন: ‘অ্যাভেঞ্জার্স’ ছবির সঙ্গে তুলনা, সমালোচনার শিকার ‘স্টুডেন্ট অফ দ্য ইয়ার ২’-এর অভিনেতা]

অনেকেই বলেন, আপনার অনেক সহকর্মীরাও বলেন শুটিংয়ে প্র‌্যাঙ্ক করার বেলায় অজয়ের জুড়ি নেই। সত্যি?
ধুর। আমি তেমন কিছু প্র‌্যাঙ্ক করি না। ওরকম মজা বা রসিকতা সবাই করে থাকেন কমবেশি।

আপনার এই ছবির সহশিল্পী বা আপনার অনেক ছবির সহশিল্পী তব্বু বলছিলেন আপনার কথা। তব্বুর সঙ্গে আপনার কেমিস্ট্রি সবসময়েই ভাল। কী করে হল এটা?
আমি আর তব্বু খুব ভাল বন্ধু। অনেকদিন থেকে একসঙ্গে অভিনয়ে রয়েছি। দু’জনের বোঝাপড়া ভাল। এই নতুন ছবির স্ক্রিপ্ট শুনেই আমার স্ত্রীর চরিত্রে তব্বুর কথা মনে হল। আমি রেকমেন্ড করিনি। কিন্তু প্রযোজক, পরিচালকদের তব্বুর কথা বললাম। বেশ স্ট্রং ক্যারেক্টার। খুব ভাল চরিত্র। তাছাড়া আমার সঙ্গে তব্বু আর যে কেমিস্ট্রির ইঙ্গিত করতে চাইছেন সেটা আপনাদের ব্যাপার। আপনারা যেমন ইচ্ছা ব্যাখ্যা করতে পারেন। (হাসি)

দু’টো জিনিসকে ঠিক কীভাবে মেলানো যায় বলুন তো? আপনি অজয় দেবগন আপাতগম্ভীর, অ্যাকশন সমৃদ্ধ সিরিয়াস চরিত্রে অভিনয় করেন। আবার হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে সবচেয়ে বড় প্র‌্যাঙ্কস্টার। এটা একটা। আর আপনি শুটিংয়ে সবচেয়ে বেশি মজা করেন, এটা আরেকটা। এই দুটোকে ঠিক কীভাবে মেলাব বলতে পারেন?
গম্ভীর বা সিরিয়াস মানুষ মানে সে রসিক নয়, এটা কোনও কথা হল? হ্যাঁ, আমি শুটিংয়ে ততটাই হালকা মেজাজে থাকি, যতটা আপনারা আমাকে বাইরে থেকে গম্ভীর বা কঠিন ভাবেন। আর আমার কোনও হ্যাংওভার থাকে না। হয় না। আমি যে চরিত্রটা প্লে করছি, যখন করছি, ততক্ষণ আমি সেই চরিত্র হয়ে থাকি। যেই শট নেওয়া হয়ে যায়, আমি আবার অজয় দেবগন হয়ে যাই। আমি খুব তাড়াতাড়ি নিজেকে ডিসকানেক্ট করতে পারি। সারাক্ষণ বয়ে বেড়াই না। বাড়িতেও নিয়ে আসি না। ‘বাজিরাও সিংঘম’-এর মতো চরিত্রে ধরুন আমি সামনের লোকটাকে বেমক্কা মারছি। শট টেক হচ্ছে। সেটা হাত দিয়েই হোক, বেল্ট দিয়েই হোক বা অন্যকিছু। ক্যামেরা অফ হতেই আমি হয়তো হাসিতে ফেটে পড়লাম। এরকম প্রায়ই হয় আমার বেলায়। দর্শক সেটা তো দেখতে পাচ্ছে না। (হাসি)

ক্যানসারে আক্রান্ত আপনার এক ভক্ত আবেদন করেছেন, আপনি যেন গুটখার বিজ্ঞাপন না করেন। সেই আবেদন শুনেছেন?
আমি কোনও গুটখার বিজ্ঞাপন করছি না। আগামিদিনে এ ব্যাপারে আমি সতর্ক থাকব। কিন্তু আপনি যদি আমার কনট্যাক্ট পেপার দেখেন, দেখবেন তাতে পরিষ্কার লেখা রয়েছে আমি এলাচের বিজ্ঞাপনের জন্য চুক্তিবদ্ধ। কোনও গুটখার জন্য নয়।

[ আরও পড়ুন: খিদিরপুর বসতির চালচিত্র হলিউডি ছবিতে, বিখ্যাত পরিচালকের ফ্রেমে শহরের ‘স্লামগার্ল’]

কিছুদিন আগে আপনি মেয়ে নিশার পোশাক পরা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোল দেখে বেশ বিরক্ত হয়েছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়ার এই ট্রোলিং আপনাকে সত্যি কতটা প্রভাবিত করে?
কিছু মানুষ আছেন, যাঁদের অন্য কোনও কাজ নেই তাঁরা বেশিরভাগ সময়ে কাণ্ডজ্ঞানহীন ট্রোল করেন। তাঁদের খুব একটা স্বাভাবিক বলে মনে হয় না। সবাই করেন না। যাঁরা করেন, তাঁদের এড়িয়ে যাওয়াই ভাল। অযথা গুরুত্ব দেওয়ার দরকার নেই বলে মনে হয় আমার।

আগামিদিনে নতুন ছবি কী কী করছেন?
একটা ‘তানাজি’। পিরিয়ড ফিল্ম। জানুয়ারিতে রিলিজ করছে। দুই, বনি কাপুরের প্রযোজনায় ফুটবল প্লেয়ারদের উপর একটা ছবি। তিন নম্বর, আর একটা জুবিলিয়ান হাউসের ওপর। তারপরেই আমি আবার তৃতীয় পরিচালনায় ফিরছি। ২০০৮-য় ‘ইউ মি অউর হাম’ আর ২০১৬-য় ‘শিবায়’র পর।

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং